
কলকাতা: সকাল থেকে রাজপথ দখল করে রয়েছেন আশা কর্মীরা (ASHA workers) । ন্যায্য আদায়ের দাবিতে পথে রয়েছেন তাঁরা। ইতিমধ্যেই আটক হয়েছেন অনেকে। চলছে পুলিশি ধরপাকড়। আর এবার পুলিশি আটক আটকাতে নতুন পন্থা নিলেন আশাকর্মীরা।
বুধবার স্বাস্থ্যভবন অভিযানে নেমেছেন আশাকর্মীরা। আর সেই অভিযান ঘিরেই এত গণ্ডগোল। শিয়ালদহ-হাওড়া-ধর্মতলার মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজপথ অবরুদ্ধ মহিলাদের অভিযানে। বেলা বাড়তেই শুরু হয় পুলিশি আটক। আশা কর্মীদের দাবি, তাঁদের ড্রেসকোড দেখে-দেখে আটক করছে পুলিশ। তবে, ছেড়ে দেওয়ার পাত্র নন তাঁরাও। এক আশাকর্মী আবার পোশাক বদল করে এসেছেন র্যালিতে। এক আশা কর্মী বলেন, “আমাদের বিভিন্ন জায়গায় আটকানো হচ্ছে। তাই আমরা কেউ সিভিল ড্রেসে আসছি। আমরা চোরও নই, ডাকাতও নই। লুকিয়ে লুকিয়ে আসছি বিভিন্ন জায়গা থেকে।” তিনি আরও বলেন, “৭ জানুয়ারি আমরা জানিয়ে গিয়েছিলাম যে অভিযান হবে। তারপরও আমাদের আটকাচ্ছে।” ওই আশা কর্মীর অভিযোগ, পুলিশ নাকি বাড়ি-বাড়ি গিয়ে আশাকর্মীদের তুলে নিয়ে যাচ্ছেন।
কেন এই আন্দোলন?
আশাকর্মীদের আন্দোলন চলছে দীর্ঘদিন ধরে। ২৩ ডিসেম্বর থেকে রাজ্যজুড়ে কর্মবিরতি পালন করছেন তাঁরা। বর্তমানে এই আশা কর্মীরা ৫ হাজার ২৫০ টাকা ভাতা পান। তবে এবার তাঁরা ন্যূনতম ১৫ হাজার টাকা ভাতার দাবি করেছেন। শুধু তাই নয়, সরকারি কর্মীদের মতো সব ধরনের ছুটির অধিকার, কর্মরত অবস্থায় মারা গেলে পরিবারকে এককালীন ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণও দাবি জানিয়েছেন। সঙ্গে ইনসেন্টিভ দেওয়া বন্ধ করে সব বকেয়া অবিলম্বে মেটানোর দাবিতেও চলছে এই কর্মবিরতি। তবে, রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য আবার আশা কর্মীদের বলেছেন, “আমরা আপনাদের সঙ্গে আছি। কিন্তু রাজনৈতিকভাবে কেউ আপনাদের ব্যবহার করতে চাইলে সেই ফাঁদে পা দেবেন না। রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য আপনারা হয়তো তাঁদের কিছু চাঁদাও দেন বলে শুনেছি। সঠিক জানি না। শুনেছি।” আর এই বক্তব্য শুনে পাল্টা আশা কর্মীরা বলছেন, ছাব্বিশের ভোটে দেখে নেবেন তাঁরা। ফলত, এই আন্দোলন থেকে এত সহজে যে তাঁরা পিছু হটবেন না তা ভালই বুঝিয়ে দিয়েছেন মহিলারা।