
কলকাতা: রাজধানীর আদালতে বাংলার ডিজি নিয়োগ নিয়ে মামলা। রাজীব কুমারের পর রাজ্য পুলিশের নয়া ডিজি কে? নতুন মুখের সন্ধান যেন শতহস্ত দূরে। আইনি জটিলতা ক্রমেই বাড়ছে। বৃহস্পতিবার আলিপুর বডিগার্ড লাইন্সে আয়োজন হয়েছিল রাজ্যের ভারপ্রাপ্ত ডিজি রাজীব কুমারের বিদায় সংবর্ধনা। আগামী ৩১ জানুয়ারি অবসরগ্রহণ করছেন তিনি। কিন্তু তার আগে বাংলা কি নয়া পুলিশের ডিজি পাবে? সেটাই এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
সম্প্রতি, ক্য়াটের নির্দেশের বিরোধিতা করে দিল্লি হাইকোর্টে দ্বারস্থ হয়েছিল ইউপিএসসি। বৃহস্পতিবার সেই মামলায় শুনানির সম্ভবনা ছিল। কিন্তু তাও আপাতত পিছিয়ে গিয়েছে ৩রা ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। ফলত ক্যাটের যে নির্দেশ তাতে না পড়েছে কোনও স্থগিতাদেশ, না বদলেছে ক্যাটের বেঁধে দেওয়া ডেডলাইন। এর মধ্যেই জানুয়ারির মাঝ বরাবর সেন্ট্রাল অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইবুনাল-এর (ক্যাটের) দ্বারস্থ হন আইপিএস রাজেশ কুমার। আদালত অবমাননার মামলা করেন তিনি। তাঁর দাবি, ডিজি হওয়ার সমস্ত রকম যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তাঁকে ‘বঞ্চিত’ করা হয়েছে। সেই মামলার ভিত্তিতে ক্যাট নির্দেশ দেয়, ২৩ জানুয়ারি ডিজি পদের প্রস্তাবিত নামের তালিকা পুনরায় ইউপিএসসি-র কাছে পাঠাতে হবে রাজ্যকে। সেই নির্দেশের পরেই আট জন সিনিয়র আইপিএস অফিসারের নাম পাঠিয়েছিল রাজ্য।
পাশাপাশি, ইউপিএসসি-কে ২৮ জানুয়ারির মধ্য়ে ‘এমপ্যানেলমেন্ট কমিটি’-র একটি বৈঠক করতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছিল ক্যাট। তারপর প্য়ানেল প্রস্তুত করে ২৯ জানুয়ারির মধ্যে তা রাজ্য সরকারের কাছে পাঠাতে হবে। কিন্তু ইউপিএসসি এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে দিল্লি হাইকোর্টে দ্বারস্থ হয়। যা নিয়ে আজও হল না ফয়সলা। অন্যদিকে এদিন আবার আইপিএস রাজেশ কুমারের আইনজীবী আদালত অবমাননার যে মামলা করেছিলেন তাতে ক্যাটের দেওয়া নির্দেশ কার্যকর করা এবং আগামিকালের মধ্যেই প্যানেল চূড়ান্ত করার আবেদন জানিয়েছেন।
এখন এই সব মিলিয়ে রাজ্য পুলিশ ও প্রশাসনিক মহলে তৈরি হয়েছে জল্পনার পাহাড়। আগামী ৩১ জানুয়ারি রাজীব কুমারের অবসর গ্রহণের দিন। বৃহস্পতিতে হয়ে গেল বিদায় সংবর্ধনা। ফলে আগামী দু’দিনের মধ্যে এই আইনি জটিলতা না কাটলে আবারও কি ভারপ্রাপ্ত ডিজি নিয়োগের পথেই হাঁটতে হবে রাজ্যকে? তৈরি হয়েছে প্রশ্ন। সেক্ষেত্রে রাজ্য়ের হাতে কয়েকটি নাম রয়েছে, কিন্তু গোটা বিষয়টি এখনও বিচারাধীন। সুতরাং, রাজ্যকে কি ভারপ্রাপ্ত ডিজি নিয়োগের পদক্ষেপ করতে পারবে? প্রশ্ন উঠছে সেই নিয়েও।
উল্লেখ্য, রাজ্যের ডিজি নিয়োগ নিয়ে এই বিতর্কের সূত্রপাত ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে। সেই সময় অবসর নেন রাজ্য়ের শেষ স্থায়ী ডিজি মনোজ মালব্য। সেই সময় স্থায়ী ডিজি নিয়োগের জন্য প্রস্তাবিত নামের তালিকা পাঠিয়েছিল রাজ্য। কিন্তু আইনি জটিলতায় সেই নিয়োগ হয়নি। ইউপিএসসি-র বক্তব্য ছিল, পূর্ববর্তী স্থায়ী ডিজি অবসর নেওয়ার অন্তত তিন মাস আগে প্রস্তাবিত তালিকা পাঠাতে হত। রাজ্য প্রস্তাবিত নামের তালিকা পাঠিয়েছিল ওই বছরের ২৭ ডিসেম্বর। তারপর ৩১ ডিসেম্বর ভারপ্রাপ্ত ডিজি হিসাবে দায়িত্ব পেয়েছিলেন আইপিএস রাজীব কুমার। তখনকার মতো পরিস্থিতি এখানেই ঠান্ডা। বিতর্ক আবার চড়ে রাজীব কুমারের অবসর পর্বে।