
ভবানীপুর: ভোট এলেই তো কত শত নতুন নতুন রূপে অবতীর্ণ হতে দেখা যায় প্রার্থীদের। কেউ ভোট চাইতে গিয়ে কেউ শিল নোড়া নিয়ে বসে পড়ছেন, কেউ আবার চাষের কাজে হাত দিচ্ছেন। কেউ কেউ আবার ভোটারদের ঘরবাড়ি পরিষ্কার করে দিচ্ছেন। আবার কোনও কোনও প্রার্থী চিকিৎসক হওয়ায় ভোটারদের রোগের উপশম বলে দিচ্ছেন হাতের নাড়ি দেখে। এ ছবি এতদিনে কমবেশি চেনা হয়ে গিয়েছে। কিন্তু প্রার্থীর হয়ে প্রচার করতে গিয়ে কাউন্সিলর আবাসন থেকে সাপ ধরছেন, এ ছবি অবশ্যই সাম্প্রতিককালে নজিরবিহীন। তাও আবার হাইভোল্টেজ ভবানীপুর বিধানসভাতেই।
গুজরাটি অধ্যুষিত আবাসনে সাপ ধরে আবার নিজের দলের প্রার্থী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে ভোটও চেয়ে নিচ্ছেন। এমনই ছবি দেখা গেল, ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের উড়িয়া পাড়ার একটি আবাসনে। উল্লেখ্য এই আবাসনেই বিরোধী দলনেতা তথা ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী এসে ভোট প্রচার সেরেছিলেন।
সাপ ধরলেন তৃণমূল কাউন্সিলর অসীম বসু। সাপ ধরে আবার আবাসনের বাসিন্দাদের বলছেন, আমরাই আছি, আমরাই থাকব। অন্য কেউ আসবে না। আবার এক গুজরাটি দম্পতিকে গুজরাটি ভাষায় বলছেন, সাপ ধরে দিলাম। মুখ্যমন্ত্রীকে দেখবেন কিন্তু। আশীর্বাদ করবেন। ছবি সামনে আসতেই তা নিয়ে স্বভাবতই শুরু হয়েছে বিস্তর চর্চা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ভবানীপুরে আগামীদিন যে বড় রাজনৈতিক যুদ্ধ হতে চলেছে, তাতে যে কোনও কৌশল অবলম্বন করতে পিছপা হচ্ছে না রাজ্যের শাসকদল। বিশেষ করে ভবানীপুরে বারবার স্ট্র্যাটেজিক বৈঠক, নানান কৌশলের মাধ্যমে চলছে প্রচার। এবার আবার নয়া সংযোজন সাপ ধরে মুখ্যমন্ত্রীর জন্য ভোট প্রার্থনা!
লোকসভা নির্বাচনে গুজরাটি ভোট ভাঁড়ারে না আসা যে শাসকদলকে রীতিমতো চিন্তায় রেখেছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সেই ৪০ শতাংশ ভোট পুনরায় ঝুলিতে ফিরিয়ে আগেই শুরু হয়ে গিয়েছিল তৎপরতা। তাই বিধানসভা ভোটের দামামা বাজাতেই চেষ্টায় কোনও রকম ফাঁক রাখতে চাইছেন না রাজ্যের শাসকদলের প্রতিনিধিরা। এমনটাই মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বড় অংশের।