CAA Protest Murshidabad: মুর্শিদাবাদে দাউদাউ করে জ্বলেছিল ট্রেন, ক্ষমতায় এসে সেই ‘ফাইল’ খোলার নির্দেশ শুভেন্দুর, খুলছে বিশেষ সেল
Lalbazar Special Cell: রেলের একাধিক প্রকল্প নিয়ে কথা বলতে যেদিন রাজ্যে এসেছেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব, সেদিনই শুভেন্দু অধিকারীর এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। জানা গিয়েছে, ওই ঘটনায় অভিযুক্তদের ফাইল পুনরায় খোলার আবেদন রেলমন্ত্রীর কাছে জানান শুভেন্দু।

কলকাতা: সিএএ-বিরোধী আন্দোলনে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল কামরার পর কামরা। ক্ষতি হয়েছিল রেলের বিপুল সম্পত্তির। একটানা দীর্ঘ সময় বন্ধ ছিল রেল চলাচল। ব্যহত হয় পরিষেবা। সেই সময় যাদের বিরুদ্ধে রেলের সম্পত্তি ক্ষতি করার অভিযোগ উঠেছিল, তাদের চিহ্নিত করে নতুন করে ফাইল খোলার নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। লালবাজারে তিনি স্পেশাল সেল খুলে তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
রেলের একাধিক প্রকল্প নিয়ে কথা বলতে যেদিন রাজ্যে এসেছেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব, সেদিনই শুভেন্দু অধিকারীর এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। জানা গিয়েছে, ওই ঘটনায় অভিযুক্তদের ফাইল পুনরায় খোলার আবেদন রেলমন্ত্রীর কাছে জানান শুভেন্দু। তারপরই এই নির্দেশ।
ঠিক কী ঘটেছিল মুর্শিদাবাদে?
২০১৯ সালের ঘটনা। সদ্য লোকসভায় পাশ হয়েছে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন। এ রাজ্যে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও সেই আইনের বিরুদ্ধে পথে নেমে আন্দোলন করেছিলেন। সেই সময় মুর্শিদাবাদে সেই প্রতিবাদ চরম আকার নেয়। স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা ফাঁকা ট্রেনে ভাঙচুর চালানো ও আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। দাউদাউ করে জ্বলতে থাকে ট্রেনের কামরার পর কামরা। এই ঘটনার জেরে সেই সময় একের পর এক দূরপাল্লার ট্রেন বাতিল করতে হয়। অনেক ট্রেন ঘুরপথে চালাতে হয়। বিপুল সম্পত্তির ক্ষতি হয় রেলের।
কী নির্দেশ শুভেন্দুর
নবান্ন সভাঘরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রেলমন্ত্রীকে বলেন, ভবানীপুরে আরপিএফের অফিস তৈরি করে দিতে। সেখানে বসে কম্পিউটারে যাবতীয় নথি এ ব্যাপারে খতিয়ে দেখবেন রেল পুলিশের কর্তারা। দোষীদের পুরনো ফাইল সেখানেই খোলা হবে। রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিব এবং রাজ্যের ডিজিপি আরপিএফকে যাতে যাবতীয় সাহায্য করেন, সেই অনুরোধও করেন শুভেন্দু। রেলমন্ত্রী এ ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রীকে যাবতীয় সাহায্যের আশ্বাস দেন।
রেলের আইন অনুযায়ী, রেলের সম্পত্তিতে ভাঙচুর বা কোনরকম ঝামেলা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এক্ষেত্রে জরিমানা হতে পারে। সূত্রের খবর, এদিন মুখ্যমন্ত্রী রেলমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছেন, ফাইল খুলে দোষীদের চিহ্নিতকরণের ব্যাপারে যা যা উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করার তা যেন অবশ্যই করা হয়।
বিদেশি সন্ত্রাসবাদী সংগঠন বা নিষিদ্ধ সংগঠনের যোগ থাকতে পারে বলে মনে করা হয়েছিল আগেই। এবার মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ, অভিযুক্তদের কাছ থেকে রেলের ক্ষতিপূরণ নেওয়া হবে। যদি কেউ ক্ষতিপূরণ দিতে অস্বীকার করে, তাহলে, সম্পত্তি বিক্রি করে হলেও দিতে হবে টাকা।
