Chorbaga Sarbojanin Tragedy:’শরীরে কোথাও কিচ্ছু নেই, শুধু মুখের বাঁ দিকটা’, ছেলের ৭-৮জন বন্ধুকে বাঁচানোর পর বাবা দেখলেন নিজের ছেলের নিঃসাড় শরীরটা
Pranjal Sarkar Chorbaga Incident: প্রাঞ্জলের বন্ধুরা-সহ ৭-৮জনকে বার করে এনেছিলেন। কিন্তু নিজের ছেলেকে আর পারেননি। ছেলেকে যতক্ষণে বার করে আনেন, ছেলের গোটা শরীরটা অক্ষত। শুধু মুখে বাপাশ কালচিটে থেতলে যাওয়া। জুতোর পায়ের ছাপ তাতে স্পষ্ট।

কলকাতা: প্রাঞ্জল সরকার, বছর তেরোর এক কিশোর। বন্ধুরা, তাদের বাবা-মায়েরা, আর নিজের বাবা-মা সবাই মিলে একসঙ্গে আগরপাড়ায় থেকে এসেছিলেন কলকাতায়, ঠাকুর দেখতে। অভিশপ্ত সেই সন্ধ্যায় হুড়োহুড়ির মধ্যে পড়ে যান ওরা সকলেই। প্রাঞ্জল বাবা-মায়ের হাত থেকে ছিটকে যায়। ধাক্কা সামলাতে না পেরে পড়ে যায় প্রাঞ্জল। ততক্ষণে ওর অনেক বন্ধুও পড়ে গিয়েছে। ১৩ জনের গোটা টিম তখন চোরবাগান সর্বজনীনের ওই প্যান্ডেলের ভিতর ছন্নছাড়া। প্রাঞ্জলের বন্ধুরা-সহ ৭-৮জনকে বার করে এনেছিলেন। কিন্তু নিজের ছেলেকে আর পারেননি। ছেলেকে যতক্ষণে বার করে আনেন, ছেলের গোটা শরীরটা অক্ষত। শুধু মুখে বাপাশ কালচিটে থেতলে যাওয়া। জুতোর পায়ের ছাপ তাতে স্পষ্ট। শনিবার রাতে বেসরকারি হাসপাতালের বাইরে দাঁড়িয়ে কথা গুলো বলছিলেন প্রাঞ্জলের মামা। কান্নায় ভেঙে পড়েছেন তিনি।
প্রাঞ্জলের মামা বলেন, “ছেলেটার দিকে তাকাতে পারলাম না। সারা শরীরটায় কোথাও কিচ্ছু হয়নি, শুধু মুখে বাঁদিকটা জুতোর ছাপ। কালো হয়ে গিয়েছিল। পড়ে গিয়েছিল আর বেরিয়ে আসতে পারেনি।” তিনি আরও বলেন, “আমি যখন যাই দেখি, পরপর দেহ সাজানো। আমার জামাইবাবু ৭-৮ টা ছেলেকে বাঁচিয়েছে, শুধু নিজের ছেলেটাকেই বাঁচাতে পারল না।”
অষ্টমীর সকালেই প্রাঞ্জলদের শিলং ঘুরতে যাওয়ার কথা ছিল। কেবল সপ্তমীতেই ঠাকুর দেখতে বেরিয়েছিল সে। একটা দিন ঠাকুর দেখারই কথা ছিল। চোরাবাগানের রিলস দেখেই বাবার কাছে বায়না কয়েছিল। তারপর তিনি প্ল্যান করেছিলেন স্কুলের বন্ধুদের বাবা-মায়ের সঙ্গে। ১৩ জনের টিম গিয়েছিল। প্রাঞ্জল ও তার এক বন্ধুর মায়েরই মৃত্যু হয় এই ঘটনায়।
