
কলকাতা: বুকে ক্ষোভের পাহাড়। তারপরও বলছেন, এমন কোনও কাজ করবেন না, যাতে দলের ক্ষতি হয়। তবে লোকসভা ভোটের টিকিট না পাওয়ায় ক্ষোভ যে রয়েছে, অভিমান যে হয়েছে, মনে যে উথালপাথাল চলছে তা বারবারই স্বীকার করছেন প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ শান্তনু সেন। বলছেন, “হয়তো রাতে শুয়ে কেঁদেছি। বিছানা ভিজিয়েছি। হয়তো বুকের ভিতরটা উথালপাথাল হয়েছে। আমি কখনও এমন কোনও কথা বলব না। এমন কোনও কাজ করব না যাতে এক মুহূর্তের জন্য দল বিব্রত হয় বা বিরোধীরা অক্সিজেন পায়।”
প্রসঙ্গত, সদ্য শেষ হয়েছে তাঁর রাজ্যসভার সাংসদ পদের মেয়াদ। কিন্তু, নতুন করে আর তাঁকে সংসদে পাঠায়নি দল। আশা ছিল লোকসভা ভোটে টিকিট পাবেন। কিন্তু, ব্রিগেডে তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পরেই তাতে পড়েছে জল। তাতেই যেন খানিকটা ভেঙে পড়তে দেখা গেল শান্তনুকে। তৃণমূলের জন্মলগ্ন থেকে রাজনীতি করার পর, সিপিএমের হাতে মার খাওয়ার পরেও শেষ পর্যন্ত লোকসভার টিকিট না পাওয়ায় অভিমানের সুর ঝড়ে পড়ল তাঁর গলায়। সাফ বললেন, “ছাত্র জীবন থেকে রাজনীতি করছি। ১৯৯৮ সালে প্রথম তৃণমূলের কংগ্রেসের শ্যামবাজারে মিটিং ছিল। সেদিন থেকে তৃণমূল কংগ্রেস করা আমার শুরু। আমার সিঁথি অঞ্চলে একসময় লাল দুর্গ ছিল। সেখানে তৃণমূল কংগ্রেস করতে গিয়ে আমাদের গোটা শরীর অত্যাচারের চিহ্ন বহন করে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আদর্শে আমরা দল করেছি। ২০০১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে আমি সেখানে আমাদের দলের প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট পর্যন্ত ছিলাম। সিপিএম আমাকে বেধড়ক মেরেছিল। আমার স্ত্রী তখন গর্ভবতী ছিলেন। কিন্তু, নীতি আদর্শ থেকে কখনও সরে আসিনি। আমি যা কাজ করেছি রাজ্যসভায়, তাতে আশা করেছিলাম টিকিটের। অনেকেই বলেছিলেন আমি অন্তত রাজ্যসভায় পুনরায় না পেলেও, লোকসভায় টিকিট পাব। কিন্তু পাইনি।”
প্রসঙ্গত, টিকিট না পেয়ে ইতিমধ্য়েই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, অর্জুন সিংয়ের মতো নেতা-নেত্রীরা। ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মমতার ভাই স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায় ওরফে বাবুনও। হাওড়ার প্রার্থী প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়ের টিকিট পাওয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন। এদিকে পাল্টা বাবুনকে আবার ত্যাজ্য করে দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। আর কোনও সম্পর্ক না রাখার কথাও বলছেন। যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চলছে চাপানউতর। যদিও শান্তনু বলছেন, “আমার নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, আমার নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। হ্যাঁ আমি পাইনি আমার খারাপ লেগেছে। কিন্তু, যেটুকু পেয়েছি সেটাও তো দলের জন্য পেয়েছি। তার জন্য তো অকৃতজ্ঞ হতে পারব না।”