
কলকাতা: ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের বাড়ির সামনে গিয়ে পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয় শর্মা পালের ‘হুঁশিয়ারি’ নিয়ে শোরগোল পড়েছে রাজ্যে। এবার কলকাতার মেয়র তথা কলকাতা বন্দরের তৃণমূল প্রার্থী ফিরহাদ হাকিমের (Firhad Hakim) বাড়িতে পৌঁছে গেল কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ পর্যবেক্ষক। তাও গভীর রাতে। আর এই নিয়েই কেন্দ্রীয় বাহিনী ও বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হলেন ফিরহাদ।
কী বললেন ফিরহাদ হাকিম?
রাত পোহালেই কলকাতা-সহ ৭ জেলার ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ। প্রচার শেষ। ভোটের আগের দিন কিছুটা খোশমেজাজেই দেখা গেল কলকাতা বন্দরের প্রার্থী ববি হাকিমকে। টিভি৯ বাংলাকে এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় গভীর রাতে তাঁর বাড়িতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর আসার কথা জানালেন। ববি বলেন, “গতকাল রাত পৌনে একটার সময় কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং পুলিশ পর্যবেক্ষক চেতলায় আমার বাড়িতে আসে।” নির্বাচনের সময় যাতে কোনও অশান্তি না হয়, সেই বিষয়ে পুলিশ পর্যবেক্ষক এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী রীতিমতো সতর্ক করে ফিরহাদকে। একইসঙ্গে বিরোধী দলের এজেন্টদের বুথে বাধা দেওয়া হলে ভালো হবে না বলেও রীতিমতো কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে যান পুলিশ পর্যবেক্ষক।
ফিরহাদ হাকিম তাঁদের বলেন, “চেতলায় কোনওদিন কোনও অশান্তি হয় না। এবারেও হবে না।” সেই সময় পুলিশ পর্যবেক্ষক এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর কমান্ডার কলকাতার মেয়রকে বলেন, যদি কোনও সমস্যা না হয়, তাহলে ভালো হবে। কিন্তু যদি কোনওরকম অভিযোগ এই এলাকা থেকে আসে, তাহলে ভালো হবে না বলেও রীতিমতো কড়া ভাষায় সতর্ক করে যান পর্যবেক্ষক।
গতকাল গভীর রাতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর তাঁর বাড়িতে আসা নিয়ে ফিরহাদ বলেন, “নকশাল আমলে যেভাবে রাতের অন্ধকারে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তল্লাশি হত, একই ধরনের ছবি দেখা যাচ্ছে। রীতিমতো হুমকি দেওয়া হচ্ছে। যে এলাকায় অশান্তি নেই, সেখানেও ঝামেলা তৈরি করা হচ্ছে।”
ফিরহাদ আরও বলেন, “চেতলায় বোমা-গুলি তো দূরের কথা, একটা ইটও কোনওদিন পড়েনি। এই কেন্দ্রীয় বাহিনীর অতিসক্রিয়তা বিজেপির পক্ষে ক্ষতিকর হচ্ছে। কারণ, মানুষকে ভয় দেখিয়ে মন জয় করা যায় না। আর শান্তিপূর্ণ এলাকায় এই অতিসক্রিয়তা মানুষের মনে ভয় তৈরি করছে। ভাবছেন, যদি সত্যি সত্যি আসে, তাহলে কি মিলিটারি রুল হবে?”
বিজেপিকে নিশানা করে কলকাতার মেয়র বলেন, “যেভাবে কেন্দ্রীয় বাহিনী দাপট দেখাচ্ছে, হুমকি দিচ্ছে, মানুষ কিন্তু, খুব রেগে আছেন। ভালোভাবে নিচ্ছেন না। আমার পাড়ার লোকেরা যারা হয়তো অন্য রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাসী, তাঁরাও এটা ভালোভাবে নিচ্ছেন না।”