
কলকাতা: হলুদ হয়েছে পাতা। যেখান থেকে উঁকি মারে হাঁদা-ভোঁদা, নন্টে-ফন্টে, কেল্টু আর বাঁটুলরা। সৃষ্টিকর্তা নেই, রয়ে গিয়েছে তাঁর সৃষ্টিরা। কিন্তু সেই সৃষ্টি নিয়ে জল গড়াল আদালতে। বাংলা চিত্রকাহিনী বা কমিকসের প্রাণপুরুষ প্রয়াত নারায়ণ দেবনাথের কাজ নিয়ে হাইকোর্টে চলল শুনানি। মামলা দায়ের করেছিল তাঁরই পরিবার। কিন্তু কেন?
আইনের খবর পরিবেশনকারী সংবাদমাধ্যম ‘লাইভ ল’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, কলকাতার এক নামী প্রকাশনী সংস্থার সঙ্গেই তৈরি হয় কপিরাইট জনিত বিবাদ। নারায়ণ দেবনাথের প্রয়াণের পর তাঁর উত্তরাধিকার হিসাবে স্ত্রী ও পুত্র নিম্ন আদালতে একটি বাণিজ্যিক মামলা দায়ের করেন। তাঁদের অভিযোগ, ২০১২ সালে একটি চুক্তির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে নারায়ণ দেবনাথের সৃষ্ট কমিকসগুলি প্রকাশনা ও বিক্রির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই চুক্তির মেয়াদ ছিল দু’বছর। যা ফুরিয়ে যাওয়ার পড়েও সংশ্লিষ্ট প্রকাশনা সংস্থা নারায়ণ দেবনাথের সৃষ্টিগুলিকে নিজেদের বাণিজ্যিক স্বার্থে ব্যবহার করেছিল। যা কপিরাইট আইনের লঙ্ঘন।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত প্রকাশনা সংস্থার উপর নিষেধাজ্ঞা চাপায় নিম্ন আদালত। সাফ জানিয়ে দেয়, আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রয়াত নারায়ণ দেবনাথের কোনও সাহিত্য বা শিল্পকর্ম ছাপানো, প্রকাশ করা বা বিক্রি করা যাবে না। বইমেলার ঠিক আগে এই নির্দেশ পেয়ে মাথায় হাত পড়ে প্রকাশনা সংস্থার কর্তৃপক্ষের। হাইকোর্টের কাছে দ্বারস্থ হয় তাঁরা। পাল্টা কলকাতা হাইকোর্ট সেই নিম্ন আদালতের নির্দেশকেই বহাল রাখে।
সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সব্য়সাচী ভট্টাচার্য এবং বিচারপতি সুপ্রতিম ভট্টাচার্যের বেঞ্চে চলছিল এই মামলার শুনানি। লাইভ ল-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট প্রকাশনা সংস্থা এজলাসে মোট তিনটি যুক্তিকে আধার করে। প্রথম সময়জ্ঞান, তাঁদের দাবি, আন্তর্জাতিক বইমেলা শুরুর আগে এই নিষেধাজ্ঞা তাঁদেরকে এক ভয়াবহ ব্যবসায়িক ক্ষতির দিকে ঠেলে দেব। দ্বিতীয়, পরিবার এই মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার কথা জেনেও, কোনও প্রতিবাদ করেনি। কিন্তু বইমেলার ঠিক আগে কার্যত উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তৃতীয়, উইলের চূড়ান্ত প্রোবেট পাওয়ার আগেই এই মামলা তাঁরা করতে পারবেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলে সংশ্লিষ্ট সংস্থার সওয়ালকারী।
পাল্টা ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, ‘বিচারকের নির্দেশের পর এই মামলায় বিকল্প কোনও নির্দেশ দেওয়ার জায়গা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।’ প্রকাশনা সংস্থার সমস্ত দাবি খারিজ করে হাইকোর্টের আরও পর্যবেক্ষণ –