Calcutta High court on Hawker Eviction: উচ্ছেদের আগে বিকল্প জায়গা বেছে জানাবে রেল, হকার মামলায় বড় নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের
Calcutta High court News: রেলের আইনজীবী ধীরজ ত্রিবেদীর সওয়াল,"১৮৮১ সালে তাঁদের ওই জমি কিনে নেওয়ার ন্যূনতম দাম জমা দেওয়ার নোটিস দেওয়া হয়। আজ পর্যন্ত কেউ জমা দেয়নি।" এরপরই বিচারপতির নির্দেশ, জুন মাস পর্যন্ত কোনও পদক্ষেপ নয়।

কলকাতা: রেলের জায়গা দখল করে যে সকল হকাররা স্টল দিয়েছিলেন বিগত কয়েকদিন ধরেই সেই সকল দোকান ভাঙা হচ্ছিল। বুলডোজার চালিয়ে স্টেশনে-স্টেশনে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল একাধিক দোকান। সেই নিয়েই মামলা করা হয় কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court)। বুধবার ছিল এমন ২৫ টি মামলার সামগ্রিক শুনানি। সেখানেই কোর্ট বলেছে, আপতত এই মাসে উচ্ছেদ করা যাবে না হকারদের।
মূলত, বালিগঞ্জ, বামনগাছি, বারুইপুর, ডানকুনি, গুমা, বনগাঁ, দুর্গানগর, মথুরাপুর, যাদবপুর সহ পঁচিশটি স্টেশনে হকার উচ্ছেদ নিয়ে একাধিক মামলাকারী কোর্টের দ্বারস্থ হন। তাঁদের হয়ে মামলা লড়েন আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য ও ফিরদৌস শামিম। আজ হাইকোর্টের বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চে ছিল সেই মামলার শুনানি।
কোর্টের কী পর্যবেক্ষণ?
আদালত বলছে, রেল যাঁদের বসার অনুমতি দিয়েছিল তাঁদের উচ্ছেদের ক্ষেত্রে আগামী দিনে রেলকে নোটিস দিয়ে জানাতে হবে। উচ্ছেদ করার আগে বিকল্প জায়গার বিষয়টি রেলকে বিবেচনা করে আদালতকে জানাতে হবে। রেল স্টেশন সংলগ্ন যে সকল জায়গায় উচ্ছেদ নোটিস দেওয়া হয়েছে, সেই জমি বাস্তবে রেলের কি না প্রশ্ন তুলেছে কোর্ট। এই অবস্থায় আগে রেলকে এইসব জায়গায় ফিজিক্যাল ভেরিফিকেশন করে আগামী দিনে রিপোর্ট দিতে হবে।
আদালতে সওয়াল-জবাব চলাকালীন মামলাকারীর আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, “যেভাবে উচ্ছেদ করা হচ্ছে তাতে মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। কেন্দ্র বা রাজ্য কেউ এই অধিকার কেড়ে নিতে পারে না। জীবনের অধিকার, কর্মসংস্থানের অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। সমাজের দুর্বল শ্রেণির মৌলিক অধিকার কোনও কারণ না দেখিয়ে খর্ব করা যায় না। রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকার উচিত তাদের সাহায্য করা। ঠেলা গাড়ি, ঝুপড়ি দোকান করে হাজার হাজার পরিবার সংসার চালাচ্ছে। বলা ভালো চালাতে বাধ্য হচ্ছে। তাঁদের উপর আরও চাপ বাড়ানো সরকারের কাজ হতে পারে না। রাষ্ট্র তাঁদের শত্রু হিসেবে আচরণ করতে পারে না। অথচ এখানে হঠাৎ বুলডোজার পাঠিয়ে ভেঙেচুরে সব শেষ করে দেওয়া হচ্ছে। প্রতিরাতে কোনও না কোনও জায়গায় লোকজন রাত পাহারা দিয়ে বসে থাকছেন। তাতেও বুলডোজার হামলা থেকে বাঁচতে পারছে না।” এরপর বিকাশ ভট্টাচার্য সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের উল্লেখ করেছেন। কোর্টে তিনি সওয়াল করেন, “যখন কেউ রেলের জমিতে বসে পড়ছে, তখন তাঁকে বাধা না দিলে ২-৩ দশক পর তাঁকে উচ্ছেদ করা যাবে না, এটা সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর্যবেক্ষণে আছে।”
বিকাশের বক্তব্যের পর পাল্টা বিচারপতি বলেন, “রেলের জায়গা,প্ল্যাটফর্ম যদি দখল করে দোকান বসে, সেক্ষেত্রে রেল কি তাদের তুলবে না? কিছু ক্ষেত্রে রেল স্টল করে বসার ব্যবস্থা করেছিল। তাদের উচ্ছেদের ঘটনা কি আছে? লাইসেন্স আছে এমন লোকেদের তুলেছে এটা বলতে পারবেন?”
অন্যান্য, মামলাকারীর আইনজীবী ফিরদৌস শামিম বলেন, “বহু ক্ষেত্রে প্যাসেঞ্জার অভিযোগ করছে বলে প্ল্যাটফর্ম ও রেলের রাস্তা থেকে উচ্ছেদ হচ্ছে। বারুইপুরে ১৯৯৫ থেকে ৪০ টি পরিবার রেলের লাইসেন্স নিয়ে রয়েছে। কোনও তারিখ, সই ছাড়া তাদেরও নোটিস দেওয়া হয়েছে।
আইনজীবী শামিমের আরও সওয়াল, “স্টেশন থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে ডানকুনিতে হকাররা বসেন। সেখানেও নোটিস দেওয়া হয়েছে। এখানে ৩২ টি পরিবারের দোকান, বাসস্থান আছে।”
রেলের আইনজীবী ধীরজ ত্রিবেদীর সওয়াল,”১৮৮১ সালে তাঁদের ওই জমি কিনে নেওয়ার ন্যূনতম দাম জমা দেওয়ার নোটিস দেওয়া হয়। আজ পর্যন্ত কেউ জমা দেয়নি।” এরপরই বিচারপতির নির্দেশ, জুন মাস পর্যন্ত কোনও পদক্ষেপ নয়।
