
কলকাতা: দিনভর একের পর এক নাটকীয় মোড়। শেষ পর্যন্ত মধ্যরাতে উদ্ধার ৭ বিচারক। কালিয়াচক কাণ্ডে তোলপাড় রাজ্য-রাজনীতি। তোলপাড় জাতীয় রাজনীতির আঘিনাও। জরুরি বৈঠকে নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের তোপের মুখে রাজ্য পুলিশের ডিজি। একইসঙ্গে মালদহের জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারের ভূমিকা নিয়েও তোলা হয়েছে প্রশ্ন। সূত্রের খবর, এদিনের বৈঠকের বিষয় শুধু কালিয়াচকেই থেমে থাকেনি উঠে এসেছে একের পর এক প্রশ্ন। শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়ন থেকে শুরু করে, সিইও অফিসে দু’দিন ধরে যে ঝামেলা চলছিল তা সামগ্রিকভাবে উঠে এসেছে এদিনের বৈঠকে।
সূত্রের খবর, এদিনের বৈঠকের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুলিশের বড় কর্তাদের তীব্র ভর্ৎসনা করেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। তাঁর সাফ কথা, সুযোগ একবার দেওয়া হচ্ছে। ভাবেন না যেন বারবার সুযোগ দেওয়া হবে। কেন কালিয়াচক কাণ্ডে এত দেরিতে অ্যাকশন নেওয়া হল সেই প্রশ্ন বারবার তিনি তুলছেন বলে জানা যাচ্ছে। বিচারকদের কাতর আর্জির পরেও সুপারভাইজাররা আগে কেন পৌঁছলেন না, কেন এত দেরি হল, প্রশ্ন জ্ঞানেশের।
একইসঙ্গে দিয়ে দিয়েছেন ‘ডেডলাইন’। বৃহস্পতিবার রাত ১২টার মধ্যেই চিহ্নিত করতে হবে দোষীদের, করতে হবে গ্রেফতার। সাফ নির্দেশ সিইসি-র। অন্যথায় তাঁদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সূত্রের খবর, সরাসরি পুলিশ কর্তাদের এই কড়া বার্তাই দিয়েছেন জ্ঞানেশ। পাশাপাশি শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়নের সময় কেন ঝামেলা সেই প্রশ্নও তোলেন। সিইও অফিসের সামনে বিএনএস ১৬৪ থাকার পরেও এত লোকের জটলা কেন চলল দু’দিন ধরে সেই প্রশ্নও উঠেছে বৈঠকে। কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে কলকাতার সিপিকে।
প্রসঙ্গত, কালিয়াচকের ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া এসেছে সুপ্রিম কোর্ট থেকে। জেলাশাসক, পুলিশ সুপারকে শোকজ করেছে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ। জুডিশিয়াল অফিসারদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতেও রাজ্য ও কমিশনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে শীর্ষ আদালতের তরফে।