
নয়াদিল্লি: ইরানের সঙ্গে আমেরিকা-ইজরায়েলের যুদ্ধ। হরমুজ প্রণালী বন্ধ। ফলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেল, LPG আমদানি বন্ধ। এই পরিস্থিতিতে মুম্বই, বেঙ্গালুরু এবং চেন্নাইয়ের হোটেল ও রেস্তোরাঁ মালিকারা বাণিজ্যিক গ্যাসের সংকটের কথা বলছেন। ঠিকমতো বাণিজ্যিক গ্যাসের সরবরাহ হচ্ছে না বলে তাঁদের দাবি। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বাণিজ্যিক গ্যাসের সংকটের কথা উঠতেই বড় পদক্ষেপ করল নরেন্দ্র মোদী সরকার। তেল শোধনাগারগুলিকে LPG উৎপাদন বাড়াতে বলল। দেশে বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের সংকট নেই বলেও মঙ্গলবার জানিয়ে দিল কেন্দ্র।
কেন্দ্রীয় সরকার সূত্রে খবর, কেন্দ্রের নির্দেশের পর তেল শোধনাগারগুলি এলপিজি উৎপাদন প্রায় ১০ শতাংশ বাড়িয়েছে। ওই সূত্র বলছে, “সাময়িক একটা উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু, এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে।” সব তেল শোধনাগারগুলি ১০০ শতাংশ কাজ করছে বলেও জানা গিয়েছে। যেসব দেশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেল, এলপিজি আমদানি করে, তাদের অনেকের চেয়ে ভারতের অবস্থা অনেক ভালো বলে মন্তব্য করছেন কেন্দ্রীয় আধিকারিকরা। অপরিশোধিত তেল, এলপিজি আমদানিতে যাতে কোনও ছেদ না পড়ে, তার জন্য ভারত একাধিক দেশের সঙ্গে নিরন্তর যোগাযোগ রেখে চলেছে। সরকারের তরফে সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় যেসব তথ্য ঘুরে বেড়াচ্ছে, সেগুলি যাচাই না করে কেউ যেন বিশ্বাস না করেন। ওই সব তথ্য অযথা আতঙ্ক তৈরি করে।
ইরানের সঙ্গে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যুদ্ধ বাধার পর গত শনিবার এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ানো হয়েছে। গৃহস্থের রান্নার গ্যাসের দাম ৬০ টাকা ও বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম ১১৫ টাকা বাড়ানো হয়েছে। আবার গৃহস্থের রান্নার গ্যাসের বুকিংয়ের ক্ষেত্রেও সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। একটি গ্যাস বুকিংয়ের ২৫ দিন পর দ্বিতীয় সিলিন্ডার বুকিং করা যাবে। তবে গৃহস্থের রান্নার গ্যাস জোগানে যাতে কোনও প্রভাব না পড়ে, তার জন্য সরকার সচেষ্ট বলে জানানো হয়েছে। সরকারি সূত্রে বলা হয়েছে, “এখনও কোনও সংকট নেই।”