Kunal Ghosh Beleghata Nomination: স্ত্রীর আয় পাঁচ বছরে দ্বিগুণ, বছরে নিজে কত ইনকাম করেন কুণাল ঘোষ, জানেন
Kunal Ghosh assets disclosure: নিজের পেশা সম্পর্কে কুণাল জানিয়েছেন, তিনি সাংবাদিক, লেখক, অভিনেতা। এর পাশাপাশি জানিয়েছেন, লাইফ ফার্মাসিউটিক্যালস প্রাইভেট লিমিটেডের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর হিসেবে তাঁর নিয়োগ প্রক্রিয়া প্রায় সম্পূর্ণ। কুণালের স্ত্রীও সাংবাদিক ছিলেন। অবসর নিয়েছেন। বর্তমানে গৃহবধূ। নিজের আয়ের উৎস হিসেবে বেতন, বই বিক্রি, অভিনয় ও কনসালটেশন ফি-র কথা উল্লেখ করেছেন কুণাল।

কলকাতা: তিনি সাংবাদিক। লেখক। অভিনেতা। আবার রাজনীতিকও। বিভিন্ন ইস্যুতে রাজ্যের শাসকদলের হয়ে বিরোধীদের নিশানা করেন। কখনও বিরোধীদের আক্রমণের জবাব দেন। সেই কুণাল ঘোষ ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে বেলেঘাটা আসনে মনোনয়ন জমা দিলেন। হলফনামায় নিজের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিয়ে কী জানিয়েছেন তিনি? তাঁর কত সম্পত্তি রয়েছে? স্ত্রীর নামেই বা কত সম্পত্তি? দেখে নিন হলফনামায় কী জানিয়েছেন কুণাল…
তাঁর বাবা চিকিৎসক ছিলেন। আর কুণাল কম বয়সেই সাংবাদিকতা শুরু করেন। সারদা মামলায় তাঁর গ্রেফতারি নিয়ে বিরোধীরা বিভিন্ন সময় খোঁচা দেয়। যদিও কুণাল বারবার দাবি করেছেন, জ্ঞানত তিনি কোনও অন্যায় করেননি। তাঁর আয়ের উৎস নিয়ে কয়েকদিন আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় কুণাল লিখেছিলেন, “কিছু কুৎসাকারীর কৌতূহল, আমার রোজগার কীসে? এক, ঠাকুরদাদার কেনা বাংলো স্টাইলের বাড়ি ছিল পেল্লায়। বাবার মৃত্যুর পর রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতির খরচের চাপে ২০০০ সালে সেটি ভেঙে ফ্ল্যাট G+4. একটি মায়ের নামে রেখেছিলাম। বাকিটা রাখিনি, এখন অন্যদের। তা আমার একটু টাকা থাকবে না?” এখনও উচ্চপদে চাকরি করেন বলে সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্টে লেখেন।
সেই কুণালের গত পাঁচ অর্থবর্ষে আয় কত? হলফনামায় কুণাল জানিয়েছেন, ২০২০-২১ অর্থবর্ষে তাঁর আয় ছিল ১৫ লক্ষ ৫৪ হাজার ৪৮০ টাকা। ২০২১-২২ অর্থবর্ষে সেই আয় কিছুটা কমে হয় ১০ লক্ষ ৬৪ হাজার ৩৯০ টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে বেলেঘাটার তৃণমূল প্রার্থীর আয় অনেকটাই বাড়ে। ওই অর্থবর্ষে তাঁর আয় ছিল ১৮ লক্ষ ৫৫ হাজার ৪৭০ টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে কুণালের আয় ছিল ১৭ লক্ষ ৬৬ হাজার ১৬০ টাকা। আর ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে তাঁর আয় ছিল ২১ লক্ষ ৮৪ হাজার ৬৪০ টাকা।
হলফনামায় তাঁর স্ত্রী শর্মিতা ঘোষের গত পাঁচ অর্থবর্ষের আয়ও উল্লেখ করেছেন কুণাল। জানিয়েছেন, ২০২০-২১ অর্থবর্ষে তাঁর স্ত্রীর আয় ছিল ৮ লক্ষ ৮৪ হাজার ৪৭০ টাকা। ২০২১-২২ অর্থবর্ষে আয় ছিল ৭ লক্ষ ৪৭ হাজার ৭৭০ টাকা। আবার ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে কুণালের স্ত্রীর আয় ছিল ১০ লক্ষ ১৮ হাজার ৪৪০ টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে শর্মিতার আয় ছিল ১১ লক্ষ ৬২ হাজার ৩০০ টাকা। আর ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে কুণালের স্ত্রীর আয় বেড়ে হয় ১৭ লক্ষ ১০ হাজার ৩৪০ টাকা। অর্থাৎ পাঁচ বছরে শর্মিতা ঘোষের আয় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
নিজের ও স্ত্রীর অস্থাবর সম্পত্তির হিসেব দিতে গিয়ে কুণাল হলফনামায় জানিয়েছেন, তাঁর কাছে নগদ ২১ হাজার টাকা রয়েছে। আর তাঁর স্ত্রীর কাছে রয়েছে নগদ ১৫ হাজার টাকা। কুণাল ও তাঁর স্ত্রীর একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। তার মধ্যে কুণালের নামে একটি অ্যাকাউন্টেই রয়েছে ১৩ লক্ষ ২৩ হাজার ১১৬ টাকা। স্ত্রীর একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে রয়েছে ১১ লক্ষ ২৮ হাজার ৬১৭ টাকা। কুণালের দশটি স্থায়ী আমানত রয়েছে। স্ত্রীর নামেও স্থায়ী আমানত রয়েছে। তাঁদের দু’জনেরই জীবনবিমা পলিসি রয়েছে। হলফনামায় কুণাল জানিয়েছেন, তিনি ২৫ লক্ষ টাকা ঋণ দিয়েছেন।
নানা পেশার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও তাঁর নিজের নামে কোনও গাড়ি নেই বলে বেলেঘাটার তৃণমূল প্রার্থী জানিয়েছেন। তবে স্ত্রীর নামে একটি গাড়ি রয়েছে। ২০১৯ সালে ৪ লক্ষ টাকা দিয়ে গাড়িটি কেনা হয়। কুণাল জানিয়েছেন, তাঁর কাছে মাত্র ৫ গ্রাম সোনার গয়না রয়েছে। যার বর্তমান বাজারমূল্য ৭০ হাজার টাকা। তাঁর স্ত্রীর কাছে রয়েছে ৩৫ গ্রাম সোনার গয়না। যার বেশিরভাগটাই উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছেন শর্মিতা। তাঁর স্ত্রীর কাছে থাকা গয়নার বর্তমান বাজারমূল্য ৪ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা। হলফনামায় কুণাল জানিয়েছেন, সবমিলিয়ে তাঁর অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে ১ কোটি ৭২ লক্ষ ৮০ হাজার ৯১৩ টাকা। আর তাঁর স্ত্রীর অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে ১ কোটি ৭৪ লক্ষ ৮৪ হাজার ৯৪ টাকার।
হলফনামায় নিজের ও স্ত্রীর স্থাবর সম্পত্তির হিসেব দিতে গিয়ে কুণাল জানিয়েছেন, তাঁদের নামে কোনও কৃষিজমি নেই। যে বাড়িতে তিনি থাকেন, তা তাঁর নামে নয় বলে হলফনামায় জানিয়েছেন বেলেঘাটার তৃণমূল প্রার্থী। তাঁর স্ত্রীর নামে একটি অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে, যেটি এখনও অসম্পূর্ণ। তবে খুব শীঘ্রই সম্পূর্ণ হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন। স্ত্রীর নামে থাকা ওই অ্যাপার্টমেন্টের বর্তমান মূল্য ৬৫ লক্ষ টাকা। সবমিলিয়ে কুণালের কোনও স্থাবর সম্পত্তি নেই।
নিজের পেশা সম্পর্কে কুণাল জানিয়েছেন, তিনি সাংবাদিক, লেখক, অভিনেতা। এর পাশাপাশি জানিয়েছেন, লাইফ ফার্মাসিউটিক্যালস প্রাইভেট লিমিটেডের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর হিসেবে তাঁর নিয়োগ প্রক্রিয়া প্রায় সম্পূর্ণ। কুণালের স্ত্রীও সাংবাদিক ছিলেন। অবসর নিয়েছেন। বর্তমানে গৃহবধূ। নিজের আয়ের উৎস হিসেবে বেতন, বই বিক্রি, অভিনয় ও কনসালটেশন ফি-র কথা উল্লেখ করেছেন কুণাল।
সারদা মামলায় গ্রেফতার হয়ে একসময় প্রায় তিন বছর জেলে ছিলেন কুণাল। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা নিয়ে জানিয়েছেন, ৯টি মামলা বিচারাধীন। আর একটি মামলায় দোষীসাব্যস্ত হয়েছিলেন।
নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে হলফনামায় বছর আটান্নর কুণাল জানিয়েছেন, একাধিক বিষয়ে ডিপ্লোমা ও সার্টিফিকেট কোর্স করেছেন তিনি। তবে এখনও যে তিনি পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন, সেকথাও উল্লেখ করেছেন। কুণাল জানিয়েছেন, সিকিম মণিপাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যাচেলর অব আর্টস প্রোগ্রাম এখনও সম্পূর্ণ হয়নি তাঁর।
সবমিলিয়ে কুণালের হলফনামা বলছে, বেলেঘাটার তৃণমূল প্রার্থীর বাড়ি-গাড়ি কিছু নেই। অর্থাৎ স্থাবর সম্পত্তি শূন্য। আর অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে ১ কোটি ৭২ লক্ষ ৮০ হাজার ৯১৩ টাকার। কয়েকদিন আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় কুণাল লিখেছিলেন, “তা আমার একটু টাকা থাকবে না?” হলফনামা সেটাই কি বোঝালেন বেলেঘাটার তৃণমূল প্রার্থী?
