
কলকাতা: “যাদবপুরে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয় তাহলে ইঞ্জিনিয়রিং ডিপার্টমেন্ট বামপন্থীদের হাতে থাকবে না”, সাংবাদিক বৈঠক করে এমনই হুঙ্কার দিলেন এবিভিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শুভব্রত অধিকারী। একইসঙ্গে বাম-তৃণমূল সেটিংয়ের তত্ত্ব তুলেও সুর চড়ালেন। তাঁর দাবি, পুরোটাই আইপ্যাকের পরিকল্পনা। তাই ভোটের আগে শাসক বিরোধী ভোট ভাগ করতে বামেদের উস্কে দেওয়া হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, যাদবপুরকাণ্ডের পর থেকে পথেই আছে বামেরা। সোমবার ছাত্র ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিল এসএফআই। শাসকের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলে পথে নেমেছিল যাদবপুরের ঐক্যবব্ধ মিছিলও। এরইমধ্যে আবার পথে নামে এবিভিপও। যাদবপুর ক্যাম্পাসের ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করতেই একেবারে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় এলাকায়। ৪ নম্বর গেটে ব্যাপক ধস্তাধস্তিও হয় যাদবপুরের নিরাপত্তা রক্ষীদের সঙ্গে। গেটে উঠে বামেদের পতাকাও খুলে ফেলতে দেখা যায়। বচসা হয় ক্যাম্পাসের বামপন্থী পড়ুয়াদের সঙ্গেও। এক্কেবারে হাতাহাতির পরিস্থিতিও তৈরি হয়। এবিভিপির নেতা শুভব্রতর দাবি, “আমাদের নেতাদের বিনা প্ররোচনায় আক্রমণ করা হয়েছে। একের পর এক কুৎসিত গালিগালাজ করা হয়েছে। ওদের মুখে কীভাবে সেলেটেপ, লিকিউপ্লাস্ট লাগাতে হয় সেটা এবিভিপি ভাল করে জানে।”
এখানেই না থেমে এদিনের সাংবাদিক বৈঠক থেকে যাদবপুরের সামগ্রিক পরিমণ্ডল নিয়েও সুর চড়াতে দেখা যায় শুভব্রতকে। তাঁর দাবি, “যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের একাংশের ছাত্রছাত্রী এবং প্রাক্তনীরা দেশবিরোধী কারখানার আঁতুরঘরে পরিণত করেছেন। লোকে বলছে নেশায় চূড়, গাঁজায় চূড় যাদবপুর যাদবপুর। নিষিদ্ধ ড্রাগের অবাধে চাষ চলছে যাদবপুরে।” এরপরই কার্যত হুঁশিয়ারির সুরে বলেন, “যাদবপুর ক্যাম্পাসটা ওদের হতে পারে, বাকি গোটা দেশটা আমাদের। আমরা মনে করলে অনেক কিছু করতে। যাঁরা যে ভাষা বোঝে। তাঁদের এবিভিপি সে ভাষাতে উত্তর দেবে।”
এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে শুভব্রতর সঙ্গেই ছিলেন এবিভিপির রাজ্য সম্পাদক অনিরুদ্ধ সরকার, মিডিয়া কনভেনর দেবাঞ্জন পালও। যাদবপুর কাণ্ডে খোঁচা দিয়েছেন রাজ্যের শাসকদলকেও। বামেদের সঙ্গে সেটিংয়ের তত্ত্ব তুলে শুভব্রত বলেন, “তৃণমূলের যাঁরা বলছে ১ মিনিটে যাদবপুরকে ঠান্ডা করতে পারে তাঁরা ১১ বছরে যাদবপুরের মাটিতে কিছু করতে পারল না কেন? অর্থাৎ যাদবপুর বামেদের থাক, বাকি রাজ্য আমাদের থাক। এরকম একটা অভ্যন্তরীণ সেটিং তাঁদের মধ্যে রয়েছে। সে কারণে যাদবপুরের বামপন্থীদের তোল্লা দেওয়া হয়েছে পরিকল্পিতভাবেই। এই পরিকল্পনা সম্পূর্ণভাবে আইপ্যাকের কর্তা প্রতীক জৈনের পরিকল্পনা। নির্বাচনী রাজনীতিতে বামকে উস্কে দেওয়া হচ্ছে। শাসক বিরোধী ভোট যাতে ভাগ হয়ে যায় সেই পরিকল্পনা বামপন্থীরা করছে।”