e

কলকাতা: ভোটার তালিকার নিবিড় পরিমার্জনকে হাতিয়ার করে মাধ্য়মিক পরীক্ষা বানচাল করার ছক কষেছিল কেন্দ্র, বড় অভিযোগ তুললেন খোদ রাজ্য়ের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। শনিবার তৃণমূল ভবনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই অভিযোগ তোলেন তিনি। সেই সময় তাঁর সঙ্গেই উপস্থিত ছিলেন ব্য়ারাকপুরের সাংসদ পার্থ ভৌমিক। সুর সপ্তমে তুলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানানোর পাশাপাশি ব্রাত্যর মুখে শোনা যায় মাধ্যমিক বানচালের জন্য হওয়া ‘ষড়যন্ত্রের’ কথাও।
শিক্ষামন্ত্রীর কথায়, ‘মাধ্যমিক পরীক্ষা যাতে বানচাল করা যায়, সে জন্য নানা রকম চেষ্টা চালানো হয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার ও নির্বাচন কমিশনের তরফে। কিন্তু আমরা আত্মপ্রত্যয়ী। আমরা আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলাম। রাজ্যের পরীক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করছি, কোনও চিন্তা নেই।’
ব্রাত্য়ের মতে, গোটাটাই উদ্দেশ্য়প্রণোদিত এবং ষড়যন্ত্রমূলক। এদিন তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকার চাইছে না বাঙালি ছেলেমেয়েরা পরীক্ষায় ভাল ফল করুক। বিজেপি চায় বাঙালি পড়ুুয়াদের কেরিয়ার ধ্বংস হোক। কিন্তু কোনও ভয় নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় আছেন, আমরা আছি।’
আর মাত্র একদিনের ব্যবধান। সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে মাধ্যমিক পরীক্ষা। চলতি বছর পরীক্ষা দিতে চলেছে ৯ লক্ষের অধিক পড়ুয়া। কিন্তু এই চূড়ান্ত আবহে এমন চক্রান্তের কথা কেন তুলে ধরলেন শিক্ষামন্ত্রী? কোন সূত্র ধরেই মাধ্য়মিক পরীক্ষা নিয়ে এমন উদ্বেগের আবহ তৈরি হয়েছে? বলে রাখা প্রয়োজন, এসআইআর পর্বের শুরু থেকে মাধ্য়মিক নিয়ে সংশয় প্রকাশ করতে দেখা গিয়েছিল রাজ্য শিক্ষামন্ত্রীকে। কারণ, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বিএলও হিসাবে নিযুক্ত করেছিল কমিশন। শুধু শিক্ষকরা নন, এইআরও হিসাবে নিবিড় পরিমার্জনের কাজে যোগ দিয়েছিলেন স্কুল পরিদর্শকরাও। যার জেরে পরীক্ষায় সামাল দেবে কে, এই নিয়ে তৈরি হয়েছিল প্রশ্ন।
যদিও কমিশন সূত্রে খবর, রাজ্যের বেশির ভাগ কেন্দ্রে শুনানির কাজ একেবারে শেষ হয়ে গিয়েছে। আর এইআরও বা স্কুল পরিদর্শকদের নিয়ে রাজ্যের সিইও দফতরের সাফ কথা, জেলাশাসকরা চাইলেই এইআরও পরিবর্তন করতে পারেন, গোটা সিদ্ধান্ত তাঁদের ব্যক্তিগত। এই নিয়ে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের কোনও ভূমিকা নেই।