
কলকাতা: টানা ১২ ঘণ্টা ধরে চলল অভিযান। বিধাননগরে অফিস পাড়ায় রাজ্যের শাসকশিবিরের নির্বাচনী পরামর্শদাতা সংস্থা I-PAC-এর অফিসে যখন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ঢুকেছিল, সেই সময় অফিসে কয়েকজন মাত্র কর্মী উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু দিনশেষে ইডি আধিকারিকরা যখন বেরল, সেই সময় I-PAC-র ওই অফিসের নীচে যেন পা রাখার জায়গা নেই। কোথাও দাঁড়িয়ে পুলিশ, কোথাও আবার কেন্দ্রীয় বাহিনী। দিনভর রাজনৈতিক চাপানউতোরের কেন্দ্র ছিল এই অফিস।
এদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার একটু পরে I-PAC-এর অফিস ছাড়েন ইডি আধিকারিকরা। হাতে বেশ কয়েকটি নথি নিয়ে ১১ তলা থেকে নীচের পার্কিংয়ে নামেন তারা। নথিগুলি রেখে দেন গাড়িতে। সেই সময় বাইরে বেড়ে যায় জমায়েত। ওঠে স্লোগান। প্রশ্ন ওঠে, ‘কী নিয়ে যাচ্ছে ইডি?’
ইডি যখন পার্কিং থেকে তাঁদের গাড়িটিকে নিয়ে রাস্তায় ওঠে, সেই সময় বাইরে স্লোগান দিতে শুরু করে তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা। কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের ঘিরে উঠল ‘জয় বাংলা’ স্লোগান। বলে রাখা প্রয়োজন, শুধু ইডি নয়, তদন্তকারীরা বেরিয়ে যেতেই এলাকা ছেড়েছেন তৃণমূল নেতা ও রাজ্য়ের মন্ত্রীরাও। এদিন বেলা থেকেই সেক্টর ফাইভের ওই বহুতলের নীচে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক সুজিত বসু। উপস্থিত ছিলেন বিধাননগরের মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তীও। ইডি বেরতেই রওনা দেন তাঁরাও।
সকাল থেকে I-PAC-এর অফিস ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সহ-প্রতিষ্ঠাতা প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চালান ইডি আধিকারিকরা। একটি আর্থিক কেলেঙ্কারির মামলাতেই ইডি-র্যাডারে প্রতীক। সেই সূত্র ধরেই বৃহস্পতিবার চলে অভিযান। অবশ্য, তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ‘তৃণমূলের নথি চুরি’ করতে এসেছিল। এদিন তিনি বলেন, ‘ভোটের কৌশল ছিনতাই করেছে। ওরা সব তথ্য ট্রান্সফার করছে। এটাকে আমি অপরাধ বলে মনে করি।’ এই প্রসঙ্গে I-PAC-কে তৃণমূলের ‘অথোরাইজড টিম’ বলে অভিহিত করে মমতার সংযোজন, ‘বিজেপির মতো এত বড় ডাকাতি দেখিনি। ‘