AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Virtual Autism: শিশুর হাতে মোবাইল? আপনার অজান্তেই হতে পারে অটিজমের শিকার

Understanding Virtual Autism: আমাদের দেশে মা-বাবা বাচ্চাকে ভাল খাওয়ানোর চেষ্টা করেন। রাস্তার নোংরা, বাজে খাবার খেতে বারণ করেন। কিন্তু নিজেরা হাতে করে স্মার্টফোন তুলে দিয়ে বাচ্চাদের খাদের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন সেই বাবা মায়েরাই। মোবাইলের স্ক্রিন শুধু বাচ্চার চোখের ক্ষতি করছে না, সরাসরি প্রভাব ফেলছে মস্তিষ্কেও।

Virtual Autism: শিশুর হাতে মোবাইল? আপনার অজান্তেই হতে পারে অটিজমের শিকার
| Edited By: | Updated on: May 06, 2026 | 3:38 PM
Share

আপনার বাচ্চাও কি মোবাইল ফোন না দেখে খেতে চায় না? খাওয়ানোর জন্য আপনিও কি বাচ্চার হাতে মোবাইল দেওয়ার লোভ দেখান? তাহলে আপনি একজন অভিভাবক হিসাবে নিজের বাচ্চাকে বড় বিপদের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। শিশুকে ভোলানোর জন্য আপনি যে স্মার্টফোন তাদের হাতে দিচ্ছেন, সেটাই কিলার ডিভাইসের কাজ করছে। একথা আমরা বলছি না, বলছে দিল্লি AIIMS -এর বিশেষজ্ঞরা।

বাচ্চা খেতে চাইছে না। খাওয়ার সময় বায়না করছে। মুখ সরিয়ে নিচ্ছে। বাবা-মা তখন বাচ্চার সামনে মোবাইল ফোন ধরছেন। রঙ-বেরঙের নানা ভিডিও দেখিয়ে বাচ্চাকে ভোলানোর, খাওয়ানোর চেষ্টা করছে। বহু ভারতীয় বাড়িতেই এটা চেনা ছবি। কিন্তু দিল্লি AIMS-এর সাম্প্রতিকতম সমীক্ষা ভারতীয় অভিভাবকদের জন্য চরম দুঃসংবাদ বয়ে এনেছে! মোবাইলের রঙিন ভিডিও শিশুর ভবিষ্যৎকে ঠেলে দিচ্ছে গভীর অন্ধকারে। চিকিত্সকেরা বলেন, মোবাইল ফোনের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার শিশুদের ডিজিটাল অটিজমের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বাড়ির খুদে সদস্যটিকে এখন কেউ ঠাকুমার ঝুলি বা পঞ্চতন্ত্র শোনায় না। তার জায়গা নিয়েছে মোবাইল ফোন, ট্যাব বা টিভির রিমোট। বাচ্চা খেতে চাইছে না– হাতে মোবাইল দাও। বাচ্চা বিরক্ত করছে- হাতে মোবাইল দাও। বাচ্চা বায়না করছে, কাঁদছে- মোবাইল দাও। এটাই এখন বহু বাড়ির অলিখিত নিয়ম। কিন্তু এই প্রবণতা ধীরে ধীরে বাচ্চার স্বাভাবিক আচরণকে নষ্ট করে দিচ্ছে। তার মস্তিষ্ককে গ্রাস করছে ডিজিটাল অটিজম। দিল্লি AIMS-এর সাম্প্রতিকতম রিপোর্ট দেখলে অনেক বাবা মায়ের পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে যাবে। বাচ্চাদের হাতে মোবাইল ফোন দেওয়ার সঙ্গে সরাসরি অটিজমের যোগ উঠে এল দিল্লি AIIMS-এর রিপোর্টে।

কীভাবে বুঝবেন বাচ্চা অটিজমের শিকার?

১. চোখে চোখ রেখে কথা বলতে পারে না।

২. নাম ধরে ডাকলেও সাড়া দেয় না।

৩. কথা বলতে, শিখতে দেরি

৪. অস্থির আচরণ, এক জায়গায় বেশিক্ষণ না দাঁড়ানো

৫. রেগে গেলে হিতাহিত জ্ঞান হারায়

৬. আচমকাই আগ্রাসী, এই হাসছে, এই কাঁদছে

খেয়াল করে দেখুন তো, আপনার বাড়ির শিশুটি কি খেলনা নিয়ে খেলার বদলে খালি মোবাইল ফোন চাইছে? মোবাইলটি জোর করে কেড়ে নিলে কান্নাকাটি জুড়ে দিচ্ছে? অটিজমের জন্য আলাদা কোনও মেডিক্যাল পরীক্ষা সাধারণত হয় না। বাচ্চাদের আচরণ পর্যবেক্ষণ করে বিশেষজ্ঞরা এই সমস্যা ধরতে পারেন। AIIMS-এর চাইল্ড নিউরোলজি বিভাগের বিশেষজ্ঞ বক্তব্য,

১. শিশুদের অটিজমের জন্য দায়ী বেশি স্ক্রিন-টাইম

২. এক বছরের বাচ্চা যারা বেশি মোবাইল দেখেছে, তারা তিন বছর বয়সে অটিজমের শিকার

৩. বাচ্চা ছেলে ও মেয়ে – দুপক্ষের ক্ষেত্রেই একই পর্যবেক্ষণ চিকিৎসকদের।

৪. যত ছোট বাচ্চাকে মোবাইল দেওয়া হয়েছে, যত বেশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, ততই দ্রুত অটিজমের শিকার হয়েছে বাচ্চাটি।

এই তথ্যই উঠে এসেছে AIIMS-এর রিপোর্টে।

AIMS-এর দাওয়াই

১. শিশুদের স্ক্রিন টাইম কমাতেই হবে

২. ১৮ মাসের নিচে শিশুকে মোবাইল দেবেন-ই না

৩. ১৮ মাস থেকে ৬ বছরের বাচ্চাকে সর্বোচ্চ এক ঘণ্টা স্ক্রিন টাইম

৪. ৭ বছরের বড় বাচ্চাকে সর্বোচ্চ ২ ঘণ্টা

৫. শিশু যেন নিজে অনিয়ন্ত্রিত ভাবে মোবাইল ফোন হাতে না পায়

৬. শিশুদের সঙ্গে বাড়ির সদস্যদের কথা বলতে হবে, গল্প করতে হবে

বিশ্বের বহু দেশেই ছোটদের স্ক্রিন টাইম নিষিদ্ধ। আমাদের দেশে মা-বাবা বাচ্চাকে ভাল খাওয়ানোর চেষ্টা করেন। রাস্তার নোংরা, বাজে খাবার খেতে বারণ করেন। কিন্তু নিজেরা হাতে করে স্মার্টফোন তুলে দিয়ে বাচ্চাদের খাদের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন সেই বাবা মায়েরাই। মোবাইলের স্ক্রিন শুধু বাচ্চার চোখের ক্ষতি করছে না, সরাসরি প্রভাব ফেলছে মস্তিষ্কেও। AIMS-এর চাইল্ড নিউরোলজি বিভাগের বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, বাচ্চাদের প্রথম ১০০০ দিন খুব জরুরি ও সংবেদনশীল। এই সময়ই শিশুদের ব্রেন সবচেয়ে দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পায়। এই ১০০০ দিনেই এক শিশু তার বাবা মা, পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে চোখমুখের অভিব্যক্তি দেখে শেখে, স্বাদ বোঝে, গন্ধ পায়, আবেগের বহিঃপ্রকাশ করতে শেখে। এই গুরুত্বপূর্ণ সময়টা বাচ্চা মোবাইলে মগ্ন থাকলে অটিজমের মতো জটিল নিউরো-ডেভলপমেন্ট কন্ডিশনের শিকার হতে পারে। যা একজন শিশুর আচার-আচরণ, শেখার ক্ষমতা, কথাবার্তা-য় প্রভাব ফেলতে পারে। নিজের বাড়ির খুদে সদস্যের আচরণে অস্বাভাবিকত্ব দেখলেই দ্রুত শিশুরোগ বিশেষজ্ঞরা পরামর্শই নেবেন। কিন্তু তারও আগে বাড়ির ভিতরে চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে চলার চেষ্টা করুন। বাচ্চার হাতে মোবাইল ফোন দেবেন না। নিজেকে বাচ্চার সামনে রোল-মডেল করুন। নিজেও ফোন বারবার হাতে নেবেন না। বেডরুমকে নো-মোবাইল জোন করুন। বাচ্চা ‘বোর’ হোক। তবেই সে খেলনা, ছবি আঁকা, গল্প শোনা বা অন্য দিকে ঝুঁকবে। বাচ্চাকে পার্কে নিয়ে যান। আর একান্তই ফোন দিতে হলে তার সময় বেঁধে দিন। শিশুকে কিছুক্ষণের জন্য ভোলাতে তার হাতে মোবাইল ফোন দেবেন, নাকি তার ভবিষ্যৎকে দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষিত রাখবেন, সে সিদ্ধান্ত এবার আপনার হাতে।

Follow Us