Bikash on mamata: ‘যখন মমতার কেউ থাকবে না, তাঁর পক্ষে দাঁড়ানোর জন্য আমি থাকব’, কারণও ব্যাখ্যা করলেন বিকাশ
তিনি আরও বলেন, "উনি যদি এলাকার সিপিএম কর্মীদের মারধর করেছেন বা খুন করেছেন, আর তার হয়ে আমি সওয়াল করছি সেটা নিয়ে মামলা করলে হত। এখন যদি প্রমাণিত হয় আয় বহির্ভূত সম্পত্তি রয়েছে তার জন্য IT আছে, সিবিআই আছে...। এটা সুক্ষ বোধ। এটাতে রাজনৈতিক সংকীর্ণতা প্রকাশ পায়।"

কলকাতা: তিনি বারবার বলেছেন, দল আর পেশা দুটো আলাদা। এই দু’টোকে গুলিয়ে ফেলা মানে বোকামি। আর কেউ যদি বিচার প্রার্থনা করে তাঁর কাছে আসেন, নীতিগত পার্থক্য না থাকলে তিনি সাহায্য করবেন। স্পষ্ট ভাষায় ঠিক এমনই বললেন আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। এক্ষেত্রে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও সাহায্য করবেন প্রয়োজনে বলে মন্তব্য তাঁর।
এক সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিকাশরঞ্জন বলেছেন, বামপন্থীদের ধর্মই হল মানুষের পাশে দাঁড়ানো। তখনই তিনি বলেন, “যে পেশায় আমি আছি সেখানে নীতিগত সংঘর্ষ না থাকলে বিচার দেওয়া আমার দায়িত্ব। যখন মমতার কেউ থাকবে না, তাঁর পক্ষে দাঁড়ানোর জন্য আমি থাকব। বামপন্থীদের নীতি মানুষের সব সময় পাশে থাকা। সে অপরাধী হলে তার অপরাধ বিচার হবে, সাজা হবে। কিন্তু একজন মানুষ আইনের সাহায্য চাইতে এলেন আর আমি বামপন্থী আইনের সাহায্য দেব না। এমন হবে না।”
প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সি ও তাঁর স্বামীর হয়ে মামলা লড়েছেন বিকাশ ভট্টাচার্য। আর তারপর থেকেই সিপিএম-এর একাংশে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। প্রচুর কর্মী সমর্থক এতে ব্যথিত হয়েছেন। বিকাশ বলেন, “তাঁরা খানিকটা অবুঝ। তাঁদের মধ্যে যুক্তি বোধ কাজ করে না। তিনি তৃণমূলের নেতা হতে পারেন। তাঁর মধ্যে যুক্তিবোধ কাজ করে না। এই মামলায় মামলাকারী কাউকে খুন করেছেন, অভিযোগ লোপাট করেছেন এমনটা নয়। বিজেপির এমএলএ অভিযোগ করেছেন মামলাকারী আয় বহির্ভূত সম্পত্তি করেছেন। ফলে আয় বহির্ভূত সম্পত্তি করায় ক্রিমিন্যাল অফেন্স হয় না। সেটা নিয়ে সওয়াল হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “উনি যদি এলাকার সিপিএম কর্মীদের মারধর করেছেন বা খুন করেছেন, আর তার হয়ে আমি সওয়াল করছি সেটা নিয়ে মামলা করলে হত। এখন যদি প্রমাণিত হয় আয় বহির্ভূত সম্পত্তি রয়েছে তার জন্য IT আছে, সিবিআই আছে…। এটা সুক্ষ বোধ। এটাতে রাজনৈতিক সংকীর্ণতা প্রকাশ পায়।”
যদিও, টিভি ৯ কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিকাশবাবু অন্য কথা বলেছিলেন। তিনি বলেন, “অভিষেক-মমতা দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত। এরা বিজেপির নেতৃত্বে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ ভাবে দুর্নীতি করেছে। এরা তো চুনোপুঁটি। ইতিপূর্বেই আমি মুকুল রায়ের হয়ে মামলা লড়েছি। উনি তো তৃণমূল থেকে বিজেপি হয়েছিলেন, বিজেপি থেকে তৃণমূল হন। সব্যসাচী দত্তের হয়ে মামলা করেছি। ওরা রাজনৈতিক ভাবে জামা পালটাতে পারে, কিন্তু আমার যে পেশাগত আদর্শ হল, যে আসবেন, তাদের সঙ্গে যদি দর্শনগত ভাবে বিরোধ না হয়, তাহলে আমি মামলা লড়ব।”
