Sonali Guha: ‘আমি বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের গলা টিপতে গিয়েছিলাম…’, কেন সোনালী গুহ এমন কাজ করতে গেলেন?
Sonali Guha: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এককালীন 'ছায়া সঙ্গী' ছিলেন। তবে সে কয়েক বছর আগের কথা। এখন তিনি বিজেপি-তে। কথা হচ্ছে প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার তথা বর্তমান বিজেপি নেত্রী সোনালী গুহকে নিয়ে।

কলকাতা: আজকাল আর বঙ্গের সক্রিয় রাজনীতিতে সেভাবে দেখা যায় না তাঁকে। কিন্তু এক সময় বাংলার রাজনীতিতে খুবই চর্চিত ছিলেন। তিনি সোনালী গুহ। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এককালীন ‘ছায়া সঙ্গী’ ছিলেন। তবে সে কয়েক বছর আগের কথা। এখন তিনি বিজেপি-তে। কথা হচ্ছে প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার তথা বর্তমান বিজেপি নেত্রী সোনালী গুহকে নিয়ে। এ দিন, টিভি ৯ বাংলায় এক সাক্ষাৎকারে তাঁর মুখে ফের শোনা গেল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গ। সঙ্গে নিজেই তুললেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেবের কথা।
এ দিন সোনালী বলেন, “আমি বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের গলা টিপতে গিয়েছিলাম। কারণ নানুরে মমতাদিদিকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। সেই সময় পঙ্কজ বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন বিরোধী দলনেতা। উনি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) তাঁর ফোনে আমায় ধরলেন। আমি বললাম, কী হয়েছে দিদি? তখন উনি বললেন, সোনালী বুদ্ধ ভট্টাচার্যকে ছাড়বি না।”
সোনালীর দাবি, সেই সময় নানুরে বোমাবাজি হচ্ছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তখন ঘটনাস্থলে ঢুকতে পারছিলেন না। এরপর সোনালী বলেন, “আমি এই খবর পাওয়ার পর বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে বললাম, এই বুদ্ধ আপনার কমরেডরা বোমাবাজি করছেন। আমাদের নেত্রী ঢুকতে পারছেন না। আমি দিদিকে বললাম তুমি পঙ্জদাকে বললে না কেন? দিদি বলল পঙ্কজের সঙ্গে বুদ্ধবাবুর আঁতাত আছে। বুদ্ধবাবু তখন তাঁর সেক্রেটারি ভাস্কর লায়েককে বললেন ওরা কেন ঢুকতে পারছেন না।”
এরপর সোনালী বলেন, “তারপর বুদ্ধবাবু ওঁর সেক্রেটারি ভাস্কর লায়েকের সঙ্গে কথা বলেন। সেই সময় বুদ্ধদেব লায়েককে প্রশ্ন করেন, সোনালীরা কী বলছেন ওদের নেত্রী নানুরে ঢুকতে পারছেন না?” সোনালী এও বলেছেন, “বুদ্ধবাবু আমায় সম্মান দিতেন। আমার কথা শোনার পর উনি বললেন, দাঁড়ান সোনালী। আপনার নেত্রীকে বলুন ১০ মিনিটের মধ্যে বোমাবাজি বন্ধ হবে।”
সোনালীর দাবি, এরপরের দিনই এটাই খবরের কাগজের লিড হল, “বুদ্ধবাবু বিরোধী দলের একজন এমএলকে ডেকে বললেন, দাঁড়ান সোনালী আপনার নেত্রীকে বলুন ১০ মিনিটের মধ্যে বোমাবাজি বন্ধ হবে। তাতেও দেখছি মমতাদির গাত্র জ্বালা।” সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষ বলেন, “দলবদল হওয়ার পরই পর্দার পিছনের ঘটনা জানা যাচ্ছে। আর তারপরই জানতে পারছি নথিভুক্ত থাকছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর নেতা নেত্রী কতটা নোংরা। আস্তাকুঁড়েতেও তাঁদের স্থান হবে না।”

