AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Supreme Court on CEC Gyanesh Kumar: জ্ঞানেশ কুমারকে সাসপেন্ড করল না সুপ্রিম কোর্ট, কেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে সহজে সরানো যায় না?

Supreme Court: আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ভোটার তালিকার সংশোধন এবং ফর্ম ৬-এ পরিবর্তন আনার বিষয়টিও তুলে ধরেন। অন্য একটি আবেদনে প্রবীণ আইনজীবী বিকাশ সিং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অবিলম্বে সাসপেন্ড করার দাবি জানান।

Supreme Court on CEC Gyanesh Kumar: জ্ঞানেশ কুমারকে সাসপেন্ড করল না সুপ্রিম কোর্ট, কেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে সহজে সরানো যায় না?
কী কী সুরক্ষাকবচ পান মুখ্য নির্বাচন কমিশনার?Image Credit: PTI
| Updated on: Oct 06, 2026 | 11:46 AM
Share

নয়া দিল্লি: সুপ্রিম কোর্টে জ্ঞানেশ কুমার (Gyanesh Kumar)  মামলায় বড় পর্যবেক্ষণ। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেছেন, “সর্বসম্মতি ক্রমে সিদ্ধান্ত না নেওয়া হলে, তা স্থগিত করা হতে পারে”। সংবিধান সংশোধন করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে বেনজির ক্ষমতা এবং রক্ষাকবচ (immunity) দেওয়ার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জের মামলায় নোটিস ইস্যু করেছে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। তবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে সাসপেন্ড করার অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ দেওয়ার আবেদন খারিজ করে দেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। কী সুরক্ষাকবচ পান মুখ্য নির্বাচন কমিশনার?

সুপ্রিম কোর্টে মামলা-

গতকাল সুপ্রিম কোর্টে নির্বাচন কমিশনের কাজ ও মুখ্য নির্বাচন কমিশানর জ্ঞানেশ কুমারের সাসপেনশনের দাবিতে মামলার শুনানি ছিল। মামলাকারীর অভিযোগ, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমার বাকি দুই নির্বাচন কমিশনারের সম্মতি ছাড়াই একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি. মোহনার বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। এই মামলাটিকে অন্য একটি আবেদনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। ওই আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, নির্বাচনী প্রক্রিয়া সংক্রান্ত ১৪টি সিদ্ধান্ত এককভাবে নিয়েছেন জ্ঞানেশ কুমার।

আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ভোটার তালিকার সংশোধন এবং ফর্ম ৬-এ পরিবর্তন আনার বিষয়টিও তুলে ধরেন। অন্য একটি আবেদনে প্রবীণ আইনজীবী বিকাশ সিং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অবিলম্বে সাসপেন্ড করার দাবি জানান। তাঁর যুক্তি, স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) বা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন নিয়ে আদালতে মামলা চলাকালীন এই প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়া উচিত নয়।

জ্ঞানেশ কুমারের সাসপেনশনের দাবি-

আইনজীবী বিকাশ সিং জ্ঞানেশ কুমারকে অবিলম্বে সাসপেন্ড করার আবেদন জানান। তিনি দাবি করেন, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের কাজকর্ম দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়া এবং নির্বাচন কমিশনের কার্যপদ্ধতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

শীর্ষ আদালতে তিনি বলেন, “আমাদের গণতন্ত্র অত্যন্ত শক্তিশালী। কিন্তু মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাজকর্ম গণতন্ত্রের মূল কাঠামোকেই বিপন্ন করছে।”

এই প্রসঙ্গে আইনজীবী বাকি দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশীর আপত্তির কথা উল্লেখ করেন। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর তদন্তমূলক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, ১০ মাসে নির্বাচন কমিশনের একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে দুই কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশী মোট ১৪ বার আনুষ্ঠানিকভাবে আপত্তি জানিয়েছিলেন।

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত  ওই মামলার পর্যবেক্ষণে বলেন, “সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নির্দেশ দিতে পারে না আদালত। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্যের সত্যতা আগে যাচাই করতে হবে”। এর জবাবে বিকাশ সিং বলেন, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত অভিযোগগুলি নির্বাচন কমিশনের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে অস্বীকার করা হয়নি।

এরপর বেঞ্চ জানায়, নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য শোনা হবে। সিদ্ধান্তগুলি সর্বসম্মতভাবে নেওয়া হয়েছিল, নাকি সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে—সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।

তবে অন্তর্বর্তীকালীন পদক্ষেপ হিসেবে জ্ঞানেশ কুমারকে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দেয়নি সুপ্রিম কোর্ট। বরং নির্বাচন কমিশন, জ্ঞানেশ কুমার এবং বাকি দুই নির্বাচন কমিশনারকে নোটিস পাঠানো হয়েছে।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ক্ষমতা ও রক্ষাকবচ-

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC)-র হাতে ভারতীয় সংবিধানের ৩২৪ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচনের তদারকি, পরিচালনা এবং নিয়ন্ত্রণের ব্যাপক ক্ষমতা রয়েছে। পাশাপাশি, তাঁকে পদ থেকে সরানোর ক্ষেত্রেও রয়েছে বিশেষ আইনি সুরক্ষা। নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া মেনে, সংসদে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাবের মাধ্যমেই একমাত্র তাঁকে পদ থেকে অপসারণ করা সম্ভব।

ক্ষমতা-

নির্বাচন পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ: সংবিধানের ৩২৪ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনের প্রধান হিসেবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার দেশের নির্বাচন পরিচালনা, তদারকি ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকেন। জাতীয় ও রাজ্যস্তরের নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

ভোটার তালিকা তৈরি ও সংশোধন: ভোটার তালিকা তৈরি করা, তাতে নতুন নাম তোলা এবং তালিকা সংশোধনের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) বা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়াও এর আওতায় পড়ে।

প্রশাসনিক ক্ষমতা: নির্বাচনের সময় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া, প্রয়োজন অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ সরকারি আধিকারিক ও পুলিশকর্তাদের বদলি বা সাসপেন্ড করার মতো পদক্ষেপ করা এবং আদর্শ নির্বাচনী আচরণবিধি কার্যকর করার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা রয়েছে।

 সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা: নির্বাচন কমিশন একটি বহু-সদস্যের সংস্থা। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পাশাপাশি অন্য নির্বাচন কমিশনাররাও এর সদস্য। তবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের একক ক্ষমতা কতটা, তা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের আইনি সুরক্ষা-

সংবিধান অনুযায়ী পদে থাকার সুরক্ষা: সংবিধানের ৩২৪(৫) নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রমাণিত অসদাচরণ বা অক্ষমতার মতো নির্দিষ্ট কারণ ছাড়া মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে পদ থেকে সরানো যায় না।

পদ থেকে অপসারণের বিশেষ প্রক্রিয়া: মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে পদ থেকে সরানোর প্রক্রিয়া সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির অপসারণের প্রক্রিয়ার মতোই কঠোর। এর জন্য সংসদের উভয় কক্ষে বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতার সমর্থন প্রয়োজন। অর্থাৎ, সাধারণ সিদ্ধান্তে তাঁকে পদ থেকে সরানো সম্ভব নয়।

সরকারি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আইনি সুরক্ষা: সরকারি ও আইনগত দায়িত্ব পালন করার সময় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার নির্দিষ্ট আইনি সুরক্ষার আওতায় থাকেন। সংশ্লিষ্ট আইনের ১৬ নম্বর ধারার মতো বিধানও এই প্রসঙ্গে উল্লেখ করা হয়। তবে এই সুরক্ষার অর্থ এই নয় যে, তাঁর সমস্ত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জ করা যাবে না। সুপ্রিম কোর্টে তাঁর সিদ্ধান্ত বা কাজকর্ম নিয়ে মামলা করা যেতে পারে।

Follow Us