Calcutta High Court: ‘ইচ্ছা করে যেন না করা হয়’, নতুন সরকারের আমলে কোন ক্ষেত্রে ‘অতিসক্রিয়তা’য় রাজ্য পুলিশকে সতর্ক করল হাইকোর্ট?
প্রথম এই বিতর্কের দানা বাঁধে হাওড়া জেলা পুলিশের একটি পদক্ষেপে। শিবপুর ও সাঁকরাইলের তোলাবাজি, মস্তানি, বোমাবাজি এবং পুলিশকে গুলি চালানোর অভিযোগে ধৃত কুখ্যাত দুষ্কৃতী ও স্থানীয় বিধায়ক ঘনিষ্ঠদের কোমরে দড়ি বেঁধে, হাফপ্যান্ট ও স্যান্ডো গেঞ্জি পরিয়ে প্রকাশ্য রাস্তায় হাঁটানো হয়েছিল। তা নিয়ে একাধিক প্রশ্নের অবকাশ ছিল।

কলকাতা: গ্রেফতারের পর কোমরে দড়ি নিয়ে রাস্তায় ঘোরানোর আপত্তি জানিয়ে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। অমর ফারুক গাজি নামে এক মামলাকারী বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত ও বিচারপতি স্মীতা দাস দে-র বেঞ্চে জনস্বার্থ দায়ের করেন। এই মামলায় রাজ্যের কাছে রিপোর্ট চেয়েছে আদালত। বিচারপতি জয় সেনগুপ্তের পর্যবেক্ষণ, অনেক রাগ থাকতে পারে, বিক্ষোভ থাকতে পারে। কিন্তু আসামীকে অপমান করা উচিৎ নয়। ইচ্ছা করে এটা যেন না করা হয়। কী ঘটনার প্রেক্ষাপট যাবতীয় জানিয়ে রাজ্য রিপোর্ট দেবে। ৪ সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ।
প্রথম এই বিতর্কের দানা বাঁধে হাওড়া জেলা পুলিশের একটি পদক্ষেপে। শিবপুর ও সাঁকরাইলের তোলাবাজি, মস্তানি, বোমাবাজি এবং পুলিশকে গুলি চালানোর অভিযোগে ধৃত কুখ্যাত দুষ্কৃতী ও স্থানীয় বিধায়ক ঘনিষ্ঠদের কোমরে দড়ি বেঁধে, হাফপ্যান্ট ও স্যান্ডো গেঞ্জি পরিয়ে প্রকাশ্য রাস্তায় হাঁটানো হয়েছিল। তা নিয়ে একাধিক প্রশ্নের অবকাশ ছিল।
এরপর প্রায় একই নিদর্শন ধরা পড়ে উত্তর ২৪ পরগনার বীজপুরে। সরকারি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত তৃণমূল যুব নেতা অভিজিৎ রায় ওরফে ‘বনি’-কে পুলিশ কোমরে দড়ি বেঁধে ‘চোর’ স্লোগান দিতে দিতে এলাকায় ঘুরিয়েছিল।
কিন্তু আইন বিশেষজ্ঞদেরই একাংশের মতে, সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশিকা রয়েছে যে, বিচারাধীন বা পুলিশের হেফাজতে থাকা কোনও ব্যক্তির সঙ্গে অমানবিক আচরণ করা যাবে না। কাউকে কোমরে বেঁধে নিয়ে যাওয়া কোনওভাবেই আইন সম্মত নয়। কিন্তু রাজ্যে পালাবদলের পর থেকে পুলিশের এই ‘অতিসক্রিয়তা’ নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। এবার তাতে হাইকোর্টে দায়ের হল জনস্বার্থ মামলা।
