Lakshmir Bhandar: লক্ষ্মীর ভান্ডার পেতেন ২ কোটি ৪২ লক্ষ, অন্নপূর্ণা যোজনা কতজন পাবেন?
Lakshmir Bhandar beneficiaries: সরকার বদলের পর লক্ষ্মীর ভান্ডার নিয়ে একাধিক তথ্য সামনে আসছে। পুরুষদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টেও পূর্বতন সরকারের ওই প্রকল্পের টাকা ঢুকেছিল। কয়েকদিন আগে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্প থেকে ৩০ লক্ষ নাম বাদ পড়বে। সেজন্য অন্নপূর্ণা যোজনায় লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রাপকদেরও ফর্ম পূরণের কথা জানায় নতুন সরকার।

কলকাতা: রাজ্যজুড়ে এখন আলোচনার কেন্দ্রে অন্নপূর্ণা যোজনা। কীভাবে ফর্ম পূরণ করতে হবে, তা জানতে উৎসুক সবাই। একইসঙ্গে কেন ১২ পাতার ফর্ম, সেই প্রশ্নও উঠছে। এই পরিস্থিতিতে পূর্বতন তৃণমূল সরকারের লক্ষ্মীর ভান্ডারও আলোচনায় উঠে আসছে। জেনে নেওয়া যাক, লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পে কত জন টাকা পেতেন। লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পে রাজ্য সরকারের বার্ষিক কত টাকা খরচ হত? নতুন করে ফর্ম পূরণের পর অন্নপূর্ণা যোজনায় প্রাপকের সংখ্যা কত হবে, তা নিয়েও জল্পনা বাড়ছে।
একুশের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর বাংলায় মহিলাদের আর্থিক সহায়তার জন্য লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্প শুরু করেছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথমে মহিলাদের মাসে ৫০০ টাকা দেওয়া হত। পরে তা বেড়ে হয় ১০০০ টাকা। তবে তফসিলি জাতি ও তফসিলি জনজাতিভুক্ত মহিলারা মাসে ১২০০ টাকা পেতেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অন্তর্বর্তী বাজেটের সময় লক্ষ্মীর ভান্ডারে ৫০০ টাকা করে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় তৎকালীন তৃণমূল সরকার। তার জেরে তফসিলি জাতি ও তফসিলি জনজাতিভুক্ত মহিলারা মাসে ১৭০০ টাকা করে পান। অন্য মহিলারা মাসে ১৫০০ টাকা করে পান। ২৫ বছর থেকে ৬০ বছর বয়সী মহিলারা এই প্রকল্পের সুবিধা পেতেন। তবে সরকারি চাকরিজীবী মহিলারা এই প্রকল্পের সুবিধা পেতেন না।
কতজন লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের সুবিধা পেতেন? বার্ষিক কত টাকা খরচ হত সরকারের?
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অন্তর্বর্তী বাজেট পেশের সময় অর্থ দফতরের তৎকালীন স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য জানিয়েছিলেন, ২ কোটি ২১ লক্ষ মহিলা সেইসময় এই প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন। এর জন্য ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে এই প্রকল্পে রাজ্য সরকারের ১৭০৬৩.০৩ কোটি টাকা খরচ হয়। অর্থাৎ যখন মহিলারা মাসে ১০০০ টাকা ও ১২০০ টাকা পেতেন, সেই সময় এক বছরে সরকারের এই প্রকল্পে খরচ হয়েছে ১৭ হাজার ৭৬ কোটি টাকা।
অন্তর্বর্তী বাজেট পেশের সময় চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য আরও জানিয়েছিলেন, নতুন করে আরও ২০ লক্ষ ৬২ হাজার মহিলার নাম লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পে যোগ করা হয়েছে। ফলে লক্ষ্মীর ভান্ডারে মোট প্রাপকের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২ কোটি ৪২ লক্ষ। অর্থাৎ তৃণমূলের বিদায়ের সময় ২ কোটি ৪২ লক্ষ মহিলা লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন। আর ফেব্রুয়ারি থেকে এই প্রকল্পে ৫০০ টাকা করে বাড়ানো হয়। অন্তর্বর্তী বাজেট পেশের সময় এই প্রকল্পের জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে অতিরিক্ত ১৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছিলেন চন্দ্রিমা।
সরকার বদলের পর লক্ষ্মীর ভান্ডার নিয়ে একাধিক তথ্য সামনে আসছে। পুরুষদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টেও পূর্বতন সরকারের ওই প্রকল্পের টাকা ঢুকেছিল। কয়েকদিন আগে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্প থেকে ৩০ লক্ষ নাম বাদ পড়বে। সেজন্য অন্নপূর্ণা যোজনায় লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রাপকদেরও ফর্ম পূরণের কথা জানায় নতুন সরকার। এবার দেখার, অন্নপূর্ণা যোজনায় লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রাপকের থেকে সংখ্যা বাড়ে না কমে।
