
নয়াদিল্লি: বাংলার নিবিড় পরিমার্জন নিয়ে সরব নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে কমিশন তাড়াহুড়ো করছে বলেই মত তাঁর। অমর্ত্য সেনের কথায়, এই ধরনের ঘটনা গণতন্ত্রের পক্ষে মোটেই সুবিধার নয়। পাশাপাশি, তাঁকেও এসআইআর নোটিস দেওয়া নিয়ে কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দেন এই নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ।
শনিবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘হাতে পর্যাপ্ত সময় নিয়ে ভোটার তালিকার সংশোধন গণতান্ত্রিকভাবে খুব ভাল সিদ্ধান্ত। কিন্তু বাংলায় তা চলছে না। সেখানে এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে বড্ড তাড়াহুড়ো করা হচ্ছে। সামনেই বিধানসভা নির্বাচন, কিন্তু তার আগে নিজেদের ভোটাধিকার প্রমাণের জন্য সংশ্লিষ্ট ভোটাররা যথাযথ সময় পাচ্ছেন না। যা গণতান্ত্রিক অধিকারকে লঙ্ঘন করতে পারে।’
এই মর্মে নিজের শুনানির প্রসঙ্গ তুলে ধরেন অমর্ত্য সেন। চলতি মাসের প্রথম দিকে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদের শান্তিনিকেতনের বাসভবন ‘প্রতীচী’তে গিয়ে নোটিস দিয়ে এসেছিলেন সংশ্লিষ্ট এলাকার বিএলও। যা নিয়ে সরব হয়েছিলেন তৃণমূলের ‘সেকেন্ড-ইন-কমান্ড’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। এমনকি, অমর্ত্য সেনের আত্মীয় এবং ঘনিষ্ঠদের অভিযোগ ছিল, শুধুমাত্র হয়রানির জন্য এই নোটিস।
পিটিআই-কে নিজের সেই শুনানির অভিজ্ঞতার কথা বলেন অমর্ত্য সেন। বললেন, ‘আমি শান্তিনিকেতনে বড় হয়েছি। ওটা আমার নির্বাচনী এলাকা। বছর বছর ধরে ওখান থেকেই ভোট দিচ্ছি। আমার যাবতীয় সরকারি নথিতেও ওই ঠিকানাই দেওয়া। কিন্তু তারপরেও এসআইআর-এ আমার প্রয়াত মা এবং আমার বয়স নিয়ে প্রশ্ন তোলা হল।’
এসআইআর প্রক্রিয়া শুরুর দিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তুলেছিলেন, গ্রামবাংলার মানুষ কীভাবে জন্ম শংসাপত্র পাবে? এবার সেই প্রশ্ন শোনা গেল নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদের মুখেও। তিনি বললেন, ‘ভারতের অন্য়ান্য গ্রাম্য মানুষগুলির মতো আমারও কোনও জন্মের শংসাপত্র নেই। এসআইআর-এর জন্য় আমাকে অন্য সকল নথিপত্র জমা দিতে হয়েছিল।’ উল্লেখ্য, নোবেলজয়ীকে পাঠানো শুনানির নোটিসে তাঁর গণনাপত্রে বেশ কয়েকটি তথ্যগত ভুল চিহ্নিত করেছিল কমিশন। নোটিসে বলা হয়েছিল, তাঁর সঙ্গে বাবা অথবা মায়ের বয়সের পার্থক্য ১৫ বছর। যা ‘সাধারণভাবে অপ্রত্যাশিত।’