High Court: ‘সিঁদুর পরালেও…ভ্যালেন্টাইনস ডে মানেই যৌন সম্পর্কের লাইসেন্স নয়’, ক্ষুব্ধ হাইকোর্ট
Relationship: কিশোরীর স্কুলের রেকর্ড অনুযায়ী, তার জন্মদিন ২০০৮-এর ১৪ জানুয়ারি, সেই হিসেবে তার বয়স ১৮ পেরোয়নি এখনও। কিশোরীর আরও শারীরিক পরীক্ষাও করা হচ্ছে আদালতের নির্দেশে। এছাড়া, কিশোরী যেভাবে থানায় অভিযোগ জানিয়েছে ও আদালতে নিজে উপস্থিত হয়েছে, তাতে অভিযোগ সত্যি বলেই মনে করছে হাইকোর্ট।

নয়া দিল্লি: ‘বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকলেই ভ্যালেন্টাইনস ডে-তে শারীরির সম্পর্কে বাধ্য করা যায় না।’ কিশোরীর করা মামলায় এমনটাই বললেন দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি গিরিশ কাথপালিয়া। মাথায় চুলের ফাঁকে সিঁদুর পরিয়ে দিলেও শারীরিক সম্পর্কে জোর করা যায় না বলেই বার্তা দিল হাইকোর্ট। অভিযুক্তের জামিন বাতিল করে দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগকারী কিশোরীর বয়স ১৭। পকসো আইনে মামলা হয়েছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। বছর খানেক ধরে তারা একে অপরকে চেনে বলে আদালতে জানিয়েছে কিশোরী। তাঁর অভিযোগ, গত বছর (২০২৫) ১৪ ফেব্রুয়ারি তাকে ডেকে পাঠায় ওই অভিযুক্ত যুবক। এরপর তার মাথার চুল সরিয়ে সিঁদুর পরিয়ে দেয়। তারপর বাধা দেওয়া সত্ত্বেও তাকে শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করে বলে অভিযোগ কিশোরীর।
কিশোরীর মুখ থেকে পুরো ঘটনা জেনে পুলিশকে খবর দেন কিশোরীর দাদা। কিশোরীর শারীরিক পরীক্ষাও করা হয়। অভিযুক্তের তরফে আইনজীবী দাবি করেন, কিশোরীর বয়স আদতে ১৮-র বেশি। দুজনের মধ্যে সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে আইনজীবীরা মনে করিয়ে দেন, ঘটনার দিনটা ছিল ভ্যালেন্টাইনস ডে।
ভ্যালেন্টাইনস ডে মানেই যে শারীরিক সম্পর্কের লাইসেন্স নয়, সে কথাই মনে করিয়ে দিয়েছে আদালত। বিচারপতি বলেন, “ভ্যালেন্টাইনস ডে-তে কিশোরী কোনও যুবকের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ব্যবহার করলেই তা যৌন সম্পর্কের লাইসেন্স হতে পারে না। এমনকী কোনও অনুমতি ছাড়া চুলের ফাঁকে সিঁদুর পরালেও এমন করা যায় না।”
এছাড়াও কিশোরীর স্কুলের রেকর্ড অনুযায়ী, তার জন্মদিন ২০০৮-এর ১৪ জানুয়ারি, সেই হিসেবে তার বয়স ১৮ পেরোয়নি এখনও। কিশোরীর আরও শারীরিক পরীক্ষাও করা হচ্ছে আদালতের নির্দেশে। এছাড়া, কিশোরী যেভাবে থানায় অভিযোগ জানিয়েছে ও আদালতে নিজে উপস্থিত হয়েছে, তাতে তার অনুমতি ছাড়াই শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করা হয়েছে বলে মনে করছে আদালত। বিচারপতি বলেন, “সবদিক বিচার করে অভিযুক্তকে জামিনের অযোগ্য বলেই মনে করা হচ্ছে।”
