Calcutta High Court on Sujit Basu: এবারের পুজোয় জেলেই সুজিত, জামিন খারিজ কলকাতা হাইকোর্টের
Sujit Basu: মহালয়ার আগে থেকে ঠাকুর দেখার জন্য উপচে পড়ত ভিড়। কিন্তু এবার সব অতীত। পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডির হাতে গ্রেফতার হয়েছেন তিনি। জামিন চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তবে, বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ এই আবেদন খারিজ করেন। ফলত, এবারের দুর্গা পুজোয় জেলেই কাটাতে হবে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রীকে।

কলকাতা: একটা সময় ছিল রাজ্যের প্রাক্তন দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু (Sujit Basu)-র ‘শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবের’ দুর্গাপুজো ছিল কলকাতার অন্যতম সেরা পুজো। মহালয়ার আগে থেকে ঠাকুর দেখার জন্য উপচে পড়ত ভিড়। কিন্তু এবার সব অতীত। পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডির হাতে গ্রেফতার হয়েছেন তিনি। জামিন চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তবে, বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ এই আবেদন খারিজ করেন। ফলত, এবারের দুর্গা পুজোয় জেলেই কাটাতে হবে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রীকে।
এর এই মামলা ছিল বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে গোটা শুনানির শেষে বিচারপতি অভিযোগ করেন, সুজিত বসুর আইনজীবীরা গিয়ে বিচারপতির কক্ষ থেকে একটি ফাইল নেওয়ার চেষ্টা করেন। এরপরই বিচারপতি এই মামলা ছেড়ে দেন। বিচারপতি মামলা ছাড়ার পর অস্বস্তি বাড়ে সুজিতের। এরপরই এই মামলা যায় বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের এজলাসে। তবে প্রাক্তন মন্ত্রীর জামিনের আবেদন খারিজ করে দেন বিচারপতি ঘোষ। আজ শুনানি চলার সময় বিচারপতি আলাদা করে জানাননি কেন জামিন খারিজ করা হয়েছে।
হাইকোর্টে ইডির আইনজীবী ধীরজ ত্রিবেদী দাবি করেছেন, পুরনিয়োগে ২৮৪ জন অযোগ্য প্রার্থীর চাকরি হয়েছে। চাকরির জন্য প্রত্যেকের কাছ থেকে ৬ লক্ষ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। সুজিত বসুর অ্যাকাউন্টে ৮.৮ কোটি টাকা মিলেছে বলেও দাবি করে ইডি। হাইকোর্টে তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছিল, সুজিতের পরিবারের সদস্যদের অ্যাকাউন্টেও মিলেছে কয়েক কোটি টাকা।
বস্তুত, পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সুজিতের আগে গ্রেফতার করা হয়েছিল মিডলম্যান অয়ন শীলকে। এর আগে হাইকোর্টে ইডি জানিয়েছিল, অয়ন শীলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা গিয়েছে, দক্ষিণ দমদম পৌরসভায় বিভিন্ন সময় ১৫২ জনের চাকরির সুপারিশ করেছিলেন সুজিত বসু।
সুজিতের আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি ও সব্যসাচী বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে সওয়াল করে জানান, “পুরনিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত শেষ হয়ে গিয়েছে। তারপরেও তাঁর মক্কেলকে জেলে আটকে রাখার বিষয়টি অনৈতিক। ইডি-র আইনজীবী এই গ্রেফতারি যুক্তিসঙ্গত বলে দাবি করতে পারে না।” তাঁর আরও সওয়াল, “২০১৬ সালের পুরনিয়োগ দুর্নীতিতে সুজিতকে ‘মাস্টারমাইন্ড’ বলে দেখিয়েছে ইডি। অথচ সিবিআই এই মামলায় ২০২৪-২৫ সালে যে চার্জশিট দিয়েছিল, তাতে সুজিতের নামই ছিল না।” তারপরে সুজিতের আইনজীবীর সওয়াল, “আমার মক্কেলের বাড়ি কলকাতায়। তদন্তের প্রয়োজনে যখন খুশি তাঁকে ডাকা যায়। তিনি তদন্তে সহযোগিতা করতে চান।”
বস্তুত, গত ১১ মে সুজিতকে গ্রেফতার করেছিল কেন্দ্রীয় সংস্থা। কমবেশি ১৫০ জন চাকরিপ্রার্থীর নাম ছিল। দুর্নীতির মাধ্যমে উপার্জিত টাকা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে গিয়েছে বলে মনে করছে ইডি।
