Supreme Court on UGC Rules: ক্ষুদ্ধ Unreserved-পড়ুয়ারা, UGC-র বিধি নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত সুপ্রিম কোর্টের

Supreme Court News: সম্প্রতি তাঁর মা রাধিকা ভেমুলা দ্বারস্থ হয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্টে। ২০১২ সালের ইউজিসি অ্যান্টি ডিসক্রিমিনেশন রেগুলেশন কার্যকর হচ্ছে না — এই অভিযোগে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন তিনি। পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্ট ইউজিসিকে নতুন এবং কঠোর একটি বিধি তৈরির নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশ মেনেই তৈরি হয় গত ১৩ জানুয়ারির নির্দেশিকা।

Supreme Court on UGC Rules: ক্ষুদ্ধ Unreserved-পড়ুয়ারা, UGC-র বিধি নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত সুপ্রিম কোর্টের
দেশের শীর্ষ আদালতImage Credit source: Getty Image

|

Jan 29, 2026 | 2:17 PM

নয়াদিল্লি: বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুর কমিশন বা ইউজিসি-র ‘বিতর্কিত’ বিধিতে আপাতত ‘ফুলস্টপ’ বসাল দেশের শীর্ষ আদালত। কমিশন দ্বারা জারি বিধিকে অস্পষ্ট এবং অপব্যবহার করা হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট নির্দেশিকায় অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করল শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ। আদালতের পর্যবেক্ষণ, ‘এই নির্দেশিকা সমাজকে বিভক্ত করতে এবং নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে সক্ষম।’

কোথায় বিতর্ক?

গত ১৩ জানুয়ারি একটি নির্দেশিকা জারি করেন দেশের বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন বা ইউজিসি। তাতে বলা হয়, ২০১২ সালের জাতিভিত্তিক বৈষম্য বিরোধী নিয়মে সংশোধন করা হয়েছে। নতুন নিয়মে ‘কাস্ট বেসড ডিসক্রিমিনেশন’ বা জাতিগত বৈষম্যকে এমন বৈষম্য হিসাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, যা শুধুমাত্র তফসিলি জাতি (এসসি), তফসিলি উপজাতি (এসটি) এবং অন্যান্য় অনগ্রসর শ্রেণির (ওবিসি) অন্তর্ভুক্ত নাগরিকদের বিরুদ্ধে করা হয়। অর্থাৎ সাধারণ বা অসংরক্ষিত শ্রেণির পড়ুয়া এবং অধ্যাপকদের এই বৈষম্য এবং অভিযোগ দাখিল করার তালিকা থেকে বাদ দেয় কমিশন।

সুপ্রিম-নির্দেশে তৈরি নয়া নিয়ম

রোহিত ভেমুলা, একটা মৃত্যু, যা নাড়িয়ে দিয়েছিল গোটা দেশকে। একটা সুইসাইড নোট, কিন্তু তাতে ছিল না কোনও লাল দাগ। ছিল রাষ্ট্র-সমাজের জাঁতাকলে পরে তৈরি হওয়া যন্ত্রণার কথা। ছিল বৈষম্যের কথা। ২০১৬ সালে আত্মঘাতী হয়েছিলেন হায়দরাবাদের কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এই গবেষক। সম্প্রতি তাঁর মা রাধিকা ভেমুলা দ্বারস্থ হয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্টে। ২০১২ সালের ইউজিসি অ্যান্টি ডিসক্রিমিনেশন রেগুলেশন কার্যকর হচ্ছে না — এই অভিযোগে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন তিনি। পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্ট ইউজিসিকে নতুন এবং কঠোর একটি বিধি তৈরির নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশ মেনেই তৈরি হয় গত ১৩ জানুয়ারির নির্দেশিকা।

শুরু বিতর্ক

ইউজিসির এই নয়া নির্দেশিকাকে ঘিরে দেশজুড়ে শুরু হয় বিতর্ক। মূলত, অসংরক্ষিত এবং উচ্চবর্ণের পড়ুয়ারা কমিশনের বিরোধিতায় রাস্তায় নামেন। দেখা যায়, শিক্ষা দফতর ও কেন্দ্রীয় সরকারের নানাবিধ দফতরের কর্মীদেরও বিক্ষোভ দেখাতে। কেউ কেউ আবার প্রতিবাদে ইস্তফা পত্র জমা দিয়ে দেন। এই পর্বেই ২০১৯ ব্যাচের উত্তর প্রদেশের বরেলির সিটি ম্যাজিস্ট্রেট অলঙ্ক অগ্নিহোত্রী নতুন ইউজিসি নিয়মকে ‘কালো আইন’ বলে অভিহিত করে ইস্তফা দেন। চাপে পড়ে গেরুয়া শিবিরও। সামনেই উত্তর প্রদেশে নির্বাচন। এই আবহে উচ্চবর্ণের পড়ুয়াদের ক্ষোভ ভোটে প্রভাব তৈরি করতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন রাজনৈতিক মহল। মধ্যপন্থা খুঁজতে শুরু করে বিজেপি নেতৃত্ব।

পরিস্থিতি সামাল দিল সুপ্রিম কোর্ট

দিন দুয়েক আগেই আইনজীবী বিনীত জিন্দাল সুপ্রিম কোর্টে এই মর্মে মামলা দায়ের করেন। ইউজিসির বিধিকে অসাংবিধানিক বলে দাবি করেন তিনি। সেই ভিত্তিতেই দেশের শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে ওঠে মামলা। সংশ্লিষ্ট নির্দেশিকায় স্থগিতাদেশ জারি করে শীর্ষ আদালত। তবে বেঞ্চ জানিয়েছে, ২০১২ সালের নির্দেশিকা, য়া উপদেশ হিসাবে দেওয়া হয়েছিল। এই জাতিগত বৈষম্যের ক্ষেত্রে আপাতত অব্যাহত থাকবে।

এদিন প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘যদি আমরা হস্তক্ষেপ না করি, তা হলে এটার ভীষণ বাজে প্রভাব পড়বে। সমাজকে দ্বিধাবিভক্ত করবে।’ পাশাপাশি তাঁর আরও পর্যবেক্ষণ, ‘এই বিধির কোনও মানে হয় না। এই নির্দেশিকায় যে কথাগুলি লেখা রয়েছে, তা বিশেষজ্ঞদেরকে দিয়েও পর্যালোচনা করানো প্রয়োজন।’ পরবর্তী শুনানি ১৯ মার্চ।