
কলকাতা: পৈলানে তাঁর বিরাট রাজপ্রাসাদ দেখে ইতিমধ্যেই চোখ ছানাবড় হয়ে গিয়েছে বঙ্গবাসীর। শুধু পৈলান নয়, ফলতাতেও রয়েছে তাঁর আরও এক প্রসাদ। তিনি বিষ্ণুপুরের তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডল। তাঁকেই নিয়েই এখন জোর চর্চা বঙ্গ রাজনীতির আঙিনায়। নির্বাচনের হলফনামায় তৃণমূল বিধায়ক জানিয়েছেন বাড়ি ও জমি মিলিয়ে তাঁর সম্পত্তি ২ কোটি ১২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। আর কী কী সম্পত্তি রয়েছে তাঁর?
আদতে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বিষ্ণুপুর থানার অন্তর্গত দৌলতপুর গ্রামের বাসিন্দা এই দিলীপ। নির্বাচনী হলফনামা বলছে পেশায় ব্যবসায়ী এবং বর্তমান বিধায়ক দিলীপ মণ্ডলের আয়ের প্রধান উৎস হল তাঁর ব্যবসা। পাশাপাশি বিধায়ক হিসাবে পারিশ্রমিক পাওয়ার কথাও উল্লেখ রয়েছে। ২০২৪-২০২৫ অর্থবর্ষের আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী তাঁর বার্ষিক আয় ৭,৩১,৪৭০ টাকা। এর আগের চার অর্থবর্ষে তাঁর আয় ছিল যথাক্রমে ৬,২৬,৪১০ টাকা (২০২৩-২৪), ৪,১৭,৫০০ টাকা (২০২২-২৩), ৪,০৮,৩৬০ টাকা (২০২১-২২) এবং ৩,৭২,৭৪০ টাকা (২০২০-২১)। অন্যদিকে, তাঁর স্ত্রী রূপা মণ্ডলের আয়ের কোনও তথ্য নির্বাচনী হলফনামায় ছিল না।
হলফনামা অনুযায়ী, দিলীপ মণ্ডল ও তাঁর পরিবারের অস্থাবর সম্পত্তির খতিয়ানও বেশ বৈচিত্র্যময়। ২০২৬ সালের ৬ এপ্রিলের হিসাব অনুযায়ী দিলীপ মণ্ডলের হাতে নগদ ১৮,৫০০ টাকা, তাঁর স্ত্রীর হাতে ৬,০০০ টাকা। দিলীপ মণ্ডলের মোট অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ৭২,৭৭,৮১৩ টাকা। তাঁর নিজের দুটি গাড়িও রয়েছে। ২০২২ সালে কেনা একটি ফোর্ড গাড়ি যার মূল্য ৪ লক্ষ টাকা এবং ২০২৩ সালে কেনা অপর একটি গাড়ি যার মূল্য ১১ লক্ষ টাকা। এছাড়া তাঁর অলঙ্কারের মধ্যে রয়েছে ১৫,৮৯,০০০ টাকার ১২০ গ্রাম সোনার গয়না। তাঁর স্ত্রী রূপা মণ্ডলের মোট অস্থাবর সম্পত্তি ৩২,০১,৯৮৭ টাকা, যার মধ্যে রয়েছে ২৮,১৫,০০০ টাকা মূল্যের ২০০ গ্রাম সোনা। তিনটি এলআইসি পলিসি রয়েছে।
দিলীপ মণ্ডলের নিজস্ব স্থাবর সম্পত্তির বর্তমান বাজারমূল্য ১,৫২,৫০,০০০ টাকা। উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তির মূল্য ২০,০০,০০০ টাকা, অর্থাৎ মোট স্থাবর সম্পত্তির বাজারমূল্য ১,৭২,৫০,০০০ টাকা। স্ত্রীর অস্থাবর সম্পত্তির মোট মূল্য ৩২ লাখেরও বেশি। স্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ৪০ লক্ষ টাকা।
দায়-দেনার দিক থেকে দিলীপ মণ্ডলের মোট ঋণের পরিমাণ ৫৪,০৬,৫৪৭ টাকা। এর মধ্যে পিএনবি পৈলান শাখা থেকে তিনটি বিজনেস লোন নিয়েছেন। একটি ৯,৯২,০২৪ টাকা, বাকিগুলি ৮,৫০,৮৪৩ টাকা এবং ৩১,০২,৬৪৭ টাকার। কানাড়া ব্যাঙ্ক ধর্মতলা শাখা থেকে ৪,৬১,০৩৩ টাকার একটি কার লোন রয়েছে। তাঁর স্ত্রীর নামে কোনো ঋণ নেই।
১৯৮৫ সালে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভুবনেশ্বরী জে. কে. হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে ১৯৯০ সালে যাদবপুরের বিজয়গড়ের বাণী ভবন হাই স্কুল থেকে তিনি উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন। এরপর তিনি কলকাতার বেহালা পর্ণশ্রী কলেজে কলা বিভাগে ভর্তি হন। তবে সেকেন্ড ইয়ার পর্যন্ত পড়েছিলেন।