PM Shri: ১৪,৫০০ স্কুলকে ‘মডেল স্কুল’ করার লক্ষ্য, খরচ ২৭ হাজার কোটি! কী এই PM SHRI প্রকল্প?
PM SHRI Scheme News: ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত গোটা দেশে মোট ১৩ হাজার ৯২টি স্কুল পিএমশ্রী স্কুল হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে। অর্থাৎ, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৯০ শতাংশ স্কুল ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পের আওতায় এসেছে। এর মধ্যে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের স্কুলের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় সংগঠন বা KVS, নবোদয় বিদ্যালয় সমিতি বা NVS এবং NCERT-এর অধীনস্থ স্কুলও রয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে সরাসরি ২০ লক্ষের বেশি পড়ুয়া উপকৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। দেশের ৭২৫টি জেলা এবং ৮ হাজার ৩৪০টি ব্লক ও শহরে পিএম শ্রী স্কুল ছড়িয়ে রয়েছে।

নয়া দিল্লি: দেশের স্কুলশিক্ষা ব্যবস্থায় বড়সড় পরিবর্তন আনতে চালু হয়েছে পিএম শ্রী প্রকল্প। দেশে প্রায় ১৪ লক্ষ ৭১ হাজার স্কুলে ২৪ কোটি ৬৯ লক্ষেরও বেশি পড়ুয়া পড়াশোনা করে। এই বিপুল সংখ্যক পড়ুয়ার শিক্ষার মানোন্নয়নের পাশাপাশি তাদের সার্বিক বিকাশের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরিই অন্যতম লক্ষ্য কেন্দ্রীয় সরকারের। এই পরিবর্তনের মূল ভিত্তি জাতীয় শিক্ষানীতি বা NEP 2020। আর স্কুলস্তরে সেই শিক্ষানীতির লক্ষ্য বাস্তবায়নের অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠেছে ‘প্রধানমন্ত্রী স্কুলস ফর রাইজিং ইন্ডিয়া’বা পিএমশ্রী প্রকল্প।
কী এই পিএম-শ্রী প্রকল্প?
২০২২ সালের ৭ সেপ্টেম্বর পিএম-শ্রী প্রকল্পের সূচনা হয়। নতুন স্কুল তৈরির পরিবর্তে দেশের বর্তমান স্কুলগুলির মধ্যে ১৪ হাজার ৫০০-র বেশি স্কুলকে উন্নত করে ‘মডেল স্কুল’ বা দৃষ্টান্তমূলক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলাই এর অন্যতম উদ্দেশ্য। এই প্রকল্পে মোট ২৭ হাজার ৩৬০ কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে কেন্দ্রের অংশ ১৮ হাজার ১২৮ কোটি টাকা। স্কুলগুলিতে উন্নত পরিকাঠামো, প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ এবং পড়ুয়াদের জন্য নিরাপদ ও আনন্দদায়ক শিক্ষার পরিবেশ তৈরিতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
১৩ হাজারের বেশি স্কুল নির্বাচিত
২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত গোটা দেশে মোট ১৩ হাজার ৯২টি স্কুল পিএমশ্রী স্কুল হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে। অর্থাৎ, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৯০ শতাংশ স্কুল ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পের আওতায় এসেছে। এর মধ্যে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের স্কুলের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় সংগঠন বা KVS, নবোদয় বিদ্যালয় সমিতি বা NVS এবং NCERT-এর অধীনস্থ স্কুলও রয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে সরাসরি ২০ লক্ষের বেশি পড়ুয়া উপকৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। দেশের ৭২৫টি জেলা এবং ৮ হাজার ৩৪০টি ব্লক ও শহরে পিএম শ্রী স্কুল ছড়িয়ে রয়েছে।
নির্বাচিত ১৩ হাজার ৯২টি স্কুলের মধ্যে ১ হাজার ৩০৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উচ্চ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৩ হাজার ১০২টি। এছাড়া ৩ হাজার ১৪১টি মাধ্যমিক এবং ৫ হাজার ৫৪৪টি উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল রয়েছে।
পিএমশ্রী প্রকল্পের উদ্দেশ্য শুধু নির্বাচিত স্কুলের উন্নয়ন নয়। এই স্কুলগুলিকে সংশ্লিষ্ট এলাকার ‘মডেল’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। পিএম শ্রী স্কুলের সফল শিক্ষা পদ্ধতি ও অভিজ্ঞতা আশপাশের স্কুলগুলির সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া হবে।
পিএম শ্রী স্কুলে শুধুমাত্র পুঁথিগত শিক্ষার উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ অনুযায়ী পড়ুয়াদের সার্বিক বিকাশ এবং একুশ শতকের প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের উপরও জোর দেওয়া হচ্ছে।
বাড়ছে কেন্দ্রের বরাদ্দ
পিএমশ্রী প্রকল্পটি পাঁচ বছরের জন্য বাস্তবায়িত হচ্ছে। ২০২২-২৩ অর্থবর্ষ থেকে শুরু হওয়া প্রকল্প চলবে ২০২৬-২৭ পর্যন্ত। মোট প্রকল্পের ব্যয় ২৭ হাজার ৩৬০ কোটি টাকা। এর মধ্যে কেন্দ্রের অংশ ১৮ হাজার ১২৮ কোটি টাকা।
কীভাবে পিএম শ্রী স্কুল নির্বাচন করা হয়?
স্কুলগুলিকে এই প্রকল্পে জায়গা পাওয়ার জন্য প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। গোটা নির্বাচন প্রক্রিয়া তিনটি ধাপে সম্পন্ন হয়। প্রথম ধাপে কেন্দ্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল একটি মই স্বাক্ষর করে। নির্বাচিত স্কুলগুলিকে PM SHRI-এর নির্ধারিত মানে পৌঁছে দিতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে সেখানে অঙ্গীকার করা হয়।
দ্বিতীয় ধাপে UDISE+ তথ্যের ভিত্তিতে ন্যূনতম মানদণ্ড পূরণ করা স্কুলগুলিকে চিহ্নিত করা হয়।
তৃতীয় ধাপে সেই স্কুলগুলি চ্যালেঞ্জ মেথডের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়। নির্দিষ্ট শর্ত ও মানদণ্ড স্কুলগুলি পূরণ করছে কি না, তা যাচাই করা হয়। সংশ্লিষ্ট রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল, KVS অথবা NVS কর্তৃপক্ষ সরেজমিনে পরিদর্শন করে তথ্য যাচাই ও প্রত্যয়ন করে। তারপর যোগ্য স্কুলগুলির তালিকা কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের কাছে সুপারিশ করা হয়।
জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-কে স্কুলস্তরে বাস্তব রূপ দেওয়ার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আধুনিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলাই পিএম শ্রী প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
