
কলকাতা: বামেদের হাত ছেড়ে বহুদিন হয়ে গেল হাতের হাত ধরেছেন। তবে দিনে দিনে যেন বিজেপি বিরোধিতায় আরও শান দিয়েছেন। এবার একেবারে বাংলায় এসে তোপের পর তোপ গাদলেন পদ্ম ব্রিগেডের বিরুদ্ধে। কানহাইয়া কুমারের সাফ কথা, কংগ্রেসকে ছাড়া দেশে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করা কার্যত কঠিন। একইসঙ্গে নাম না করে খোঁচা দিলেন তাঁদেরই জোটসঙ্গীদেরও। আশাবাদী বাংলায় কংগ্রেসে ভোট বৃদ্ধি নিয়েও।
এদিন প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক বৈঠকে কানহাইয়া কংগ্রেসের হয়ে শক্ত হাতে ব্যাট ধরেন কানহাইয়া। বলেন, “আমরা এনজিও নই। নো ভোট টু বিজেপি ক্যাম্পেন চালিয়ে আমাদের রাজনৈতিক দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। মানুষ তো বলবে বিজেপিকে ভোট দেব না তো কাকে দেব? আমরা বাংলায় স্বচ্ছ রাজনীতি নিয়ে এসেছি। যে রাজনীতি বিকাশের কথা বলে। ২০ বছর পর কংগ্রেস এখানে একা লড়াই করছে। আমাদের আশা মানুষের আশীর্বাদ পেলে আমরা এখানে ঘৃণার রাজনীতি, লুঠপাটের রাজনীতিকে ঠেকাতে পারব।” এরপরই তাঁর স্পষ্ট প্রশ্ন, কংগ্রেসকে ছাড়া কী দেশে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করা সম্ভব? বাংলার পরিস্থিতি ভয়াবহ। এত নাম গোটা দেশে কোথাও বাদ পড়েনি। কলকাতা শহরে চৌরঙ্গি বিধানসভাতেই ৮০ হাজার নাম কেটে দিয়েছে।
এসআইআরের পাশাপাশি কলকাতার আর্থ-সামাজিক অবস্থার করুণ পরিণতি নিয়েও আক্ষেপ করতে দেখা যায় কংগ্রেস নেতাকে। ভিন রাজ্যে বাঙালি পরিযায়ী হেনস্থা নিয়েও সুর চড়ান। বলেন, “এখন কলকাতায় কেউ কাজ করতে আসে না। উল্টে কলকাতার লোক অন্য রাজ্যে গিয়ে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে। আর সেখানে বিজেপির সরকার বাংলা বলা লোকেদের অনুপ্রবেশকারী বলে হেনস্থা করছে, জেলে ভরে দিচ্ছে।” কানাহাইয়ার দাবি বিজেপি হাজার চেষ্টা করলেও বাংলায় পদ্ম ফোটাতে পারবে না। বিজেপির বিরুদ্ধে আক্রমণের ধার আরও বাড়িয়ে বলেন, “বিজেপি চায় যে করেই হোক বাংলা, তামিলনাড়ু আর পঞ্জাব জিততে। আসলে সবসময়ই দেখা গিয়েছে রাজার যখন সিংহাসনের প্রতি অংহকার এসে যায় তারা এমন চেষ্টা করে। কিন্তু আমার বাঙালিদের রাজনৈতিক বিবেকের প্রতি পূর্ণ আস্থা আছে। তারা বিজেপিকে এখানে আটকে দেবে এবং আমরা আশা করি কংগ্রেসকে সমর্থন করবে।”