
কলকাতা: আনন্দপুরে (Anandapur) আগুনে ঝলসে মৃত্যু একের পর এক শ্রমিকের। সেই আগুনে আরও ঘি পড়েছে যখন এত বড় আগুন লাগার ঘটনার পরও রাজ্যের দমকল মন্ত্রী সুজিত বসুকে দেখা যায়নি ঘটনাস্থলে। বিরোধীরা সেই নিয়ে দেগেছে তোপ। আর এবার সেই আনন্দুপুরে গেলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। এই ঘটনায় রাজ্যের প্রশাসনকে নিশানা করেছেন রাজ্যপাল। সঙ্গে একটি অ্যাডভাইজারি আনবেন বলেও জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।
এ দিন, যেখানে আগুন লেগে গিয়েছিল এদিন সেখানেই পৌঁছন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। গোটা এলাকা পরিদর্শনে করেন তিনি। তারপর বলেন, “অনেক জীবন শেষ হয়ে গিয়েছে। কোনও স্টেক হোল্ডার দায় এড়াতে পারে না। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আইন রক্ষক বাহিনী নিজের দায়িত্ব পালন করেনি। নজরদারি ছিল না। অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা অনুপস্থিত ছিল। আমি চোখ বন্ধ করে থাকতে পারি না। এটা ক্রমাগত হতেই থাকবে সেটা বরদাস্ত করা যায় না। শহরে এবং রাজ্যে এই ধরনের ঘটনা ঘটেই চলেছে। আমি ফ্যাক্ট ফাইন্ড করতে এসেছি।”
তিনি আরও বলেন, “এটা খুব ভয়ংকর দৃশ্য। মানুষের মূল্যবান জীবন চলে গেল। আগুন লাগার সময়ে এবং পরে কিছু স্টেপ নিতে হত, যেটা এখানে নেওয়া হয়নি। প্রশাসন এবং এই গোডাউনের মালিকপক্ষের সবার সমান দায় আছে। আইনের সঠিক প্রয়োগ করে কড়া নজরদারি করে, অগ্নি সুরক্ষা ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করার প্রয়োজন ছিল। এখানে খামতি ছিল। এখানে এটা প্রথম নয়। দুর্ঘটনা নয়, মানুষের ভুল। রাজ্যপাল হিসেবে একটি অ্যাডভাইজারি আমি খুব দ্রুত আমি আনব। সবার চোখ কান খোলা রাখতে হবে। “সফট স্টেট” হতে দেওয়া যাবে না। যেখানে নিয়মের পালন হয় না।” তিনি এও বলেন, “আমি কাউকে দোষ দিচ্ছিনা, কিন্তু প্রশাসনের খামতি ছিল, নয়তো এই ধরনের ঘটনা বারবার হয় না।”
তবে আজ আনন্দপুরে পৌঁছনোর আগে ব্যারাকপুর গান্ধিঘাটে যান রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। মহত্মা গান্ধীর প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ব্যারাকপুর গান্ধী ঘাটে আসা। রাজ্য সরকারে পক্ষ থেকে দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু রয়েছেন রাজ্যপালের সঙ্গে। সেখান থেকে তিনি বলেন, “প্রশাসনের উচিত আরও সতর্ক হওয়া।”
এটা দুঃখজনক ঘটনা। আমাদের ডিপার্টমেন্ট খুবই তৎপরতার সঙ্গে কাজ করেছে। আর বিরোধীরা কে কোথায় কী বলবে সেই সব কথার উত্তর দিতে নেই। আর দুর্ঘটনা ঘটতেই পারে। এর আগে গোয়াতে একটা ঘটনায় পঁচিশজন মারা গিয়েছে। দিল্লিতেও মারা গিয়েছে। দুর্ঘটনা হতে পারে। তবে যাঁরা ব্যবসা করেন তাঁদেরও দায়িত্ব আছে। আর সরকার চেষ্টা করে সব রকম ভাবে নিরাপত্তা দেওয়া।”