AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Republic Day significance: প্রজাতন্ত্রের প্রকৃত অর্থ কী? ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি যেভাবে ভারতকে বদলে দিয়েছিল…

Republic Day history: ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীনতা লাভ করে। কিন্তু প্রজাতন্ত্র হতে আরও আড়াই বছর সময় লাগল কেন? ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি কী বদলে যায়? কেন এই দিনটিকেই বেছে নেওয়া হয়েছিল? এবং প্রজাতন্ত্র হওয়া ভারতের জন্য আসলে কী অর্থ বহন করে? লিখলেন সন্তোষ নায়ার।

Republic Day significance: প্রজাতন্ত্রের প্রকৃত অর্থ কী? ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি যেভাবে ভারতকে বদলে দিয়েছিল...
প্রতীকী ছবিImage Credit: TV9 Bangla
| Edited By: | Updated on: Sep 21, 2026 | 4:50 PM
Share

নয়াদিল্লি: ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি। সকাল ১০টা ১৮ মিনিট। দিল্লির গভর্নমেন্ট হাউসের উঁচু গম্বুজওয়ালা দরবার হলে দাঁড়িয়ে একটি ঘোষণা পড়ে শোনালেন এক ব্যক্তি। তাঁর নাম চক্রবর্তী রাজাগোপালাচারী। এরপর নীরবে নিজের পদ থেকে সরে গেলেন তিনি। তিনিই ছিলেন ভারতের শেষ গভর্নর-জেনারেল। কয়েক মিনিট পর শপথ নিলেন রাজেন্দ্র প্রসাদ। দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন। দেওয়া হল ৩১ বার তোপধ্বনি।

প্রতি বছর প্রজাতন্ত্র দিবসে আমরা সেই মুহূর্তই উদযাপন করি। কিন্তু একটা প্রশ্নের কথা খুব একটা ভাবি না। ভারত তো ১৯৪৭ সালের ১৫ অগস্টই স্বাধীন হয়ে গিয়েছিল। তাহলে তার প্রায় আড়াই বছর পর ১৯৫০ সালের ওই জানুয়ারির সকালে এমন কী বদলে গেল? সহজ করে বললে, বদলে গেল ভারতের শাসনব্যবস্থার ভিত্তি এবং দেশের সর্বোচ্চ কর্তৃত্ব কার হাতে থাকবে, সেই প্রশ্নের উত্তর।

স্বাধীনতা দিবস এবং প্রজাতন্ত্র দিবসের মধ্যে পার্থক্য কী?

১৯৪৭ থেকে ১৯৫০ সাল পর্যন্ত ভারত স্বাধীন ছিল ঠিকই। কিন্তু তখনও প্রজাতন্ত্র হয়ে ওঠেনি। ভারত ছিল একটি ‘ডোমিনিয়ন’—অর্থাৎ স্বশাসিত দেশ। কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে সাংবিধানিক রাজতন্ত্রের অধীনে। কাগজে-কলমে ব্রিটেনের তৎকালীন রাজা ষষ্ঠ জর্জই ছিলেন ভারতের রাজা। তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে ভারতে দায়িত্ব পালন করতেন গভর্নর-জেনারেল। প্রথমে লর্ড মাউন্টব্যাটেন এবং পরে সি রাজাগোপালাচারী সেই দায়িত্ব সামলেছিলেন। অর্থাৎ, স্বাধীনতার পরও দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক কর্তৃত্বের সঙ্গে ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের একটি আনুষ্ঠানিক যোগ রয়ে গিয়েছিল।

তার উপর, তখনও ভারত চলছিল ১৯৩৫ সালের ‘গভর্নমেন্ট অব ইন্ডিয়া অ্যাক্ট’-এর ভিত্তিতে। যে আইন তৈরি করেছিল সেই ঔপনিবেশিক সরকারই, যার শাসন থেকে ভারত সদ্য মুক্ত হয়েছিল। তখনও ভারতের নিজস্ব সংবিধান ছিল না। ছিল না কোনও ভারতীয় রাষ্ট্রপতি। আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত কর্তৃত্বের সঙ্গে যুক্ত ছিল একটি বংশানুক্রমিক রাজতন্ত্র।

প্রজাতন্ত্র হওয়ার মূল অর্থ এখানেই।

প্রজাতন্ত্র এমন একটি দেশ, যেখানে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদটি বংশানুক্রমে পাওয়া যায় না। কেউ শুধু কোন পরিবারে জন্মেছেন বলে দেশের রাষ্ট্রপ্রধান হতে পারেন না। রাষ্ট্রপ্রধান হওয়ার পদ্ধতি সংবিধান নির্ধারণ করে এবং সেই পদে কে আসবেন, তা জনগণ বা তাঁদের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। অন্যদিকে রাজতন্ত্রে ক্ষমতা বংশপরম্পরায় হস্তান্তরিত হয়। প্রজাতন্ত্রে রাষ্ট্রক্ষমতার ভিত্তি হয় সংবিধান।

কেন ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারিই ভারত প্রজাতন্ত্র হল?

১৯৪৭ থেকে ১৯৫০ সালের মধ্যে ভারতের সংবিধান তৈরির কাজ চলছিল। ড. বি আর আম্বেদকরের নেতৃত্বে খসড়া প্রণয়ন কমিটি সেই প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই সময় ভারত ছিল এক ধরনের অন্তর্বর্তী অবস্থায়—বাস্তবে ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্ত, কিন্তু সাংবিধানিক কাঠামোয় তখনও পুরনো ব্যবস্থার কিছু অংশ রয়ে গিয়েছিল।

১৯৪৯ সালের ২৬ নভেম্বর গণপরিষদ ভারতের সংবিধান গ্রহণ করে। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে তা কার্যকর করা হয়নি। কারণ ২৬ জানুয়ারি তারিখটির সঙ্গে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের একটি গভীর ঐতিহাসিক যোগ ছিল।

ঠিক ২০ বছর আগে, ১৯৩০ সালের ২৬ জানুয়ারি, লাহোরে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের অধিবেশনে ‘পূর্ণ স্বরাজ’ বা সম্পূর্ণ স্বাধীনতাকে ভারতের লক্ষ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। স্বাধীনতা অর্জনের বহু বছর আগেই ওই দিনটিকে স্বাধীনতা দিবস হিসেবে পালন করার আহ্বান জানানো হয়েছিল।

তাই ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি সংবিধান কার্যকর করার সিদ্ধান্ত ছিল অতীতের সেই ঐতিহাসিক ঘোষণার সঙ্গে বর্তমানকে যুক্ত করার এক প্রতীকী পদক্ষেপ। দুই দশক আগে যে দিন ভারত সম্পূর্ণ স্বাধীনতার লক্ষ্য ঘোষণা করেছিল, সেই দিনেই এবার নতুন সংবিধানের ভিত্তিতে প্রজাতন্ত্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে দেশ।

১৯৫০ সালে ভারত প্রজাতন্ত্র হওয়ার পর কী বদলে গেল?

১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি থেকে ভারতের সর্বোচ্চ কর্তৃত্বের ভিত্তি হয়ে উঠল সংবিধান। পুরনো ঔপনিবেশিক আইন এবং ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের আনুষ্ঠানিক কর্তৃত্বের জায়গা নিল ভারতের নিজস্ব সংবিধান। রাজেন্দ্র প্রসাদ রাষ্ট্রপতি হলেন কোনও বংশপরিচয়ের কারণে নয়, বরং সংবিধান নির্ধারিত সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।

তবে প্রজাতন্ত্র হওয়ার পরও ভারত কমনওয়েলথের সদস্য হিসেবে থেকে যায়। ১৯৪৯ সালে লন্ডনে কমনওয়েলথের প্রধানমন্ত্রীদের সম্মেলনে এ বিষয়ে সমঝোতা হয়েছিল। সেই অনুযায়ী ব্রিটিশ রাজাকে শুধুমাত্র ‘হেড অব দ্য কমনওয়েলথ’ বা কমনওয়েলথের প্রতীকী প্রধান হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ভারতের সাংবিধানিক ব্যবস্থার উপর তাঁর কোনও কর্তৃত্ব ছিল না।

তাই ১৯৪৭ সালের ১৫ অগস্টের গুরুত্ব এতটুকুও কমে না। ওই দিনই ভারত স্বাধীনতা অর্জন করেছিল। আর ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি উত্তর দেওয়া হয়েছিল আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের—ব্রিটিশরা চলে যাওয়ার পর ভারত কীভাবে শাসিত হবে?

ভারতের উত্তর ছিল—একটি লিখিত সংবিধান এবং নির্বাচিত রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে পরিচালিত একটি প্রজাতন্ত্র। নিজেদের জন্য নতুন কোনও রাজা বেছে নেওয়া নয়।

প্রতি বছর প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে ট্যাঙ্ক, লোকনৃত্য, যুদ্ধবিমান এবং নানা সাংস্কৃতিক পরিবেশনা দেখা যায়। কিন্তু সেই উৎসবের আসল তাৎপর্য অনেক সময় চোখ এড়িয়ে যায়। ২৬ জানুয়ারির উদযাপন শুধুমাত্র ভারতের স্বাধীনতার উদযাপন নয়। বরং এটি সেই দিনটির স্মরণ, যেদিন দেশের কর্তৃত্ব কোনও রাজমুকুট থেকে সরে এসে এমন একটি সংবিধানের হাতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, যার শুরুই হয়েছে—‘We, the People of India’ বা ‘আমরা, ভারতের জনগণ’—এই শব্দগুলির মাধ্যমে।

তাই পরের বার ২৬ জানুয়ারি এলে কুচকাওয়াজ আর মার্চিং ব্যান্ডের আড়ালেও একটি প্রশ্ন করা যেতে পারে—১৯৫০ সালে যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভারত প্রজাতন্ত্র হিসেবে পথ চলা শুরু করেছিল, ২০২৬ সালেও কি সেই প্রতিশ্রুতিই দেশের দৈনন্দিন শাসনব্যবস্থার ভিত্তি? নাকি কোনও অন্য শক্তি ধীরে ধীরে সেই পুরনো রাজমুকুটের জায়গা নিতে শুরু করেছে?

সূত্র: Scroll.in-র ‘January 26, 1950: How India’s First Republic Day Unfolded’, The Better India-র ‘Republic Day History’, The Quint-র ‘Birth of a Nation: Looking Back at India’s First Republic Day’, Constitution of India, 1950 এবং ১৯৪৯ সালের London Declaration ও Commonwealth Prime Ministers’ Conference।

Follow Us