Supreme Court : ‘স্ত্রী পরিচারিকা নন, বাড়ির কাজ আপনারও করা উচিত’, স্বামীকে ভর্ৎসনা সুপ্রিম কোর্টের
Supreme Court : শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, সময় বদলে গিয়েছে। স্বামীকেও এই ধরনের ঘরের কাজকর্ম করতে হবে। স্ত্রীকে সাহায্য করতে হবে। কেন শুধু একজন মহিলাই ঘরের কাজ করবে, সেই বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিচারপতি। এই বিষয়ে বিচারপতি বিক্রমনাথ বলেন, "আপনাকে রান্না-বান্না, বাসন মাজা-ধোয়ার কাজও করতে হবে।" এর আগে দম্পতিকে মধ্যস্থতার জন্য পাঠিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। কিন্ত সেই পদক্ষেপ ব্যর্থ হয়।

নয়া দিল্লি : বিয়ের পর স্ত্রী রান্না করে দিতে চায়নি। অভিযোগ তুলে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন স্বামী। ডিভোর্সের মামলা করেছিলেন। এবার সেই মামলায় স্বামীকে তীব্র ভর্ৎসনা করল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, রান্নার মতো গৃহস্থের কাজ না করতে চাইলে তাহলে তাঁর আচরণকে কোনওভাবেই নিষ্ঠুরতা বলা যাবে না। একইসঙ্গে শীর্ষ আদালতের বিচারপতি মনে করিয়ে দিয়েছেন, এখন যুগ বদলেছে। ছেলে-মেয়ে প্রত্যেকেই সমান। সেক্ষেত্রে ঘরের কাজ করার কর্তব্য শুধু একজন মহিলা বা স্ত্রীয়ের উপর বর্তায় না। একজন পুরুষেরও উচিত ঘরের কাজ স্ত্রীকে সাহায্য করা।
সম্প্রতি, সুপ্রিম কোর্টে একটি বিবাহবিচ্ছেদের মামলার শুনানি ছিল। শুনানি চলাকালীন স্বামী অভিযোগ তোলেন, বিয়ের মাত্র এক সপ্তাহ পর থেকেই স্ত্রীয়ের আচরণ বদলে যায়। তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার শুরু করেন। এমনকী, তাঁর বাবা-মাকেও অশ্লীল ভাষায় আক্রমণ করেছিলেন বলে অভিযোগ। এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, স্ত্রী কখনও পরিচারিকা নন। বিচারপতি সন্দীপ মেহতা বলেন, “আপনি কোনও পরিচারিকাকে বিয়ে করছেন না, আপনি একজন জীবনসঙ্গীকে বিয়ে করছেন।”
শীর্ষ আদালত আরও জানিয়েছে, সময় বদলে গিয়েছে। স্বামীকেও এই ধরনের ঘরের কাজকর্ম করতে হবে। স্ত্রীকে সাহায্য করতে হবে। কেন শুধু একজন মহিলাই ঘরের কাজ করবে, সেই বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিচারপতি। এই বিষয়ে বিচারপতি বিক্রমনাথ বলেন, “আপনাকে রান্না-বান্না, বাসন মাজা-ধোয়ার কাজও করতে হবে।” এর আগে দম্পতিকে মধ্যস্থতার জন্য পাঠিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। কিন্ত সেই পদক্ষেপ ব্যর্থ হয়।
জানা গিয়েছে, ২০১৭ সালে বিয়ে করেন ওই দম্পতি। তাঁদের আট বছরের একটা ছেলেও রয়েছে। সম্প্রতি, দু’জনের মধ্যে অশান্তি চরম আকার নেই। স্বামী অভিযোগ করেন, স্ত্রী খারাপ আচরণ করেছে। অন্যদিকে স্ত্রীয়ের অভিযোগ, শ্বশুরবাড়ির সম্মতি নিয়েই তিনি তাঁর সন্তানের জন্ম দিতে বাবার বাড়ি গিয়েছিলেন । কিন্তু ছেলের অন্নপ্রাশনে অনুপস্থিত থাকেননি তাঁর স্বামী। পরে তাঁর বাবার কাছে থেকে সোনা ও নগদ অর্থ পণ চাওয়া হয়।
পারিবারিক আদালতে তাঁদের ডিভোর্স হয়ে গিয়েছিল। স্ত্রীয়ের বিরুদ্ধে নিষ্ঠুরতার অভিযোগ এনেছিল স্বামী। পরে স্ত্রী হাইকোর্টে আবেদন করলে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন খারিজ হয়ে যায়। এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে স্বামী সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। এবার সেখানেও স্বামীকে ভর্ৎসনার মখে পড়তে হল।
