Supreme Court of India: ডিভোর্স আইনে স্বামী-স্ত্রীর সমান অধিকার নয় কেন? জনস্বার্থ মামলা শুনে কী বলল সুপ্রিম কোর্ট…
Hindu Marriage Act 1955: সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট বার্তা, সংবিধান যখন মহিলাদের জন্য বিশেষ সুরক্ষার অনুমতি দেয়, তখন সেই আইনি সুরক্ষাকে চ্যালেঞ্জ করা অত্যন্ত কঠিন। শুনানির সময় শীর্ষ আদালতের আরও পর্যবেক্ষণ ছিল যে এই জনস্বার্থ মামলা আসলে সাংবিধানিক প্রশ্নের থেকে বেশি ব্যক্তিগত দাম্পত্য বিবাদের জেরে দায়ের করা হয়েছে বলেই মনে হচ্ছে।

নয়া দিল্লি: হিন্দু ম্যারেজ অ্যাক্টের ধারাকে চ্যালেঞ্জ করে জনস্বার্থ মামলা খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। ওই ধারায় কেবল বিশে কিছু পরিস্থিতিতে শুধু স্ত্রী-রাই বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য আবেদন করতে পারেন, স্বামীরা এই অধিকার পান না। সেই ধারাকে চ্যালেঞ্জ করেই জনস্বার্থ মামলা করা হয়েছিল।
সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে এই মামলার শুনানি চলছিল। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, সংবিধান নিজেই মহিলাদের জন্য বিশেষ আইন তৈরির অনুমতি দিয়েছে। তাই এই ধরনের ধারাকে অসাংবিধানিক বলা যায় না।
কী নিয়ে মামলা-
মামলাটি ছিল হিন্দু ম্যারেজ অ্যাক্টের ১৩(২)(৩) ধারা নিয়ে। এই ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনও স্ত্রীকে রক্ষণাবেক্ষণ বা খোরপোশের নির্দেশ জারি হওয়ার পর এক বছর বা তার বেশি সময় স্বামী-স্ত্রী পুনরায় সহবাস শুরু না করেন, তাহলে স্ত্রী ডিভোর্সের আবেদন করতে পারেন। আবেদনকারী নিজেই আদালতে সওয়াল করে দাবি করেন, এই আইনটি লিঙ্গ নিরপেক্ষ বা জেন্ডার নিউট্রাল হওয়া উচিত। অর্থাৎ স্বামীদেরও একই অধিকার দেওয়া প্রয়োজন।তবে আদালত সেই যুক্তিতে সন্তুষ্ট হয়নি।
লাইভ ল-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এই মামলায় সরাসরি সংবিধানের ১৫(৩) অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করেন। এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্র মহিলাদের সুরক্ষার জন্য বিশেষ আইন করতে পারে। বিচারপতি বাগচী বলেন, “তাহলে আগে সংবিধান সংশোধন করুন। এটি একটি বিশেষ আইন।”
শুনানির সময় শীর্ষ আদালতের আরও পর্যবেক্ষণ ছিল যে এই জনস্বার্থ মামলা আসলে সাংবিধানিক প্রশ্নের থেকে বেশি ব্যক্তিগত দাম্পত্য বিবাদের জেরে দায়ের করা হয়েছে বলেই মনে হচ্ছে। প্রধান বিচারপতি আবেদনকারীকে সতর্ক করে বলেন, “সংবিধানের ৩২ ধারা ব্যবহার করে ব্যক্তিগত প্রতিশোধ বা আক্রোশ মেটানোর চেষ্টা করবেন না।”
শীর্ষ আদালত আরও জানায় যে আবেদনকারীর ব্যক্তিগত সমস্যার প্রতি সহানুভূতি থাকলেও, তাঁর আলাদা থাকা স্ত্রীর প্রতিও সমান সহানুভূতি রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ মন্তব্য করে, “একজন আইন পড়ুয়া হয়ে এই ধরনের আবেদন করা মোটেও ভাল বার্তা দেয় না।”
শেষ পর্যন্ত কোনও নোটিস জারি না করেই ওই জনস্বার্থ মামলা খারিজ করে দেয় সুপ্রিম কোর্ট।
কী রয়েছে হিন্দু ম্যারেজ অ্যাক্টের ১৩(২) ধারায়?
হিন্দু ম্যারেজ অ্যাক্টে ডিভোর্সের একাধিক কারণ উল্লেখ রয়েছে। তবে ১৩(২) ধারা বিশেষভাবে মহিলাদের জন্য কিছু অতিরিক্ত সুরক্ষা দেয়। এই ধারার অধীনে স্ত্রী নিম্নলিখিত পরিস্থিতিতে ডিভোর্স চাইতে পারেন—
- বিয়ের সময় স্বামীর অন্য স্ত্রী জীবিত থাকলে
- স্বামী ধর্ষণ, জোরপূর্বক পায়ুসঙ্গম বা পশুর সঙ্গে সঙ্গমের মতো অপরাধে দোষী হলে
- খোরপোশের নির্দেশের পরও সহবাস পুনরায় শুরু না হলে
- ১৫ বছরের আগেই বিয়ে হয়ে গেলে এবং ১৮ বছর হওয়ার আগে সেই বিয়ে অস্বীকার করলে
এই বিশেষ বিধানগুলি এমন সময়ে আনা হয়েছিল, যখন আইন প্রণেতাদের মতে বিবাহিত জীবনে মহিলারা সামাজিক ও আর্থিক দিক থেকে বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকতেন। সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট বার্তা, সংবিধান যখন মহিলাদের জন্য বিশেষ সুরক্ষার অনুমতি দেয়, তখন সেই আইনি সুরক্ষাকে চ্যালেঞ্জ করা অত্যন্ত কঠিন।
