Amit Shah: ‘আমি আমার মনের একটা কথা চিঠিতে শুভেন্দুকে লিখেছিলাম’, এতদিনে তা কলকাতায় এসে জানালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
India's first Museum of Words Kolkata: ভাষা ও চিন্তাভাবনার গভীর সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে অমিত শাহ বলেন, "সাধারণত মানুষ ভাবে মানুষই ভাষার জন্ম দিয়েছে, কিন্তু আসলে ভাষাই মানুষকে তৈরি করে। মানুষের মধ্যে ভাবনা তৈরি হলেই সে প্রকৃত মানুষ হয়ে ওঠে, আর ভাষার মূলেই রয়েছে শব্দ।"

কলকাতা: কলকাতায় তৈরি হল ভারতীয় ভাষা বিষয়ক দেশের প্রথম শব্দ জাদুঘর ‘মিউজিয়াম অফ ওয়ার্ড’। জাতীয় গ্রন্থাগারে (ন্যাশনাল লাইব্রেরি) এই বিশেষ মিউজিয়ামের উদ্বোধন করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ২০২০ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই জাদুঘর তৈরির ঘোষণা করেছিলেন। ৯টি গ্যালারি নিয়ে গঠিত এই জাদুঘরের অন্যতম আকর্ষণ ‘ভাষার সময়রেখা’, যা দেশের সবচেয়ে বড় গ্যালারি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। মূলত ২২টি ভারতীয় ভাষার বিবর্তনের ইতিহাস এই সংগ্রহশালায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমাদের দেশে সংকীর্ণতার কোনও জায়গা নেই। সংকীর্ণতা ভারতীয় সংস্কৃতির চিহ্ন হতে পারে না। আমরা কারোর বিচারধারায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারি না।” তিনি আরও যোগ করেন, “আজ সব স্কুলে বন্দেমাতরম পুরো গান গাওয়া হয়। এর থেকে বড় বছর আর কিছুই হতে পারে না। আর এই বিশেষ বছরেই এই মিউজিয়াম তৈরি হল।” তিনি আরও একবার উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বাংলাকে শাস্ত্রীয় ভাষার মর্যাদাও দিয়েছেন। বাংলা সবসময় পাঁচ দশক এগিয়ে থেকে দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছে। এই প্রসঙ্গেই তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে একটি চিঠি লেখার কথা জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমার মনের একটা কথা আমি শুভেন্দুকে চিঠিতে লিখেছি। আমার বিশ্বাস, শুভেন্দু আমার সেই স্বপ্ন নিশ্চয়ই পূরণ করবে।”
ভাষা ও চিন্তাভাবনার গভীর সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে অমিত শাহ বলেন, “সাধারণত মানুষ ভাবে মানুষই ভাষার জন্ম দিয়েছে, কিন্তু আসলে ভাষাই মানুষকে তৈরি করে। মানুষের মধ্যে ভাবনা তৈরি হলেই সে প্রকৃত মানুষ হয়ে ওঠে, আর ভাষার মূলেই রয়েছে শব্দ।”
এই মঞ্চ থেকে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ভাষার বিকাশে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্রের ওপর জোর দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
-
প্রথম পাঠশালা: পরিবারের ভাষাই শিশুর প্রথম পাঠশালা হওয়া উচিত। মায়ের কাছ থেকে শেখা ভাষাই শিশুর মনে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে।
-
মৌলিক চিন্তাভাবনা: বিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শুধু অনুবাদ বা কপি করার গণ্ডি থেকে বেরিয়ে এসে মৌলিক চিন্তাভাবনা তৈরির মূল কেন্দ্র হয়ে উঠতে হবে।
-
প্রযুক্তির ব্যবহার: দেশের প্রতিটি ভারতীয় ভাষাকে এআই (AI) প্রযুক্তি সক্ষম এবং ডিজিটাইজ করতে হবে, যাতে সেগুলির আয়ু আরও অন্তত ১০০০ বছর বৃদ্ধি পায়।
-
যুবসমাজের অংশগ্রহণ: লাইব্রেরি ও মিউজিয়াম যেন শুধু চার দেওয়ালে সীমাবদ্ধ না থাকে, তা যুবসমাজের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে বিশেষ অভিযান চালাতে হবে।
-
বহুভাষী হওয়া: প্রত্যেক ভারতীয় যুবকের উচিত নিজের মাতৃভাষার পাশাপাশি দেশের অন্য যে কোনো একটি ভারতীয় ভাষা অবশ্যই শেখা।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, এই পাঁচটি বিষয় যদি আগামী প্রজন্মের মধ্যে সঠিকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া যায়, তবে ভারতীয় ভাষার বিকাশ ও সংরক্ষণ অবশ্যম্ভাবী।
