Rajeev Kumar: রাজীবকে দেখা মাত্রই পুলিশের একাংশের স্যালুট, দৌড়ে গেলেন গাড়ির দরজা খুলতেও! বিতর্ক
Rajeev Kumar: রাজীব কুমার এখন তৃণমূলের প্রার্থী। সোমবার CEC জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে বৈঠকে যে প্রতিনিধি দল গিয়েছিল, তাতে ছিলেন রাজীব কুমার। ছিলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও ফিরহাদ হাকিমও। বেরিয়ে এসে সাংবাদিক বৈঠকও করেন তাঁরা। কিন্তু তারপরই ধরা পড়ে এক ছবি, যা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক। রাজীব কুমারকে দেখে আজও স্যালুট করতে দেখা গেল কর্তব্যরত পুলিশ কর্তাদের, কোনও কোনও পুলিশ কর্তাকে আবার এগিয়ে গিয়ে গাড়ির দরজা খুলে দিতে উদ্যত হতেও দেখা যায়।

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল পদ থেকে ৩১ জানুয়ারি ২০২৬-এ অবসর নেন। তাঁর ইস্তফা ও নতুন ডিজি নিয়োগ ঘিরে কম জলঘোলা হয়নি। এরপরই এক চমক! এক সন্ধ্যায় রাজ্যসভার প্রার্থীতালিকা সামাজিক মাধ্য়মে পোস্ট করে তৃণমূল। তাতে জ্বলজ্বল করে রাজীব কুমারের নাম। সঙ্গে আরও একাধিক নাম। কিন্তু রাজীব কুমারের নামটা স্বাভাবিকভাবেই বঙ্গের রাজনীতিকদের চমকে দিয়েছিল, তা বলাই বাহুল্য। এক সময়ের দুঁদে কর্তা, যাঁর জন্য খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধরনায় বসতে দেখা গিয়েছিল, অনেক কঠিন পরিস্থিতিতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে থাকতে দেখা গিয়েছে রাজীবকে। পদে থাকাকালীনও রাজীবের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলেছেন বিরোধীরা। সেই রাজীব কুমার এখন তৃণমূলের প্রার্থী। সোমবার CEC জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে বৈঠকে যে প্রতিনিধি দল গিয়েছিল, তাতে ছিলেন রাজীব কুমার। ছিলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও ফিরহাদ হাকিমও। বেরিয়ে এসে সাংবাদিক বৈঠকও করেন তাঁরা। কিন্তু তারপরই ধরা পড়ে এক ছবি, যা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক। রাজীব কুমারকে দেখে আজও স্যালুট করতে দেখা গেল কর্তব্যরত পুলিশ কর্তাদের, কোনও কোনও পুলিশ কর্তাকে আবার এগিয়ে গিয়ে গাড়ির দরজা খুলে দিতে উদ্যত হতেও দেখা যায়।
সোমবার কলকাতার পাঁচ তারা হোটেলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন CEC জ্ঞানেশ কুমার। বৈঠক শেষে সাংবাদিক বৈঠক করেন তৃণমূলের প্রতিনিধিরা। রাজীব কুমার অবশ্য সাংবাদিক বৈঠকে কিছু বলেননি। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। সাংবাদিক বৈঠকের পর দেখা যায়, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য সাংবাদিকদের সিঙ্গল বুমে বাইট দিতে। তখনই রাজীব কুমার গাড়ির দিকে এগিয়ে যেতে থাকেন। সে সময়ে বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্তাকে স্যালুট করতে দেখা যায়। কয়েকজন আবার এগিয়েও যান।
রাজনীতিকদেরই কেউ কেউ বলছেন, আসলে যে ‘স্যর’ কয়েকদিন আগে পর্যন্ত ডিজিপি পদে দায়িত্ব সামলেছেন, তাঁকে দেখে পুলিশ কর্মী-কর্তাদের এহেন আচরণ অত্যন্ত স্বভাবসিদ্ধই। তিনি যে এখন একটি রাজনৈতিক দলের সদস্য, তা এখনও আত্মস্থ করে উঠতে পারেননি অনেকেই।
তবে রাজীব কুমারের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, অবসরের পরেও রাজীব কুমার ডিজিপি-র বাংলোয় রয়েছেন। তিনি বলেন, “অত্যন্ত অনৈতিক কিছু কাজ করছেন। তিনি এখন ডিজি নন, কিন্তু ডিজির বাংলোয় বসে আছেন। ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করা উচিত। আজকে হোটেলের বাইরে পুলিশের লোকরা যেভাবে ধপাধপ স্যালুট করছেন, তাতে পুলিশের কতটা অধঃপতন হয়েছে, বোঝা যাচ্ছে। কতটা পার্টিতন্ত্রের সঙ্গে নিজেদের মিশিয়ে ফেলেছে পুলিশ, তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। ” যদিও তৃণমূলের ব্যাখ্যা, এর পিছনে কোনও রাজনীতি নেই। বহুদিনের অভ্যাসবশত পুলিশ কর্মীরা রাজীব কুমারকে দেখে স্যালুট করেছেন।
