
কলকাতা: নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ থেকে কবি, অভিনেতা, রাজনীতিবিদ, বাদ যাননি কেউই। একের পর এক হেভিওয়েটের কাছে এসেছে এসআইআর-এর নোটিস। তাই বলে নেতাজি? কমিশন, বিজেপির তুলোধনা করে এবার এআই ভিডিয়ো নিয়ে মাঠে নেমে পড়ল ঘাসফুল শিবির। আর শুনানি কেন্দ্রে ঢুকে পড়লেন নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বোস। ডাক পড়ল লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির আওতায়। তাঁর নামের সুভাষ চন্দ্র বোস হওয়া সত্ত্বেও সামনে নেতাজি কেন লেখেন সে প্রশ্ন করলেন কমিশনের অফিসাররা। এমনকি বার্লিন যোগ শুনে ‘ঘুসপেটিয়া’ বলে সন্দেহ করেও বসলেন। আর তা শুনে ভিড়মি খাওয়ার জোগাড় নেতাজির। শেষে তো তার কাছে বার্থ সার্টিফিকেট চেয়ে না পেয়ে শেষ পর্যন্ত নামটাই কেটে বাদ দিয়ে দিলেন ওই অফিসার।
এই ভিডিয়োই ‘Banglar Gorbo Mamata’ এক্স হ্যান্ডেল থেকে পোস্ট করা হয়েছে। তা নিয়েই এখন জোর চর্চা রাজনৈতিক মহলে। প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই হিয়ারিংয়ের নোটিস পেয়েছেন নেতাজির প্রপৌত্র চন্দ্রকুমার বসু। সেই খবর প্রকাশ্যে আসতেও তা নিয়ে বিস্তর চাপানউতোর শুরু হয়েছিল। যদিও এরইমধ্যে তাঁকে ডেকে পাঠানোর কারণ দর্শায় রাজ্যের সিইও দফতর। কমিশনের সাফ কথা, চন্দ্র বসুর যে এনুমারেশন ফর্মে ‘লিঙ্কেজ’ সংক্রান্ত অংশটি ফাঁকা রয়েছে। তাই নিয়ম মেনেই অন্য ভোটারদের মতোই চন্দ্র বসুকে হিয়ারিংয়ে ডেকে পাঠানো হয়েছে।
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকেও SIR নোটিস!#BanglaBirodhiBJP #WestBengal #SIR pic.twitter.com/lfawux81F8
— Banglar Gorbo Mamata (@BanglarGorboMB) January 25, 2026
এর আগে নেতাজি প্রসঙ্গ উঠেছে খোদ তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের মুখে। শুক্রবার রেড রোডে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মবার্ষিকীতে তাঁর মূর্তিতে মাল্যদান করতে যান মমতা। সেখানেই এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, “নেতাজির জন্মদিনকে এখনও জাতীয় ছুটি হিসাবে ঘোষণা করা হয়নি। আজকে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু বেঁচে থাকলেও কি তাঁকে শুনানিতে ডাকা হত? ইতিমধ্যেই নেতাজির পরিবারের সদস্য চন্দ্রকুমার বসু শুনানিতে ডাক পেয়েছেন।” অন্যদিকে এদিনই আবার সপরিবারে এসআইআর-এর শুনানিতে ডাক পেয়েছেন তৃণমূলের আইটি সেলের প্রধান দেবাংশু ভট্টাচার্য। তাঁর যুক্তি বেছে বেছে তৃণমূল সমর্থকদের বাদ দেওয়ার চক্রান্ত চলছে। পাল্টা কটাক্ষ করেছে বিজেপি। বঙ্গ বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন, “তৃণমূল ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু লোককে দিয়ে বানান ভুল করিয়েছে। আর তা করেছে তৃণমূল ঘনিষ্ঠ বিএলও-রা। এর ফলে অনেক মানুষের লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সিতে নাম আসছে। আর সেটা নিয়েই তৃণমূল হাইচই করছে।”