Supreme Court: একমাস ধরে ছেলে মৃত্যুশয্যায়, ‘ট্রেনের টিকিটটা রেখে দেওয়া সম্ভব নয়’, রেলকে বুঝিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট
Supreme Court on Rail: দুর্ঘটনার পর যুবক এক মাসের বেশি সময় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এই পরিস্থিতিতে যাত্রীর পরিবারের পক্ষে রেলের টিকিটটি সংরক্ষণ করে রাখা অসম্ভব বলে পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের। হাইকোর্ট এই বিষয়গুলো বিবেচনা না করে শুধুমাত্র টিকিট না পাওয়ার বিষয়টিকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিয়েছিল।

নয়া দিল্লি: ট্রেন দুর্ঘটনায় যাত্রীর মৃত্যু হলে টিকিট দিলে এই টিকিট নেই বলে ক্ষতিপূরণের দাবি খারিজ করা যাবে না। রেল দুর্ঘটনা সংক্রান্ত মামলায় রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। একমাস ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর যে যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে, সেই যাত্রীর পরিবারের পক্ষে টিকিট রেখে দেওয়া সম্ভব নয় বলে স্পষ্ট বার্তা দিল সুপ্রিম কোর্ট।
সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছে যে, ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত বা আহত ব্যক্তির কাছে রেলের টিকিট না পাওয়া গেলে, সেই যুক্তিতে তাঁর ক্ষতিপূরণের দাবি বাতিল করা যাবে না। বিচারপতি উজ্জ্বল ভুঁইয়া এবং বিচারপতি অতুল এস চান্দরকরের বেঞ্চে ছিল মামলাটির শুনানি।
ঠিক কী ঘটেছিল
২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এক যুবক আহমেদাবাদ থেকে সুরাট যাওয়ার পথে ট্রেন থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি। এরপর দীর্ঘদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর ওই বছরের ৩১ অক্টোবর তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় মৃত যুবকের বাবা-মা রেল ক্লেমস ট্রাইব্যুনালের কাছে ক্ষতিপূরণের আবেদন জানান। ট্রাইব্যুনাল ২০২২ সালের ১৭ জুন রেলের আইন অনুযায়ী, ৮ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
কিন্তু পরবর্তীতে রেল গুজরাট হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়। আদালত সেই রায় বাতিল করে দেয়। হাইকোর্টের যুক্তি ছিল, মৃত যাত্রী যে সত্যিই ট্রেন থেকে পড়ে মারা গিয়েছেন, এমন কোনও প্রমাণ নেই। হাইকোর্টের এই নির্দেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন মৃত যাত্রীর বাবা ও মা।
সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ
এই মামলায় মৃত যুবকের বাবা আদালতে জানান যে তাঁর ছেলে টিকিট কেটেছিলেন। কিন্তু ঘটনার দিন বাকি সব জিনিসপত্রের সঙ্গে টিকিটটিও হারিয়ে যায়। যুবকের রুমাল, হাতঘড়ি, চিরুনি এবং ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা নগদ হারিয়ে যায় সেদিনই। রেলের সাক্ষীরাও স্বীকার করেছেন যে তাঁরা ওই যাত্রীর পকেটে ভালোভাবে তল্লাশি করে দেখেননি।
দুর্ঘটনার পর যুবক এক মাসের বেশি সময় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এই পরিস্থিতিতে যাত্রীর পরিবারের পক্ষে রেলের টিকিটটি সংরক্ষণ করে রাখা অসম্ভব বলে পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের। হাইকোর্ট এই বিষয়গুলো বিবেচনা না করে শুধুমাত্র টিকিট না পাওয়ার বিষয়টিকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিয়েছিল। সুপ্রিম কোর্ট ক্ষতিপূরণের নির্দেশই পুনরায় বহাল করেছে।
