Madan mitra: ‘আমি ভয়ে যোগাযোগ করলাম’, কীসের ভয়, কার ভয়, সব বলে দিলেন মদন
Kamarhati mla madan mitra: মদনের এই দল বদল নিয়ে কটাক্ষ করেছেন সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তিনি বলেন, "মমতাদিকে মদন মিত্র এক্ষুনি মেসেজ করেছেন। সেই মেসেজ আমি ভিতরে দেখেছি। লেখা আছে বাড়ির সবাইকে সমন করেছে। সেই মেসেজ দেখেছি। এখন তো বলতেই হবে এটা বিজেপির স্ক্রিপ্ট।"

সৌরভ গুহ ও প্রদীপ্তকান্তি ঘোষ ও সুজয় পালের রিপোর্ট
কলকাতা: বুধবার সকালে বিধানসভায় গিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগ দিয়েছেন মদন মিত্র (Madan Mitra)। তারপরই নিজের হোয়াটস অ্যাপ স্ট্যাটাসে লিখেছেন ‘সরি’। এ যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্যই তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে বিদ্রোহী ঋত শিবিরে যোগ দিয়েই তিনিও গুচ্ছ-গুচ্ছ অভিযোগ জানালেন সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে (Abhishek Banerjee)। তিনি জানালেন, “আমি ভয়ে যোগাযোগ করলাম।” কার ভয়? সেইটাও স্পষ্ট করেছেন কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক।
মঙ্গলবার সকালে পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় মদন মিত্রের পরিবারকে সমন পাঠায় ইডি। এরপর ওইদিন রাতেই তিনি পৌঁছে যান ঋত শিবিরের অপর বিদ্রোহী বিধায়ক সন্দীপন সাহার বাড়া স্বর্ণকমল সাহার বাড়িতে। এরপর দেখা গেল বুধবার বিধানসভায় গিয়ে হাসিমুখে ঋত-শিবিরে অংশ নিলেন তিনি। তারপর জানালেন, মমতার তৃণমূলের সব পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। তিনি বলেন, “শুধু আমার বাবার দেওয়া মদন মিত্র নাম, পড়াশোনা আর MLA পদ বাদে সব ছেড়ে দিয়েছি।” এর পরবর্তীতে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। অভিষেককে লাগাতার আক্রমণ শানালেন। এমনকী, এও স্পষ্ট বোঝালেন ইডির ভয়ে নয়, অভিষেকের ভয়ে নাকি যোগদান করেছেন তিনি। এখানে উল্লেখ্য, মদনের পরিবার ইডির সমন পেতেই প্রশ্ন উঠছিল যে কেন্দ্রীয় এজেন্সির থেকে বাঁচতেই শিবির বদল কি না। এবার মদন সেইটাই পরিষ্কার করে বললেন।
কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক বলেন, “আমি ভয়ে যোগাযোগ করলাম। আমার তো ইডির থেকে বেশি হয় ছিল AB-কে। ইডি ধরলে তবু কথা বলে জিজ্ঞাসা করবে। ওইখানে AB কখন কোথায় তাড়িয়ে দেবে, কী করে দেবে কে জানে। আর ২৭ মাস জেলে ছিলাম। সেই সময়ও পার্টির বিরুদ্ধে বলিনি। অভিষেক তো যাননি।” তাঁর সংযোজন, “আমি তদন্তে সব সহযোগিতা করব। যা বলবে তাই করব। প্রমাণ তো করুন মদন মিত্র টাকা নিয়ে চাকরি দিয়েছে। মদন মিত্র গয়না নিয়ে চাকরি দিয়েছেন।”
মদনের এই দল বদল নিয়ে কটাক্ষ করেছেন সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তিনি বলেন, “মমতাদিকে মদন মিত্র এক্ষুনি মেসেজ করেছেন। সেই মেসেজ আমি ভিতরে দেখেছি। লেখা আছে বাড়ির সবাইকে সমন করেছে। সেই মেসেজ দেখেছি। এখন তো বলতেই হবে এটা বিজেপির স্ক্রিপ্ট।” তিনি এও বলেন, “অভিষেকের খারাপ কিছু থাকতেই পারে। এখন মনে পড়েছে? এতদিন মন্ত্রী ছিলেন, ক্ষমতা এনজয় করেছেন তখন মনে ছিল না। যেই ইডি সমন করল অমনি ঋতব্রতদের ঘরে বসে আছেন।” এ দিকে আবার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এটা কালেকটিভের যে লড়াই সেটাকে শক্তিশালী করছেন। ইনডিভিজুয়াল কাল্টের বিরুদ্ধে কালেকটিভের লড়াই শক্তিশালী করার জন্য তাঁরা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আমরা তাকে স্বাগত জানাচ্ছি।”
