‘ছাব্বিশে আমরা ৮০ হাজার আশাকর্মী দেখে নেব…’, শিয়ালদহ থেকে স্বাস্থ্যভবন চত্বর! আশাকর্মীদের বিক্ষোভে ক্রমেই চড়ছে পারদ

পুলিশের গাড়ির ভিতর দাঁড়িয়েই এক আশাকর্মী বলেন, "আমরা ৮০ হাজার আশাকর্মী রয়েছি। ২০২৬ সালে আমরা দেখে নেব। আমরা জবাব চাই, আমরা চুরি করিনি, ন্যায্য আদায় করতে এসেছি।" আরেক বিক্ষোভকারীর কথায়, "আমরা তো চোর ডাকাত নই, পুলিশে তুলে নিয়ে যাচ্ছে, আমাদের ন্যায্য অধিকারটা বুঝে নিতে এসেছিলাম বলে।"

ছাব্বিশে আমরা ৮০ হাজার আশাকর্মী দেখে নেব..., শিয়ালদহ থেকে স্বাস্থ্যভবন চত্বর! আশাকর্মীদের বিক্ষোভে ক্রমেই চড়ছে পারদ
আশাকর্মীদের বিক্ষোভে উত্তাল শহরImage Credit source: TV9 Bangla

| Edited By: শর্মিষ্ঠা চক্রবর্তী

Jan 21, 2026 | 11:23 AM

কলকাতা: আশাকর্মীদের বিক্ষোভে উত্তাল স্বাস্থ্যভবন চত্বর। আশাকর্মীদের স্বাস্থ্যভবন অভিযান ঘিরে পারদ চড়ছে। এই কর্মসূচি পূর্ব ঘোষিত। তাই আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল পুলিশ। স্বাস্থ্যভবনের বাইরে লোহার দুর্গ, ব্যারিকেড করে রেখেছিল পুলিশ। সেই ব্যারিকেড পেরিয়ে স্বাস্থ্য়ভবনের দিকে এগোতেই পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। শুরু হয় পুলিশি ধরপাকড়।

স্বাস্থ্যভবনের সামনেই রাস্তায় বসে পড়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন তাঁরা। তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে আটক করে পুলিশ গাড়িতে তোলে। রাস্তা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। রাস্তায় বিশাল বাহিনী। রাস্তার সামনেই বসে বিক্ষোভকারী আশাকর্মী বলেন, “যতই ধরপাকড় করে করুক, দেখি সরকার আমাদের জন্য কী করে। আমরা এখানেই বসে থাকব।”

পুলিশের গাড়ির ভিতর দাঁড়িয়েই এক আশাকর্মী বলেন, “আমরা ৮০ হাজার আশাকর্মী রয়েছি। ২০২৬ সালে আমরা দেখে নেব। আমরা জবাব চাই, আমরা চুরি করিনি, ন্যায্য আদায় করতে এসেছি।” আরেক বিক্ষোভকারীর কথায়, “আমরা তো চোর ডাকাত নই, পুলিশে তুলে নিয়ে যাচ্ছে, আমাদের ন্যায্য অধিকারটা বুঝে নিতে এসেছিলাম বলে।”

আরেকদিকে শিয়ালদহ স্টেশনেও বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন আশাকর্মীদের আরেক অংশ। তাঁদের মধ্যে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। বর্ধমান, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, এমনকি উত্তরবঙ্গ থেকে এসেও তাঁরা বিক্ষোভ দেখান। বর্ধমান থেকে আসা এক আশাকর্মী বলেন, “সারা রাস্তায় মাঝে মাঝেই বাধার মুখে পড়েছি। স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম আমাদের আজকে ডেকেছিলেন। বেতন বৃদ্ধির দাবি নিয়ে এসেছিলাম। দাবি রেখেছিলাম ৫ হাজার ২৫০ টাকার বেতন ১৫ হাজার টাকা করা হোক!” কিন্তু এই সমস্ত আশাকর্মীদের শিয়ালদহ স্টেশনের বাইরে বেরোতে দেওয়া হয়নি। স্টেশনেই তাঁদের আটকে দেয় RPF-পুলিশ। তাঁরা স্টেশনেই বিক্ষোভ অবস্থানে সামিল হন।

প্রসঙ্গত, বেতন বৃদ্ধির দাবিতে দীর্ঘদিন ধরেই আন্দোলনে সামিল রয়েছেন আশাকর্মীরা। এই মুহূর্তে তাঁরা প্রত্যেকে ৫২৫০ টাকা বেতন পান। বর্তমান বাজারে সেই টাকায় তাঁদের চলে না, তাই অন্ততপক্ষে ১৫ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা। আশাকর্মীদের দাবি, তাঁদের স্বাস্থ্যসচিবই কথা বলার জন্য ডেকে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু স্টেশনেই পুলিশ আটকে দেয়।