Desh Banchao Ganamancho: ‘বাংলায় অঘোষিত রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করেছে’, এবার আসরে দেশ বাঁচাও গণমঞ্চ
West Bengal assembly election: কবি শ্রীজাত একটি কবিতা পড়ে শোনান। তিনি বলেন, "এবার লড়াই গণতান্ত্রিক হোক। আমাদের গান স্তব্ধ করা যাবে না।" কমিশনকে নিশানা করে অর্থনীতিবিদ অভিরূপ সরকার বলেন, "প্রশাসনিক রদবদলের কারণে প্রকল্পের কাজ আটকে যাচ্ছে। সিপিআইএম-র সময়ে যে ভোট দেবে তার জন্য কাজ করেছে সিপিআইএম। বর্তমান সরকার সবার জন্য কাজ করছে।

কলকাতা: এসআইআর প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর পরই অফিসারদের বদলি। জাতীয় নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির বিরুদ্ধে নাগাড়ে সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। এবার ভোটের বাংলায় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে গর্জে উঠল দেশ বাঁচাও গণমঞ্চ। এই মঞ্চের সদস্য পূর্ণেন্দু বসু, কবি শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়, পরিচালক হরনাথ চক্রবর্তীরা রবিবার সাংবাদিক বৈঠক করে কমিশনের একাধিক পদক্ষেপের বিরোধিতা করেন। তাঁদের অভিযোগ, “নির্বাচন কমিশন ভোটের আবহে পশ্চিমবঙ্গে অঘোষিত রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করেছে।” বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির ভরাডুবি হবে বলেও দাবি করা হয় এই গণমঞ্চের তরফে।
এদিন সাংবাদিক বৈঠকে পূর্ণেন্দু বসু, শ্রীজাত ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন অর্থনীতিবিদ অভিরূপ সরকার, গায়ক সৈকত মিত্র, পরিচালক হরনাথ চক্রবর্তী, অনন্যা চক্রবর্তী, রাহুল চক্রবর্তী ও দেবমাল্য নন্দীরা। সাংবাদিক বৈঠকে কমিশনকে নিশানা করে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী পূর্ণেন্দু বসু বলেন, “মুখে না বললেও বিজেপির নির্দেশে অঘোষিত রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হয়েছে। কেন এভাবে ভোট করাতে হচ্ছে? যেকোনওভাবে রাজ্য দখল করতে চায়। ধিক্কার জানাই। প্রশাসনিক বদল করা হচ্ছে। সবাইকে এভাবে তুলে নিলে সরকারি পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাবে। প্রভাব পড়বে মানুষের জীবনে।বাইরের থেকে লোকজন নিয়ে এসে সব করাতে চাইছে। বাংলা লুঠ করতে চাইছে।”
কবি শ্রীজাত একটি কবিতা পড়ে শোনান। তিনি বলেন, “এবার লড়াই গণতান্ত্রিক হোক। আমাদের গান স্তব্ধ করা যাবে না।” কমিশনকে নিশানা করে অর্থনীতিবিদ অভিরূপ সরকার বলেন, “প্রশাসনিক রদবদলের কারণে প্রকল্পের কাজ আটকে যাচ্ছে। সিপিআইএম-র সময়ে যে ভোট দেবে তার জন্য কাজ করেছে সিপিআইএম। বর্তমান সরকার সবার জন্য কাজ করছে। যারা টিএমসি নয়, তারাও সুবিধে পাচ্ছে। সেখানে আঘাত আসলে পঙ্গু হয়ে যাবে সব প্রকল্প। তাই প্রতিবাদ হওয়া দরকার।”
শিশু স্বাস্থ্য দফতরের উপদেষ্টা অনন্যা চক্রবর্তী বলেন, “প্রশাসনিক বদলির কারণে এখন সেখানে কোনও সচিব নেই। সেই কারণে অনেক অর্থনৈতিক কাজ আটকে আছে। গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বন্ধ। কী দরকার ছিল দু’জন সেক্রেটারিকেই বদলি করে দেওয়া? ইমারজেন্সি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।প্রতিবাদ দরকার।”
সরব হন গায়ক সৈকত মিত্রও। বলেন, “৭২ ঘণ্টায় এত মানুষের বদলি এবং কার অঙ্গুলি হেলনে হচ্ছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। আড়াই লক্ষ আধা সামরিক বাহিনীর জওয়ান দিয়ে ভোট হচ্ছে এরাজ্যে। নিশ্চয় কোনও উদ্দেশ্য আছে। বাংলা কারও কাছে মাথা নত করেনি। কোনওদিন করবে না। বাংলা জিতবে।”
পরিচালক হরনাথ চক্রবর্তী বলেন, “নির্বাচন কমিশন নিজে রেফারি হয়ে খেলতে শুরু করেছে। খেলতে গিয়ে মানুষকে অসুবিধের মধ্যে ফেলেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভয় পায়। বিজেপি যা বলছে তা করছে। ১৫ বছর কোনও অশান্তি ছাড়াই ভোট হয়েছে এ রাজ্যে। সেটাকে নষ্ট করতে চাইছে। ভুল পদক্ষেপ করছে। মানুষ এর প্রতিবাদ করবে। অত্যাচার করা হচ্ছে নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে। বাংলার মানুষকে নিয়ে এর প্রতিবাদ করব আমরা।”
ভিডিয়ো বার্তা পাঠান কবি জয় গোস্বামীও। তিনি বলেন, “লক্ষ্মীর ভান্ডার-সহ বিভিন্ন প্রকল্পে অভিজ্ঞ অফিসারের প্রয়োজন হয়। ভোটের আগে তাঁদের তুলে নেওয়ায় অসুবিধার মধ্যে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। বেছে বেছে অভিজ্ঞ অফিসারদের তুলে নিয়ে গিয়েছেন। কেন্দ্রের এটা শান্ত মাথার সিদ্ধান্ত।মমতাকে অসুবিধের মধ্যে ফেলতে চাইছেন। মানুষ সবটা বুঝতে পারছেন।আমার মমতার উপর বিশ্বাস আছে। এমন দক্ষ মুখ্যমন্ত্রী আগে কখনও দেখিনি।” শেষে বিজেপিকে নিশানা করে দেশ বাঁচাও গণমঞ্চের বক্তব্য, “মানুষ এই অঘোষিত রাষ্ট্রপতি শাসনকে মানবেন না। বিজেপির ভরাডুবি হবেই হবে।”
