Former Judge on Uniform Civil Code: ‘..সমাজে নানা বৈষম্য তৈরি হচ্ছে’, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়ে মুখ খুললেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অশোক গঙ্গোপাধ্যায়
Uniform Civil Code: সংবিধানের ৪৪ নম্বর অনুচ্ছেদে অভিন্ন দেওয়ানি বিধির স্বপক্ষে বলা হয়েছে। কী বলা হয়েছে সেখানে? ভারতের নাগরিকদের জন্য একটি অভিন্ন দেওয়ানি বিধি তৈরির চেষ্টা করবে রাষ্ট্র। তবে, এটি রাষ্ট্র পরিচালনার নির্দেশমূলক নীতি (Directive Principles of State Policy)-এর অংশ, তাই এটি আদালতে বলবৎ করার মতো বাধ্যতামূলক নয়।

কলকাতা: গুজরাট-উত্তরাখণ্ডের পর এবার পশ্চিমবঙ্গ, আগামী ২৯ জুন রাজ্যের বিধানসভায় (West Bengal Assembly) আনা হবে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল। এই নিয়েই এবার মতামত প্রকাশ করলেন প্রাক্তন বিচারপতি অশোক গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁর মতে অভিন্ন ফৌজদারি বিধির মতো অভিন্ন দেওয়ানি বিধিও চালু হওয়া দরকার।
প্রাক্তন বিচারপতি অশোক গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “সংবিধান প্রণয়ন হয়েছিল তখন বলা হয়েছিল, সারা দেশে এক সুপ্রিম কোর্ট অনেক বার বিভিন্ন কেসে বলেছে এটা যেন হয়। বিতর্ক তো হবেই। কিন্তু অভিন্ন ফৌজদারি চালু আছে। অভিন্ন দেওয়ানি বিধিও চালু করা দরকার। পার্সনাল ল যেটা আছে…হিন্দু আইন বলেছে, একটার বেশি বিবাহ করা যায় না। কিন্তু একজন মুসলিম একাধিক বিবাহ করতে পারে। সমাজে নানা বৈষম্য সৃষ্টি হচ্ছে।”
সংবিধানের ৪৪ নম্বর অনুচ্ছেদে অভিন্ন দেওয়ানি বিধির স্বপক্ষে বলা হয়েছে। কী বলা হয়েছে সেখানে? ভারতীয় নাগরিকদের জন্য অভিন্ন দেওয়ানি বিধি তৈরির চেষ্টা করবে রাষ্ট্র। তবে, এটি রাষ্ট্র পরিচালনার নির্দেশমূলক নীতির অংশ, তাই এটি আদালতে বলবৎ করার মতো বাধ্যতামূলক নয়। সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্যান্য নির্দেশমূলক নীতিগুলির তুলনায় অনুচ্ছেদ ৪৪-এর নির্দেশ অনেকটাই দুর্বল।”
মূলত, বিবাহ-বিবাহবিচ্ছেদ-সম্পত্তিতে উত্তরাধিকার, সন্তান দত্তক ইত্যাদির মতো ব্যক্তিগত বিষয়ের ক্ষেত্রে যে কোনও ধর্মীয় সম্প্রদায়ের জন্য একটাই আইন প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ অভিন্ন দেওয়ানি বিধি হল এমন আইন, যেখানে ধর্ম নির্বিশেষে দেশের সব নাগরিকের জন্য বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার, দত্তক গ্রহণ, ভরণপোষণ এবং সম্পত্তি বণ্টন-সহ ব্যক্তিগত বিষয়গুলিতে একই আইন প্রযোজ্য হবে।
