AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Debangshu Bhattacharya: সেদিন কেন শুয়ে পড়েননি মমতার চৌকাঠে? আজ জানালেন দেবাংশু

Debangshu Bhattacharya on TMC Turncoat Leaders: নিজের দলের নেতৃত্বকে খোঁচা দিয়ে দেবাংশু লিখেছেন, 'আমি আজও নিশ্চিত, দল যদি কোনওদিন ক্ষমতায় ফেরে, আবারও সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়রাই জায়গা পাবেন, রাজত্ব করবেন...। কারণ এই দল ২০১৯ থেকে শিক্ষা নেয়নি। ২০২১ এর ভোটের আগে দল ছেড়ে চলে যাওয়া ব্যক্তিদের রেড কার্পেট পেতে স্বাগত জানিয়েছিল...। তখনই দলের প্রত্যেক স্তরে বার্তা চলে গিয়েছিল, বিপদে এই দলের সঙ্গ ছাড়লেও ভালো সময় পুনরায় ফেরত আসা যায়, নেতা হওয়া যায়...।'

Debangshu Bhattacharya: সেদিন কেন শুয়ে পড়েননি মমতার চৌকাঠে? আজ জানালেন দেবাংশু
সোশ্যাল মিডিয়ায় কী লিখলেন দেবাংশু ভট্টাচার্য?Image Credit: TV9 Bangla
| Updated on: Jun 13, 2026 | 5:55 PM
Share

কলকাতা: ‘বেইমানরা যদি ফিরে আসে, দিদির দরজায় শুয়ে তাদের প্রয়োজনে আটকাব।’ একুশের নির্বাচনের সময় একের পর এক তৃণমূল নেতা যখন বিজেপিতে যোগ দিচ্ছিলেন, সেইসময় এই কথাটা বলেছিলেন তিনি। ৫ বছর আগে বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের বিপুল জয়ের পর একের পর এক নেতা ফিরে আসেন ঘাসফুল শিবিরে। তাঁদের দলে স্বাগত জানানো হয়। আর তা নিয়ে বারবার খোঁচা খেতে হত তাঁকে। এবার নিজের সেই কথাটাই তুলে ধরে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বকে নিশানা করলেন দেবাংশু ভট্টাচার্য। দল সেইসময় তাঁকে চুপ করিয়ে দিয়েছিল বলে সরব হলেন তৃণমূলের এই যুব নেতা। 

কী বললেন দেবাংশু ভট্টাচার্য?

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে হুগলির চুঁচুড়া আসনে প্রার্থী হয়েছিলেন দেবাংশু। হেরে যান। দলেরও ভরাডুবি হয়েছে। আর রাজ্যে ক্ষমতা হারাতেই তৃণমূলে ভাঙন শুরু হয়েছে। বিধানসভায় বিক্ষুব্ধ বিধায়করা ‘নব তৃণমূল ব্লক’ তৈরি করেছেন। আবার লোকসভায় বিক্ষুব্ধ নেতারা নতুন ব্লক তৈরি করেছেন। শনিবার সেই বিদ্রোহী সাংসদদের তালিকায় যোগ হয়েছে কলকাতা উত্তরের সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম। আর সুদীপ শিবির বদলাতেই কুণাল ঘোষের মতো সরব হলেন দেবাংশুও।

এদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় দেবাংশু লিখেছেন, ‘সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য তাপস রায়কে বঞ্চিত করা হয়েছিল। প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে তার সভাপতিত্ব কেড়ে নেওয়া হয়েছিল তার সঙ্গে আলোচনা না করেই। তাপস রায় আজ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ও এনডিএ..।’

সুদীপের জন্যই সজল ঘোষও বিজেপিতে গিয়েছেন বলে দাবি করে দেবাংশু লিখেছেন, ‘সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য সজল ঘোষরা দল থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের চ্যালাদের কারসাজিতে সজল ঘোষকে দরজা ভেঙে বের করে আনা হয়েছিল, যা গোটা কলকাতা দেখেছিল! আজ সজল ঘোষ কাউন্সিলর, বিধায়ক, সম্ভবত ভবিষ্যতের মেয়রও.. আর যার জন্য এত কিছু, সেই সুদীপ এনডিএ!’

দীনেশ ত্রিবেদী ও পার্থ ভৌমিকের কথা উল্লেখ করে দেবাংশু লিখেছেন, ‘দীনেশ ত্রিবেদীর জন্য প্রথমে আমরা অর্জুন সিংকে দূরে সরিয়েছিলাম ২০১৯ সালে। পরে সেই দীনেশই বিজেপিতে চলে গিয়েছিল। পরে যখন ফেরত এসেছিল, তখন পার্থ ভৌমিকের জন্য আমরা দ্বিতীয়বার অর্জুন সিংকে দূরে সরিয়েছিলাম। আজ অর্জুন সিং বিজেপির গুরুত্বপূর্ণ দফতরের ক্যাবিনেট মিনিস্টার। আর পার্থ ভৌমিকও এনডিএ…।’

‘দল ক্ষমতায় ফিরলে সুদীপরা জায়গা পাবেন’

এরপরই নিজের দলের নেতৃত্বকে খোঁচা দিয়ে দেবাংশু লিখেছেন, ‘আমি আজও নিশ্চিত, দল যদি কোনওদিন ক্ষমতায় ফেরে, আবারও সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়রাই জায়গা পাবেন, রাজত্ব করবেন…। কারণ এই দল ২০১৯ থেকে শিক্ষা নেয়নি। ২০২১ এর ভোটের আগে দল ছেড়ে চলে যাওয়া ব্যক্তিদের রেড কার্পেট পেতে স্বাগত জানিয়েছিল…। তখনই দলের প্রত্যেক স্তরে বার্তা চলে গিয়েছিল, বিপদে এই দলের সঙ্গ ছাড়লেও ভালো সময় পুনরায় ফেরত আসা যায়, নেতা হওয়া যায়…।’

নিজের পুরনো কথা মনে করালেন দেবাংশু-

একুশের বিধানসভা নির্বাচনের সময় দলত্যাগী নেতাদের আর যাতে তৃণমূলে ফেরত না নেওয়া হয়, সেই আর্জি জানিয়েছিলেন দেবাংশু। সেকথা স্মরণ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, ‘বেইমানরা যদি ফিরে আসে দিদির দরজায় শুয়ে তাদের প্রয়োজনে আটকাব। একুশের ভোট প্রচার চলাকালীন এই কথা বলার পর যখন একের পর এক দলত্যাগীরা দলে ফিরেছিল, সব থেকে বেশি মানসিক অত্যাচারের সম্মুখীন আমি হয়েছি সোশ্যাল মিডিয়াতে এবং টেলিভিশন মিডিয়াতে। দলকে বারংবার বলেছিলাম, এদের ফেরত নেওয়া ঠিক হচ্ছে না। দল তখন “পলিসি ডিসিশন”-এর দোহাই দিয়ে চুপ করিয়ে দিয়েছিল! যেকোনও মুহূর্তে এই দলের সঙ্গ ছেড়ে যাওয়া যায়.. সেদিন সেই বার্তাটাই আজকের পরিণতির মূল ভিতিপ্রস্তর স্থাপন করেছিল।’

Follow Us