Suvendu Adhikari: এখন তো তুলসী, টিকা, টিকি, ধুতিরই সরকার: শুভেন্দু
বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, এর আগে মঠ কর্তৃপক্ষের তরফে বেশ কয়েকটি সমস্যার কথা তাঁকে জানানো হয়েছিল। রাধাষ্টমীর দিন মঠে এসে ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করে সেই সমস্যাগুলির সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কলকাতা: রাধাষ্টমী উপলক্ষে বাগবাজার গৌড়ীয় মঠে গিয়ে একাধিক উন্নয়নমূলক পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। মঠের পরিকাঠামো উন্নয়ন থেকে শুরু করে তীর্থক্ষেত্র সার্কিটের আওতায় আনা—একাধিক বিষয়ে উদ্যোগের কথা জানান তিনি।
বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, এর আগে মঠ কর্তৃপক্ষের তরফে বেশ কয়েকটি সমস্যার কথা তাঁকে জানানো হয়েছিল। রাধাষ্টমীর দিন মঠে এসে ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করে সেই সমস্যাগুলির সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাগবাজার গৌড়ীয় মঠের ঐতিহাসিক গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, বিশ্ববন্দিত শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী গোস্বামী মহারাজ প্রতিষ্ঠিত এই মঠের দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। মঠের প্রায় ৪০টি শাখা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তীর্থক্ষেত্র সার্কিটে জায়গা পাবে বাগবাজার গৌড়ীয় মঠ
মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্য সরকার এবার বাজেটে তীর্থক্ষেত্র সার্কিটের পরিকল্পনা করেছে। সেই সার্কিটের মধ্যে কলকাতার ঐতিহ্যবাহী বাগবাজার গৌড়ীয় মঠকেও অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, “মঠের ঐতিহ্য, পবিত্রতা ও পরিবেশ বজায় রেখে উন্নয়ন করা হবে। প্রশাসনের তরফে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।”
নতুন প্রকল্পের পরিকল্পনা
মঠকে কেন্দ্র করে নতুন একটি প্রকল্প তৈরির কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রকল্পের প্ল্যান অনুমোদনের জন্য কলকাতা পুরসভায় যে অর্থ জমা দেওয়ার কথা ছিল, তা মকুব করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত প্রকল্পে থাকতে পারে—
ছোট পার্কিংয়ের ব্যবস্থা
মাল্টিপারপাস অডিটোরিয়াম
মৃদঙ্গ শেখানোর প্রশিক্ষণ কেন্দ্র
যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানমুখী দক্ষতা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা
ছাত্রাবাস
বৃদ্ধাবাস
ভবিষ্যতে আরও বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিকাঠামো
মুখ্যমন্ত্রী জানান, মঠ কর্তৃপক্ষের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাগুলিকে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার সহযোগিতা করবে।
ধর্মীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি রক্ষার বার্তা
বক্তব্যে রাজ্যের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার কথাও বলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, দেশের জাতীয়তাবাদ ও দেশপ্রেমের পাশাপাশি ভারতের সনাতন সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
একইসঙ্গে ভাষা, জাতি বা বিভিন্ন প্রথার ভিত্তিতে বিভাজনের চেষ্টা না করার বার্তা দেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গে বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষ নিজেদের মতো করে ঈশ্বরের আরাধনা করেন। বিভাজনের পরিবর্তে ঐক্যের উপর জোর দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “শেষ পর্যন্ত আমরা সবাই ভারতীয়, আমরা সবাই হিন্দুস্তানি।”
বাগবাজার গৌড়ীয় মঠের সঙ্গে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু এবং মদনমোহন মালব্যের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের ঐতিহাসিক যোগাযোগের কথাও বক্তব্যে তুলে ধরেন তিনি। এমন ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠানে তাঁকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য মঠ কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
শুভেন্দু বলেন, “এখানে কে না এসেছেন। নেতাজি সুভাষ চন্দ্র থেকে প্রণব মুখোপাধ্যায়, নরেন্দ্র মোদী সকলে। আমার আসার বাকি ছিল। এসে গেলাম। এখানে অনেক কাজ করেছি। আরও কাজ বাকি আছে। আর সরকার তো ওঁদেরই। এখন তো তুলসী, টিকা, টিকি, ধুতিরই সরকার।”
