
কলকাতা: একজন তখন ছাত্রী। অন্যজন ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (MIT)-তে ডেভেলপমেন্ট ইকোনমিক্স পড়াচ্ছেন। সেখানেই প্রথম দেখা। শিক্ষক অবশ্য মুখচোরা। নিজেকে কিছুটা দূরে সরিয়ে রাখেন। তারপর ধীরে ধীরে সহকর্মী। অবশেষে জীবনসঙ্গী। যুগ্মভাবে নোবেল জয়। ৩০ বছর পরও নোবেলজয়ী অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রথম দেখার মুহূর্ত আজও মনে গেঁথে রয়েছে তাঁর সহিধর্মিণী তথা নোবেলজয়ী এস্থার দুফলোর। অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রথমবার দেখার পর কী মনে হয়েছিল তাঁর?
নোবেন পুরস্কারের ইতিহাসে অভিজিৎ ও এস্থার পঞ্চম দম্পতি, যাঁরা যুগ্মভাবে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। ২০১৯ সালে অর্থনীতিতে নোবেল পান তাঁরা। তাঁদের সেই নোবেল জয়ের ছবি বাঙালির মনে চিরস্থায়ীভাবে জায়গা করে নিয়েছে। আর এস্থারের মনে পড়ছে ১৯৯৫ সালে অভিজিৎকে প্রথম দেখার ছবি। MIT-তে Ph.D করতে এসেছিলেন এস্থার। তখন সেখানে ডেভেলপমেন্ট ইকোনমিক্স পড়ান অভিজিৎ।
নোবেল প্রাইজ কমিটির তরফে এক্স হ্যান্ডলে অভিজিৎকে প্রথমবার দেখা নিয়ে এস্থার কী বলেছেন, তা শেয়ার করা হয়েছে। সেখানে এস্থার বলেন, “প্রথম বর্ষের ছাত্রী হিসেবে আমি প্রথম অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখি। আমার তাঁকে ভীষণরকম অনুপ্রেরণাদায়ক মনে হয়। তিনি স্নেহশীল তবে নিজেকে কিছুটা দূরে রাখেন। তাঁর সঙ্গে পথ চলতে গিয়ে আমার জীবনই বদলে গিয়েছে। অনেকগুলো বছর কাটিয়ে আমি শুধু তাঁর সহকর্মী হইনি, তাঁর জীবনসঙ্গী হয়েছি। এখনও তাঁকে আমাদের অনুপ্রেরণাদায়ক মনে হয়। একইরকম স্নেহশীল। তবে একাকীত্ব চলে গিয়েছে। আমাদের দুই সন্তান রয়েছে। নোয়েমি এবং মিলন। আমার জীবনে আমি কতটা ভাগ্যবান, এখনও বিশ্বাস করতে পারি না। অভিজিতের সঙ্গে পথচলা আমার জীবনের সবচেয়ে চমৎকার অংশ।”
এস্থার ও অভিজিতের প্রথম সন্তানের জন্ম হয় ২০১২ সালে। আর দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম হয় ২০১৪ সালে। প্রথমদিন যাঁর ক্লাসে ডেভেলপমেন্ট ইকোনমিক্স শিখেছেন, আজ তাঁর সহধর্মিণী হয়ে অর্থনীতি নিয়ে নিরন্তর গবেষণা করে চলেছেন এস্থার। তবে অভিজিৎকে প্রথম দেখার মুহূর্ত আজও মনের মণিকোঠায় রয়ে গিয়েছে তাঁর। ওই যে বলে, ‘প্রথম দেখার দিনটারে, ভুলতে কী আর কেউ পারে।’