10 richest persons: ভারতের সবচেয়ে বড়লোক কারা? কত টাকা আছে?
Top 10 richest person in India: ২০২৬ সালে বিলিয়নেয়ারদের তালিকা প্রকাশ করেছে ফোর্বস। ন্যূনতম ১০০ কোটি ডলার সম্পত্তি রয়েছে, এমন ব্যক্তিদের এই তালিকা। এই বছর ভারতের বিলিয়নেয়ারদের সংখ্যা ২২৯। গত বছর ভারতে ধনকুবেরদের সংখ্যা ছিল ২০৫। উর্ধ্বমুখী স্টক মার্কেট আর নতুন নতুন কোম্পানির নথিভুক্ত হওয়া এর কারণ বলে মনে করছে অর্থনীতিবিদরা।

নয়াদিল্লি: কেউ উত্তরাধিকার সূত্রে সংস্থার দায়িত্ব পেয়েছেন। তারপর সেই সংস্থাকে সাফল্যের শিখরে নিয়ে গিয়েছেন। কেউ নিজেই সংস্থা প্রতিষ্ঠা করে সাফল্যের চূড়ায় উঠেছেন। ব্যবসাকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে নারীরাও যে পুরুষের থেকে কোনও অংশ কম নন, তা প্রমাণ করেছেন কেউ। ২০২৬ সালে ভারতের ধনীতম ব্যক্তিদের তালিকায় রয়েছেন তাঁরা। ফোর্বসের তালিকায় থাকা প্রথম দশ ধনীতম ভারতীয় কারা? দেখে নিন তালিকা।
২০২৬ সালে বিলিয়নেয়ারদের তালিকা প্রকাশ করেছে ফোর্বস। ন্যূনতম ১০০ কোটি ডলার সম্পত্তি রয়েছে, এমন ব্যক্তিদের এই তালিকা। এই বছর ভারতের বিলিয়নেয়ারদের সংখ্যা ২২৯। গত বছর ভারতে ধনকুবেরদের সংখ্যা ছিল ২০৫। উর্ধ্বমুখী স্টক মার্কেট আর নতুন নতুন কোম্পানির নথিভুক্ত হওয়া এর কারণ বলে মনে করছে অর্থনীতিবিদরা। ভারতের ধনকুবেরদের বর্তমানে মোট সম্পত্তির পরিমাণ ১ ট্রিলিয়ন ডলার। ২০২৫ সালে ছিল ৯৪১ বিলিয়ন ডলার। ২০২৬ সালে ভারতের বিলিয়নেয়ারদের মধ্যে প্রথম দশে থাকা ধনীতম ব্যক্তিদের মোট সম্পত্তির পরিমাণ ৩৬৮ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ বিলিয়নেয়ারদের মোট সম্পত্তির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ রয়েছে প্রথম দশজনের কাছে। গত এক বছরে ভারতের প্রথম দশে থাকা ধনকুবেরদের সম্পত্তি বেড়েছে ৩২ বিলিয়ন ডলার।
প্রথম দশে কারা রয়েছেন?
ভারতের ধনকুবেরদের নাম বললেই বর্তমানে সবার আগে আসে শিল্পপতি মুকেশ অম্বানী ও শিল্পপতি গৌতম আদানির নাম। ২০২৬ সালের ফোর্বসের তালিকায় ভারতের ধনীতমদের তালিকায় প্রথমে রয়েছেন রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের মুকেশ অম্বানী। এই মুহূর্তে এশিয়ারও ধনীতম ব্যক্তি তিনি। গত এক বছরে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার ১২ শতাংশ বেড়েছে। সেই সঙ্গে লাফিয়ে বেড়েছে মুকেশ অম্বানীর সম্পদের পরিমাণও। তবে তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ ১০০ বিলিয়ন ডলারের সামান্য নিচে রয়েছে। বর্তমানে তাঁর সম্পদের পরিমাণ ৯৯.৭ বিলিয়ন ডলার।
অম্বানীর পরই ভারতের ধনীতমদের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন আদানি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা তথা চেয়ারপার্সন গৌতম আদানি। সম্পদের পরিমাণের দিক থেকে মুকেশ অম্বানীর থেকে বেশ কিছুটা পিছিয়ে রয়েছেন তিনি। তাঁর সম্পদের পরিমাণ ৬৩.৮ বিলিয়ন ডলার। এই দুই শিল্পপতিই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ক্ষেত্রে বিপুল বিনিয়োগ করছেন। ফলে তাঁদের সম্পদ লাফিয়ে বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ভারতের ধনীতমদের তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছেন ওপি জিন্দল গ্রুপের চেয়ারপার্সন সাবিত্রী জিন্দল। ভারতের ধনীতম মহিলা তিনি। সাবিত্রী জিন্দলের সম্পদের পরিমাণ ৩৯.১ বিলিয়ন ডলার। প্রসঙ্গত, বিলিয়নেয়ারদের তালিকায় ২০ জন মহিলা রয়েছেন।
এবছর ভারতের ধনীতমদের তালিকায় বড় লাফ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক স্টিল টাইকুন লক্ষ্মী মিত্তল। এ বছর চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছেন তিনি। তাঁর সম্পদের পরিমাণ ৩১ বিলিয়ন ডলার। তবে ২০০৮ সালে তাঁর সম্পদের পরিমাণ ছিল ৪৫ বিলিয়ন ডলার। সেই সম্পদ অনেকটাই কমে গিয়েছিল। ধীরে ধীরে আবার লক্ষ্মী মিত্তলের সম্পদের পরিমাণ বাড়ছে।
ভারতের ধনীতমদের তালিকায় পঞ্চম স্থানে রয়েছেন HCL টেকনোলজির প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান শিব নাদার। তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ ৩০.৯ বিলিয়ন ডলার। ষষ্ঠ স্থানে রয়েছেন সিরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়ার ম্যানেজিং ডিরেক্টর সাইরাস পুনাওয়ালা। তাঁর সম্পদের পরিমাণ ২৭ বিলিয়ন ডলার। সপ্তম স্থানে রয়েছেন সান ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজের ম্যানেজিং ডিরেক্টর দিলীপ সাঙ্গভি। তাঁর সম্পদের পরিমাণ ২৫.৬ বিলিয়ন ডলার। অষ্টম স্থানে রয়েছেন আদিত্য বিড়লা গ্রুপের চেয়ারপার্সন কুমার বিড়লা। তাঁর সম্পদের পরিমাণ ২১.১ বিলিয়ন ডলার। ৯ নম্বরে থাকা ডিমার্টের চেয়ারম্যান রাধাকিষণ দামানির সম্পদের পরিমাণ ১৫.৭ বিলিয়ন ডলার।
২০২৬ সালে ফোর্বসের এই তালিকায় প্রথমবার প্রথম দশে জায়গা করে নিয়েছেন কোটার মহিন্দ্রা ব্যাঙ্কের প্রতিষ্ঠাতা উদয় কোটাক। তাঁর সম্পদের পরিমাণ ১৪.৪ বিলিয়ন ডলার।
