Taslima Nasrin: ‘যে শহর বইকে এত ভালোবাসে’, বুকস্টলে ভাঙচুর নিয়ে কী বললেন তসলিমা?
Taslima Nasrin on Bookstall Vandalism: দীর্ঘ পোস্টের শেষে তসলিমা নাসরিনের বার্তা, 'আশা করছি অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হবে। প্রশাসন নিশ্চিত করবে, মানুষ নির্বিঘ্নে বই বিক্রি করতে পারবেন, কিনতে পারবেন। বই হাতে নিয়ে মানুষকে বইয়ের স্টল পাহারা দিতে হবে না। যে শহর বইকে এত ভালবাসে, সেই শহরে বইয়ের স্টলগুলো নিরাপদ থাকুক।'

কলকাতা: কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় পুজোমণ্ডপের সামনে বামেদের বুকস্টল ভাঙচুরের খবর সামনে এসেছে। এই নিয়ে এবার মুখ খুললেন বাংলাদেশের লেখিকা তসলিমা নাসরিন। বুকস্টলে ভাঙচুরে তিনি যে ‘ব্যথিত’, তা স্পষ্ট করে দিলেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি আবেদন জানালেন, ‘বুকস্টলগুলো নিরাপদ থাকুক।’
সোশ্যাল মিডিয়ায় কী লিখলেন তসলিমা?
এদিন ফেসবুকে তসলিমা নাসরিন লেখেন, ‘পুজোর কলকাতায় বামপন্থীদের বইয়ের স্টল ভাঙচুরের খবর পড়ে মন খারাপ হল। যাদবপুরে স্টল সরাতে বুলডোজার আনার কথা পড়লাম। বাগুইআটিতে বই খালের জলে ফেলে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।’
বামেদের রাজনীতির তিনি সমালোচক জানিয়ে তসলিমা লেখেন, ‘বামপন্থীদের সমস্ত মতের সঙ্গে একমত হওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। তাঁদের রাজনীতির সমালোচনা করারও যথেষ্ট অবকাশ আছে। আমি তো খুব সমালোচনা তাঁদের রাজনীতির। কিন্তু তাঁদের বই বিক্রি করার অধিকার, মানুষের সেই বই কেনার ও পড়ার অধিকার নিশ্চয়ই আছে। এই অধিকার স্বীকার করতে কাউকে বামপন্থী হতে হয় না। অন্যের মত প্রকাশের স্বাধীনতা কতটা মানছি, তা বোঝা যায় সেই মতটি আমার অপছন্দের হলে।’
একইসঙ্গে তিনি লেখেন, ‘কোনও স্টলের অনুমতি বা অবস্থান নিয়ে সমস্যা থাকলে আয়োজকদের সঙ্গে কথা বলা যায়। পথচারীদের চলাচল স্বাভাবিক রাখার ব্যবস্থাও করা যায়। নিয়ম থাকলে তা সকলের জন্য সমানভাবে প্রয়োগ করাও যায়। রাজনৈতিক পরিচয় দেখে কাউকে বাধা দেওয়া, ভয় দেখানো, তাঁর বই নষ্ট করা কি গ্রহণযোগ্য হতে পারে?’
দীর্ঘ পোস্টের শেষে তাঁর বার্তা, ‘আশা করছি অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হবে। প্রশাসন নিশ্চিত করবে, মানুষ নির্বিঘ্নে বই বিক্রি করতে পারবেন, কিনতে পারবেন। বই হাতে নিয়ে মানুষকে বইয়ের স্টল পাহারা দিতে হবে না। যে শহর বইকে এত ভালোবাসে, সেই শহরে বইয়ের স্টলগুলো নিরাপদ থাকুক।’
অন্যদিকে, বামেদের বুকস্টল নিয়ে কটাক্ষ করে বিজেপি বিধায়ক রীতেশ তিওয়ারি বলেন, “যদি কেউ মনে করে, বুকস্টল ভেঙে দিলে একটা মতবাদকে শেষ করে দেব, তাহলে এটা ছেলেমানুষি। ওই বুকস্টল না ভাঙলে বামেরা বুকস্টল করেছে, কেউ জানতেও পারত না। তবে আমি জানি না কোথায় হয়েছে, কে করেছে। আমার ওখানেও দু-তিনটে বুকস্টল হয়েছে। বাচ্চাগুলো লাফালাফি করছিল। আমি বলি, ছেড়ে দে। ওদের বই কে দেখে। সারা বছর ওরা বসে থাকে। এত বই যদি পড়ে, তারপরও একবার শূন্য আর একবার এক। থাক না এইসব বই। কী যায় আসে। আমি তো চাই, ওরা আরও বেশি বই বিক্রি করুক। ওরা বই বিক্রি করবে, যত লোকে ওদের বই পড়বে, তত ওদের বর্জন করবে।”
