Abhishek Banerjee: তড়িঘড়ি দিল্লি পাড়ি অভিষেকের, লোকসভায় তৃণমূলের ভাঙন রুখতে পারবেন?
Abhishek Banerjee Delhi Visit: অভিষেককে নিয়ে তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদ বলেন, "অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তরুণ নেতা। তাঁর ভুল ত্রুটি থাকলে তা শুধরে নেওয়ার অনেক সময় রয়েছে। এখন এরা অভিষেকের ভুল খুঁজে পাচ্ছেন। নির্বাচনের আগে কেন বলেননি? নির্বাচনী প্রচারের সময় অভিষেকের দফতরের সামনে হাতজড়ো করে বসে থাকতেন প্রচারে নিয়ে যাওয়ার জন্য।"

কলকাতা ও নয়াদিল্লি: বিধায়কদের পর এবার তৃণমূলের লোকসভার ‘বিক্ষুব্ধ’ সাংসদদের সংখ্যা বাড়ছে। আর তা আঁচ করতে পারছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। এই পরিস্থিতিতে শনিবার তড়িঘড়ি দিল্লি উড়ে গেলেন তৃণমূলের লোকসভার দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। লোকসভার বিক্ষুব্ধ তৃণমূল সাংসদদের ক্ষোভ তাঁকে নিয়েই। আগামিকাল (রবিবার) তাঁর দিল্লি যাওয়ার কথা ছিল। একদিন আগেই অভিষেকের দিল্লি যাওয়া নিয়ে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে।
বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকে তৃণমূলের অন্দরে ক্ষোভ বাড়ছে। আর সেই ক্ষোভ যে কতদূর পৌঁছেছে, তা দলের ৬০ জন বিধায়কের ‘নব তৃণমূল ব্লক’ গঠনেই স্পষ্ট। বিধানসভায় এখন দু’ভাগ হয়ে গিয়েছে তৃণমূল। সেরকম সম্ভাবনা দেখা গিয়েছে লোকসভাতেও। জল্পনা বাড়ছে, সোমবার লোকসভার স্পিকারের সঙ্গে দেখা করতে পারেন তৃণমূলের ‘বিক্ষুব্ধ’ সাংসদরা। অভিষেককে তাঁরা লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতা মানেন না বলে দাবি জানিয়ে চিঠি দিতে পারেন।
এই পরিস্থিতিতে সোমবার (৮ জুন) দিল্লিতে ইন্ডি জোটের বৈঠকে যোগ দেওয়ার কথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেকের। এর জন্য আগামিকাল (রবিবার) দিল্লি যাওয়ার কথা ছিল তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ডের। কিন্তু, এদিনই তিনি দিল্লি রওনা দেন। অভিষেকের এদিন দিল্লি যাওয়ার বিষয়টি কার্যত কাকপক্ষীও টের পায়নি। সংসদে ‘বিদ্রোহী’ সাংসদদের আটকাতে কি শেষ মরিয়া চেষ্টা করছে তৃণমূল? তার জন্যই কি তড়িঘড়ি দিল্লি উড়ে গেলেন অভিষেক? এই নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চর্চা বাড়ছে।
এদিন অভিষেকের সঙ্গে দিল্লি রওনা দেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন। জানা গিয়েছে, দিল্লি পৌঁছে সাউথ অ্যাভিনিউতে নিজের বাসভবনে উঠেছেন অভিষেক। এখনও পর্যন্ত সাংসদদের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের কোনও খবর পাওয়া যায়নি। এখন দেখার, লোকসভায়ও তৃণমূলের ভাঙন আটকাতে পারেন কি না অভিষেক।
এদিকে, ‘বিদ্রোহী’ সাংসদদের গদ্দার বলে কটাক্ষ করে নিশানা করেছেন তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদ। তিনি বলেন, “দল হারতেই দুর্নীতির কথা মাথায় এল? কাকলি ঘোষ দস্তিদার, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের এতদিন কোথায় ছিলেন? এদের জন্য ঘৃণা হয়। ভালো হয়েছে এরা চলে যাচ্ছেন, কমপক্ষে মানুষ বুঝতে পারছেন প্রয়োজনের সময় এরা ইঁদুরের মতো পালাচ্ছেন।” তিনি মমতার সঙ্গে ছাড়ছেন না বলে স্পষ্ট করে দেন। একইসঙ্গে অভিষেককে নিয়ে কীর্তি বলেন, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তরুণ নেতা। তাঁর ভুল ত্রুটি থাকলে তা শুধরে নেওয়ার অনেক সময় রয়েছে। এখন এরা অভিষেকের ভুল খুঁজে পাচ্ছেন। নির্বাচনের আগে কেন বলেননি? নির্বাচনী প্রচারের সময় অভিষেকের দফতরের সামনে হাতজড়ো করে বসে থাকতেন প্রচারে নিয়ে যাওয়ার জন্য।”
