
কলকাতা: নতুন সরকার গঠনের পর বিধায়কদের শপথ গ্রহণের পালা সম্পূর্ণ হয়েছে। প্রথমবার বিধায়ক হিসেবে শপথ নিয়েছেন কুণাল ঘোষ। তারপরই বিধানসভায় দেখা গেল বেনজির ছবি। মুখোমুখি হলেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) ও তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। যাঁদের একে অপরের বিরোধিতাই করতেই দেখা গিয়েছে বরাবর, তাঁদের মুখেই এদিন চওড়া হাসি। শুধুই শুকনো শুভেচ্ছা বিনিময় নয়, একেবারে একে অপরকে জড়িয়ে ধরলেন আর এক বিজেপি বিধায়ক দিলীপ ঘোষ ও কুণাল ঘোষ।
মাস কয়েক আগেও, যখন রাজ্যের রাজনৈতিক ছবিটা উল্টো ছিল, তখন প্রায় প্রতিদিন নিয়ম করে বিজেপির বিরোধিতায় সরব হয়েছেন কুণাল ঘোষ। তৃণমূলের মুখপাত্র হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে নানা ধরনের মন্তব্য করেছেন কুণাল। যদিও একসময় তাঁরা দুজনেই একই দলের সদস্য় ছিলেন, তবে গত কয়েক বছরে বিরোধিতার ছবিটাই বাংলার মানুষ চিনে গিয়েছেন। সেই দুই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব একে অপরের মুখোমুখি হলেন এদিন।
সূত্রের খবর, এদিন বিধানসভার লবিতে যখন হেঁটে যাচ্ছিলেন, তখন শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা হয়ে যায় কুণাল ঘোষের। কুণাল ঘোষ এদিন সবেমাত্র শপথ নিয়ে বেরিয়েছেন। অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী লবি দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। ভবানীপুরের বিধায়ক শুভেন্দুকে সামনে দেখে কুণাল প্রথমেই বলেন, ‘শুভেচ্ছা’। শুভেন্দু অধিকারীও সঙ্গে সঙ্গে দাঁড়িয়ে যান। কুণালকে বলেন, ‘কি শেষ পর্যন্ত জিতে গেলেন তো!’ দু’জনের মুখেই ছিল চওড়া হাসি।
সেখানে তখন উপস্থিত ছিলেন বিজেপির আর এক বিধায়ক তথা রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তিনি এগিয়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরেন কুণাল ঘোষকে। তৃণমূল সরকারে থাকাকালীন একাধিকবার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দিলীপ ঘোষের প্রশংসা করতে দেখা গিয়েছে কুণাল ঘোষকে। একসময় তিনি বলেছিলেন, ‘দিলীপ ঘোষই বঙ্গ বিজেপির সেরা সভাপতি।’ নীতিগত, আদর্শগত পার্থক্য থাকলেও দিলীপের লড়াইয়ের প্রশংসা একাধিকবার করেছেন কুণাল ঘোষ। এই নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চর্চাও হয়েছে তুমুল। তবে এদিন যা দেখা গেল, তা কার্যত বেনজির ছবি।