AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

High Court: শুধু বাড়িতে থাকলেই হয় না, সংসারের জন্য স্বার্থ ত্যাগ করা কর্মরত মহিলা বা পুরুষরাও হোমমেকার: হাইকোর্ট

Court on Homemaker: দুর্ঘটনার ফলে শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী হয়ে যান এক মহিলা। তাঁর মূল দাবি ছিল, ভবিষ্যতে যে তিনি আর উপার্জন করতে পারবেন না, তার জন্য তাঁকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হোক। কর্নাটক স্টেট রোড ট্রান্সপোর্টের তরফ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়, ওই মহিলা উচ্চশিক্ষিত, তাই তাঁকে হোমমেকার বলা যায় না।

High Court: শুধু বাড়িতে থাকলেই হয় না, সংসারের জন্য স্বার্থ ত্যাগ করা কর্মরত মহিলা বা পুরুষরাও হোমমেকার: হাইকোর্ট
Image Credit: AI Generated Image
| Updated on: Aug 20, 2026 | 10:12 AM
Share

কর্নাটক: শুধুমাত্র নিরক্ষর হলে আর ২৪ ঘণ্টা বাড়িতে থাকলেই তাঁরা ‘হোমমেকার’ নয়, যাঁরা প্রতিনিয়ত পরিবারের সেবা করছেন, পরিবারের জন্য স্বার্থত্যাগ করছেন, পরিবারকে খুশি রাখার কথা ভাবছেন তাঁরা প্রত্যেকে হোমমেকার। দুর্ঘটনার ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত একটি মামলায় এমনটাই বললেন কর্নাটক হাইকোর্টের বিচারপতি। বিচারপতি চিল্লাকুর সুমলতা আরও উল্লেখ করেছেন যে ‘হোমমেকার’ শব্দটি লিঙ্গ-নিরপেক্ষ। পুরুষ-মহিলা উভয়েই হতে পারেন হতে পারেন হোমমেকার।

কী সেই মামলা?

কর্নাটক স্টেট রোড ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশনের কাছে ক্ষতিপূরণের দাবিতে মামলা করেন এক মহিলা। আবেদনকারী ওই মহিলা ২০১৩ সালের অক্টোবরে একটি পথ দুর্ঘটনায় গুরুতরভাবে আহত হন। দুর্ঘটনার সময় তাঁর বয়স ছিল ২৫ বছর। তাঁর বায়োটেকনোলজিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি আছে। ২০১২ সালের অগস্ট থেকে ২০১৩ সালের মার্চ পর্যন্ত একটি কলেজে গেস্ট লেকচারার হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা ছিল তাঁর। সেই সময় বেতন ছিল ৩৫ হাজার টাকা।

দুর্ঘটনার ফলে শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী হয়ে যান ওই মহিলা। তাঁর মূল দাবি ছিল, ভবিষ্যতে যে তিনি আর উপার্জন করতে পারবেন না, তার জন্য তাঁকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হোক। কর্নাটক স্টেট রোড ট্রান্সপোর্টের তরফ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়, ওই মহিলা উচ্চশিক্ষিত, তাই তাঁকে হোমমেকার বলা যায় না। এছাড়া দুর্ঘটনার সময় চাকরিরত ছিলেন না ওই মহিলা। তাই তাঁকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া যায় না।

মোটর অ্যাক্সিডেন্ট ক্লেমস ট্রাইব্যুনাল কোনও ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দেয়নি। এরপর ২০১৮ সালে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন ওই মহিলা। তাঁর দাবি ছিল, দুর্ঘটনার পর স্থায়ী প্রতিবন্ধকতার কারণে তিনি পরিবারের দেখভাল করছেন। তিনি চান, হোমমেকার হিসেবে বিবেচনা করেও তাঁকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া উচিত।

কর্মরত মহিলারাও হোমমেকার: বিচারপতি

এই মামলার শুনানিতে বিচারপতি সুমলতা বলেন, “প্রত্যেক মহিলা, যাঁরা পরিবারের সদস্যদের দেখভালের দায়িত্ব পালন করেন, তাঁরাই হোমমেকার। শিক্ষাগত যোগ্যতা যাই হোক না কেন, পরিবারের জন্য পরিষেবা দিচ্ছেন, এমন প্রত্যেককেই হোমমেকার বলা যায়। একজন কর্মরত মহিলাও পরিবারের দেখভাল করলে তিনি হোমমেকার, একজন পুরুষও হতে পারেন হোমমেকার। শুধু ২৪ ঘণ্টা বাড়িতে থাকলে, নিরক্ষর হলে আর বাড়ির সব কাজকর্ম করলেই তিনি হোমমেকার নন।” বিচারপতি আরও বলেন, “যিনি প্রতিনিয়ত সুখী পরিবারের পিলার হিসেবে কাজ করেন, পরিবারের জন্য নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ত্যাগ করেন, পরিবারকে নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসেন, তাঁরাই হোমমেকার।”

হোমমেকার হিসেবে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ আদালতের

শেষ পর্যন্ত ওই পরিবারের দেখভাল করার জন্য ওই মহিলাকে হোমমেকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে হাইকোর্ট। তাঁর বয়সের ভিত্তিতে, শরীরে ১০ শতাংশ প্রতিবন্ধকতার কথা বিবেচনা করেস মাসে মাসে ৮ হাজার টাকা করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আর্থিক ক্ষতির জন্য ১ লক্ষ ৭২ হাজার ৮০০ টাকা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া চিকিৎসা ও সুস্থ হওয়ার সময় তাঁর পরিবার যে পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছে, তার জন্য আরও ২৪ হাজার টাকা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

Follow Us