Jadavpur: যাদবপুরে দিনের আলোয় মাঠ দখলের চেষ্টা, বাইক নিয়ে বহিরাগতদের হানা, তারপর এলাকাবাসীই বুঝিয়ে দিলেন সব
Kolkata: স্থানীয়দের অভিযোগ, রবিবার সকাল থেকে হঠাৎ মাঠের সামনের দিকে পাঁচিল তৈরি করতে দেখা যায়। উল্টোদিকে থাকা যাদবপুর হাইস্কুল কর্তৃপক্ষের কাছেও খবর পৌঁছুতেই শিক্ষক শিক্ষকরা ছুটে আসেন। সকলে মিলিত ভাবে মাঠে পাঁচিল দেওয়ার প্রতিবাদ করতেই হুমকি এবং ভয় দেখানোর অভিযোগ। পাল্টা কোর্টের অর্ডার নিয়ে কাজ হচ্ছে বলেই জানানো হয় সকলকে।

যাদবপুর: প্রোমোটিংয়ের জন্য জমি দখলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা। বহিরাগতদের নিয়ে এসে সাধারণ মানুষজনকে ভয় দেখানোর অভিযোগ। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তুমুল বিক্ষোভ স্থানীয়দের।
যাদবপুর হাইস্কুলের ঠিক উল্টোদিকে থাকা ১০-১২ কাঠার মাঠ। স্কুলের স্পোর্টস থেকে শুরু করে সমস্ত রকমের আয়োজন হয় এই মাঠেই। এলাকার প্রাচীন দুর্গাপুজো, পড়ার ছেলেদের ফুটবল-ক্রিকেট খেলা, এছাড়াও স্থানীয় নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়ে থাকে যাদবপুর ইস্ট রোডের এই মাঠে। সেই মাঠ দখলের চেষ্টা দীর্ঘদিন ধরেই চলছিল বলেই অভিযোগ। শনিবার গভীর রাত থেকে মাঠে শুরু হয় ইট, বালি , সিমেন্ট ফেলা শুরু হয়। রবিবার সকাল থেকেই শুরু হয়ে যায় পাঁচিল তৈরির কাজ। পাঁচিল দিয়ে মাঠ ঘিরে ফেলার কাজ করার ক্ষেত্রে কোনও বাধা যাতে না আসে সেজন্য সকাল থেকেই বাইক নিয়ে এলাকায় দাপিয়ে বেড়াতে দেখা যায় একদল বহিরাগতদের। যা দেখে রীতিমত আতঙ্কিত স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রবিবার সকাল থেকে হঠাৎ মাঠের সামনের দিকে পাঁচিল তৈরি করতে দেখা যায়। উল্টোদিকে থাকা যাদবপুর হাইস্কুল কর্তৃপক্ষের কাছেও খবর পৌঁছুতেই শিক্ষক-শিক্ষকরা ছুটে আসেন। সকলে মিলিত ভাবে মাঠে পাঁচিল দেওয়ার প্রতিবাদ করতেই হুমকি এবং ভয় দেখানোর অভিযোগ। পাল্টা কোর্টের অর্ডার নিয়ে কাজ হচ্ছে বলেই জানানো হয় সকলকে। কিন্তু কোনও নথি দেখাতে পারেনি বলেই স্থানীয়দের দাবি। আর ওই জমির বাস্তবে মালিককে তাঁর কোনও নির্দিষ্ট তথ্য কারোও কাছে নেই বলেই দাবি। সে কারণই স্কুল এবং স্থানীয়রাই বছরের পর বছর ধরে নানা কাজে ওই মাঠ ব্যবহার করে।
এ দিনের, মাঠ দখলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে অশান্তির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় যাদবপুর থানার পুলিশ। মাঠে পাঁচিল দেওয়ার কাজে বাধা সৃষ্টি করায় পুলিশ রীতিমত বাসিন্দাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে বলেও অভিযোগ। পরবর্তীতে স্থানীয় বিধায়ক দেবব্রত মজুমদার খবর পেয়ে এলাকায় পৌঁছয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা এবং স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকার সম্মিলিত ভাবে মাঠ বাঁচাতে রাস্তায় নামেন। ইট, বলি, সিমেন্ট দিয়ে তৈরি করা পাঁচিল ভেঙে ফেলে দেয়। ক্ষোভের মুখে পড়ে এলাকা ছাড়ে বহিরাগতরা। আপাতত বন্ধ হয় পাঁচিল দিয়ে কাজ। আগামীতে আবারও জমি দখলের পরিস্থিতি যাতে না হয় সেজন্য একটি কমিটি তৈরি করে আইনি পথে এগোনোর পরামর্শ দিয়েছেন স্থানীয় বিধায়ক। পাশাপশি লিখিত ভাবে যাদবপুর থানায় অভিযোগ জানানো হবে বলেও দাবি।
তৃণমূল বিধায়ক দেবব্রত মজুমদার বলেন, “স্বাধীনতার আগে থেকে দুর্গাপুজো হয়। এখানে ছেলেমেয়েরা খেলা করে। বারেবারে জমি হাঙড়রা এই জমি দখলের চেষ্টা করেছে। একশো বছরে এমন হল না এখন হচ্ছে?”
