
নয়া দিল্লি: স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক কি শুধুই টাকার উপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে থাকে? আদতে একজন মহিলা যখন বিয়ে করেন, তখন তিনি একটি সুরক্ষিত ও সম্মানজনক জীবনের আশা করেন। বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর স্ত্রীর সেই সম্মান বজায় রাখার দায়িত্ব স্বামীর। খোরপোষ সংক্রান্ত একটি মামলায় এমনই পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের।
কোনও যুক্তিতেই স্ত্রীর তথা প্রাক্তন স্ত্রীর দায়িত্ব স্বামী এড়াতে পারে না বলেই মন্তব্য ডিভিশন বেঞ্চের। বিচারপতি এসভিএন ভাট্টি ও বিচারপতি আর মহাদেবনের বেঞ্চে ছিল মামলার শুনানি।
এক মহিলার ডিভোর্সের পর পারিবারিক আদালতের নির্দেশে ১৫ হাজার টাকা খোরপোষ পাওয়ার ব্যবস্থা হয়। খোরপোষের পরিমাণ বাড়ানোর দাবিতে ওই মহিলা মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। সেখানে তাঁর আর্জি খারিজ করে দেওয়া হয়। এরপর তিনি সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানান। মহিলা দাবি করেছেন, তাঁর স্বামীর আয় মাসে ১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা।
এদিকে, স্বামীর বক্তব্য, তাঁর প্রাক্তন স্ত্রী যথেষ্ট শিক্ষিত, ফলে নিজের খরচ নিজেই চালাতে পারেন। সেই সঙ্গে ওই মহিলার বাবা-মাও পাশে আছেন বলে উল্লেখ করেছেন ওই ব্যক্তি। কিন্তু কোনও যুক্তি মানতে চায়নি সুপ্রিম কোর্ট।
ডিভিশন বেঞ্চ বলে, “বিয়ের অর্থ, এক আবেগের বাঁধন, পারস্পরিক সহযোগিতা। এটা কোনও টাকার সম্পর্ক নয়। এক সম্মানের জীবন আশা করেই বৈবাহিক জীবনে পা রাখেন মহিলারা। সেই বিয়ে ভেঙে গেলে স্বামীকে নিশ্চিত করতে হবে স্ত্রীর সম্মান যেন ক্ষুণ্ণ না হয়।” স্ত্রী শিক্ষিত বা স্ত্রী বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকেন, এমন কোনও যুক্তি খাটবে না বলে উল্লেখ করেছে আদালত। ১৫ হাজারের বদলে ৩০ হাজার টাকা খোরপোষ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।